ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
নির্বাচন কমিশনের সতর্কবার্তা। সাবধান থাকার পরামর্শ। স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপার নেপথ্যে  ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য ! নিরপরাধ আ. লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা হারুনের। মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ঘোর বিরোধী দাপুটে তিন বুদ্ধিজীবী। ইয়াবাসহ সুমন নামে এক মাদক কারবারি ডিবির হাতে গ্রেফতার। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। খুলনা গণপূর্তে দুর্নীতির অদৃশ্য সাম্রাজ্য : উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুরের সাত বছরের অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট ! তিনিই স্বঘোষিত সম্রাট! শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রণোদনা বিতরণ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সবার শীর্ষে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ।

টিকটকে প্রেম, ৬ বছরের শিশুকে রেখে পালালো মা।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৩ জন সংবাদটি পড়েছেন
10

সোশ্যাল মিডিয়া টিকটকে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে ৬ বছর বয়সী শিশু ছেলেকে রেখে চলে গেছেন মা। দিয়েছেন স্বামী তালাকও। খোঁজ নেন না অবুঝ শিশুটিরও। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মায়ের আদর-যত্ন-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হলো শিশু মোহাম্মদ বায়েজিদ (৬)।

 

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের চাঁনপট্টি গ্রামে। এমন অমানবিক ঘটনায় হতবাক ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। এদিকে এসব সামাজিক ব্যাধি রোধে সমাজ বিজ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষক।

 

পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানায়, দীর্ঘ আট বছর পূর্বে রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের চাঁনপট্টি গ্রামের চুন্নু মাতুব্বরের বড় ছেলে মো. ফরিদ মাতুব্বরের (২৯) সাথে একই ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদি গ্রামের কামরুল ফকিরের মেজো মেয়ে রতনা বেগমের (২৩) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এর দুই বছর পর তাদের ঘর আলো করে আসে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ বায়েজিদ। পরে জীবিকার তাগিদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কুমিল্লায় চলে যান ফরিদ। সেখানে সারাদিন বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিছানার চাদর বিক্রি করতেন ফরিদ। এরই সুযোগে টিকটক ব্যবহারের মাধ্যমে শুভঙ্কর নামে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার এক হিন্দু ছেলের সাথে পরকীয়ার প্রেমে জড়ান রতনা। টানা দুই বছর মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলতে বলতে গভীর প্রেমে আসক্ত হন তিনি। ছেলের বয়স তখন প্রায় ৬ বছর। মায়ের পরকীয়ার প্রেমের কথা বাবার কাছে বলে দেয় শিশু বায়েজিদ। এজন্য ফাঁকা বাসায় শিশু ছেলের ওপর নির্যাতন চালায় রতনা। ফরিদ কোন উপায়ান্ত না পেয়ে কুমিল্লা থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে এসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। ফরিদ ভোলায় চাদরের ব্যবসা করতে যাওয়ার সুযোগে পরকীয়া প্রেমিকের টানে বাড়ি ছেড়ে চলে যান রতনা। পরবর্তীতে সাতদিন পর শশুর বাড়িতে আছে জানতে পেরে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য গেলে একতরফা স্বামী তালাক দিয়ে ফরিদকে বিদায় করে দেন। গত চার মাস ধরে মায়ের আদর-যত্ন-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ছোট্ট বায়েজিদ।

 

শিশু মোহাম্মদ বায়েজিদ মলিন মুখে জানায়, আমার মা পঁচা। এক বেডার সাথে দিন-রাত কথা বলে। আমাকে কোন আদর করে না। ফোন আসলেই ঘরের বাহিরে চলে যেত। বাবা বাড়ি আসার পর এসব কথা বাবার কাছে বলছিলাম। এজন্য মা আমাকে অনেক মারছে, মুখ চেপে ধরছে।

 

ভুক্তভোগী মো. ফরিদ মাতুব্বর বলেন, তাকে টিকটক চালাতে দেখলেও কখনো কিছু বলি নাই। কিন্তু সে যে চাপাইনবাবগঞ্জের শুভঙ্কর নামে এক হিন্দু ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়াইছে তা বুঝতে পারি নাই। জানতে পেরে ওই ছেলের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রেমিকের টানে আমার স্ত্রী চলে গেছে। এরপর খোঁজ পেয়ে ওর বাবার বাড়ি থেকে ফিরাই আনার জন্য অনেক চেষ্টা করছি। কিন্তু আসে নাই, আমাকে একতরফা তালাক দিছে। ছেলেটারও কোন খোঁজ খবর নেয় না, দেখা করে না।

 

এ বিষয়ে মাদারীপুরের লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাস বলেন, বর্তমান সমাজে টিকটক ও পরকীয়া একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে উঠতি বয়সী যুব সমাজসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অশ্লীল কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছেন। যেগুলো মেনে নেওয়ার মতো না। বিভিন্ন সময়ে মিডিয়ায় কিছু পরকীয়ার ঘটনা উঠে আসলেও অধিকাংশই অজানা থেকে যায়। এই যেমন পরকীয়া প্রেমের জন্য ছোট্ট একটি শিশু রেখে চলে গেছেন। সেতো নতুন সংসার পাবেন কিন্তু ওই শিশুটির ভবিষ্যৎ কি হবে?

রাজৈর থানার ওসি মাসুদ খান বলেন, এই ঘটনায় কোনো ধরনের অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন কমিশনের সতর্কবার্তা। সাবধান থাকার পরামর্শ।

টিকটকে প্রেম, ৬ বছরের শিশুকে রেখে পালালো মা।

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
10

সোশ্যাল মিডিয়া টিকটকে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে ৬ বছর বয়সী শিশু ছেলেকে রেখে চলে গেছেন মা। দিয়েছেন স্বামী তালাকও। খোঁজ নেন না অবুঝ শিশুটিরও। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মায়ের আদর-যত্ন-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হলো শিশু মোহাম্মদ বায়েজিদ (৬)।

 

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের চাঁনপট্টি গ্রামে। এমন অমানবিক ঘটনায় হতবাক ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। এদিকে এসব সামাজিক ব্যাধি রোধে সমাজ বিজ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষক।

 

পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানায়, দীর্ঘ আট বছর পূর্বে রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের চাঁনপট্টি গ্রামের চুন্নু মাতুব্বরের বড় ছেলে মো. ফরিদ মাতুব্বরের (২৯) সাথে একই ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদি গ্রামের কামরুল ফকিরের মেজো মেয়ে রতনা বেগমের (২৩) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এর দুই বছর পর তাদের ঘর আলো করে আসে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ বায়েজিদ। পরে জীবিকার তাগিদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কুমিল্লায় চলে যান ফরিদ। সেখানে সারাদিন বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিছানার চাদর বিক্রি করতেন ফরিদ। এরই সুযোগে টিকটক ব্যবহারের মাধ্যমে শুভঙ্কর নামে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার এক হিন্দু ছেলের সাথে পরকীয়ার প্রেমে জড়ান রতনা। টানা দুই বছর মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলতে বলতে গভীর প্রেমে আসক্ত হন তিনি। ছেলের বয়স তখন প্রায় ৬ বছর। মায়ের পরকীয়ার প্রেমের কথা বাবার কাছে বলে দেয় শিশু বায়েজিদ। এজন্য ফাঁকা বাসায় শিশু ছেলের ওপর নির্যাতন চালায় রতনা। ফরিদ কোন উপায়ান্ত না পেয়ে কুমিল্লা থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে এসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। ফরিদ ভোলায় চাদরের ব্যবসা করতে যাওয়ার সুযোগে পরকীয়া প্রেমিকের টানে বাড়ি ছেড়ে চলে যান রতনা। পরবর্তীতে সাতদিন পর শশুর বাড়িতে আছে জানতে পেরে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য গেলে একতরফা স্বামী তালাক দিয়ে ফরিদকে বিদায় করে দেন। গত চার মাস ধরে মায়ের আদর-যত্ন-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ছোট্ট বায়েজিদ।

 

শিশু মোহাম্মদ বায়েজিদ মলিন মুখে জানায়, আমার মা পঁচা। এক বেডার সাথে দিন-রাত কথা বলে। আমাকে কোন আদর করে না। ফোন আসলেই ঘরের বাহিরে চলে যেত। বাবা বাড়ি আসার পর এসব কথা বাবার কাছে বলছিলাম। এজন্য মা আমাকে অনেক মারছে, মুখ চেপে ধরছে।

 

ভুক্তভোগী মো. ফরিদ মাতুব্বর বলেন, তাকে টিকটক চালাতে দেখলেও কখনো কিছু বলি নাই। কিন্তু সে যে চাপাইনবাবগঞ্জের শুভঙ্কর নামে এক হিন্দু ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়াইছে তা বুঝতে পারি নাই। জানতে পেরে ওই ছেলের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রেমিকের টানে আমার স্ত্রী চলে গেছে। এরপর খোঁজ পেয়ে ওর বাবার বাড়ি থেকে ফিরাই আনার জন্য অনেক চেষ্টা করছি। কিন্তু আসে নাই, আমাকে একতরফা তালাক দিছে। ছেলেটারও কোন খোঁজ খবর নেয় না, দেখা করে না।

 

এ বিষয়ে মাদারীপুরের লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাস বলেন, বর্তমান সমাজে টিকটক ও পরকীয়া একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে উঠতি বয়সী যুব সমাজসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অশ্লীল কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছেন। যেগুলো মেনে নেওয়ার মতো না। বিভিন্ন সময়ে মিডিয়ায় কিছু পরকীয়ার ঘটনা উঠে আসলেও অধিকাংশই অজানা থেকে যায়। এই যেমন পরকীয়া প্রেমের জন্য ছোট্ট একটি শিশু রেখে চলে গেছেন। সেতো নতুন সংসার পাবেন কিন্তু ওই শিশুটির ভবিষ্যৎ কি হবে?

রাজৈর থানার ওসি মাসুদ খান বলেন, এই ঘটনায় কোনো ধরনের অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।