ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
শিক্ষকের সামনে বই খুলে পরীক্ষা, সাংবাদিকদের মারধর করে আটকে রাখা,এ কোন বর্বরতা? যশোরের শার্শায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী নাসির-সুমন চক্রের মিথ্যা অপহরণ মামলার বাদি সাক্ষী,লাপাত্তা। ডুমুরিয়ায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে তীর্থ ফৌজদার অভিযুক্ত। মাগুরা জার্নালিস্ট ফোরাম ঢাকা’র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি শাহিনুর, সম্পাদক রবি। সারাক্ষণ বার্তায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লিপি। তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ঘুসকান্ডে চুড়ান্তভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। প্রতিবাদও কি ‘ম্যানেজড’? গণপূর্তের কায়কোবাদকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন : এক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব অন্য মাধ্যমে—‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’র অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ?   ৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা।

হ‌রিজন সম্প্রদা‌য়ের আলোকবর্তিকা ন‌ন্দিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য শিক্ষার্থী।

হ‌রিজন সম্প্রদা‌য়ের অদম‌্য মে‌য়ে ন‌ন্দিনী এখন অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষ‌য়ের ছাত্রী।মেধার স্বাক্ষর রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেন হরিজন সম্প্রদায়ের নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন ওরফে কিরন বাঁসফোর।

 

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর গণ্ডি পেরিয়ে নিজের মেধার জোরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব – এই কথাটিই যেন পুনরায় প্রমাণ করলেন নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সারা দেশের হরিজন সম্প্রদায়।

নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জনের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার পাওয়ার হাউজ এলাকায়। তার বাবার নাম রুবেল নাথ বাঁসফোর এবং মায়ের নাম শিল্পী রাণী বাঁসফোর। সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে আসা নন্দিনী শৈশব থেকেই অদম্য মেধার পরিচয় দিয়ে এসেছেন।

কেবল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় বরং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও নিজের মেধাতালিকাভুক্ত করে ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছিলেন তিনি। তবে সবদিক বিবেচনা করে নন্দিনী অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেন এবং সেখানে ভর্তি সম্পন্ন করেন।

নন্দিনীর এই সাফল্যে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। কমিউনিটির মুরব্বি ও সুধীজনরা বলছেন, নন্দিনীর এই অর্জন কেবল তার নিজের নয়, এটি পুরো হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প। তার এই যাত্রা আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে এবং সাহস যোগাতে সাহায্য করবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন জানান, অনেক প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ পার করে আজকের এই অবস্থানে আসতে হয়েছে। তার এই সাফল্যের পেছনে মা-বাবার অকুন্ঠ সমর্থন এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন তিনি। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তিনি দেশ ও সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।

নন্দিনীর এই সাফল্যে হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণেরা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন প্রমাণ করলেন, সুযোগ পেলে মেধার জোরে অসম্ভবকেও জয় করা যায়। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছে পুরো সম্প্রদায়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকের সামনে বই খুলে পরীক্ষা, সাংবাদিকদের মারধর করে আটকে রাখা,এ কোন বর্বরতা?

হ‌রিজন সম্প্রদা‌য়ের আলোকবর্তিকা ন‌ন্দিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য শিক্ষার্থী।

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

হ‌রিজন সম্প্রদা‌য়ের অদম‌্য মে‌য়ে ন‌ন্দিনী এখন অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষ‌য়ের ছাত্রী।মেধার স্বাক্ষর রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেন হরিজন সম্প্রদায়ের নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন ওরফে কিরন বাঁসফোর।

 

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর গণ্ডি পেরিয়ে নিজের মেধার জোরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব – এই কথাটিই যেন পুনরায় প্রমাণ করলেন নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সারা দেশের হরিজন সম্প্রদায়।

নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জনের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার পাওয়ার হাউজ এলাকায়। তার বাবার নাম রুবেল নাথ বাঁসফোর এবং মায়ের নাম শিল্পী রাণী বাঁসফোর। সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে আসা নন্দিনী শৈশব থেকেই অদম্য মেধার পরিচয় দিয়ে এসেছেন।

কেবল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় বরং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও নিজের মেধাতালিকাভুক্ত করে ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছিলেন তিনি। তবে সবদিক বিবেচনা করে নন্দিনী অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেন এবং সেখানে ভর্তি সম্পন্ন করেন।

নন্দিনীর এই সাফল্যে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। কমিউনিটির মুরব্বি ও সুধীজনরা বলছেন, নন্দিনীর এই অর্জন কেবল তার নিজের নয়, এটি পুরো হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প। তার এই যাত্রা আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে এবং সাহস যোগাতে সাহায্য করবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন জানান, অনেক প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ পার করে আজকের এই অবস্থানে আসতে হয়েছে। তার এই সাফল্যের পেছনে মা-বাবার অকুন্ঠ সমর্থন এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন তিনি। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তিনি দেশ ও সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।

নন্দিনীর এই সাফল্যে হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণেরা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন প্রমাণ করলেন, সুযোগ পেলে মেধার জোরে অসম্ভবকেও জয় করা যায়। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছে পুরো সম্প্রদায়।