জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, রাজৈর, মাদারীপুর।
এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে দূরদর্শী নেতৃত্ব, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীবান্ধব দিকনির্দেশনা । শিক্ষার পাশাপাশি অত্র প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কো- কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাঠক্রম বাস্তবায়নে নিবেদিত রয়েছে এক ঝাঁক মেধাবী ও বহু গূণে গুণান্বিত শিক্ষকমন্ডলী। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ। যাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ আজ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি বিশেষ ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, বক্তৃতা ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতার বিস্তৃত পরিসরে শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের নিয়মিত অনুশীলন, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক তত্ত্বাবধান এবং সঠিক সাংগঠনিক নেতৃত্বের স্বাভাবিক ফল।
ক ও খ—উভয় গ্রুপে বাংলা রচনা, বাংলা কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত ও নির্ধারিত বক্তৃতা, রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত, লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, উচ্চাঙ্গ সংগীত, লোকনৃত্য, উচ্চাঙ্গ নৃত্য এবং দেয়াল পত্রিকাসহ মোট ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি লাভ করেছে। শিক্ষার পাশাপাশি অংশগ্রহণমূলক নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার চর্চা শিক্ষার্থীবৃন্দ উদ্বুদ্ধ হয়েছে।ফলে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিভার উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটাতে পেরেছে।
উল্লেখযোগ্য, এই শিক্ষার্থীরা এবার উপজেলার হয়ে জেলায় অংশগ্রহণ করবে, জেলা পর্যায়ে ভালো ফলাফল করার পর বিভাগীয় পর্যায়ে, অবশেষে জাতীয় পর্যায়ে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে সাফল্যের স্বপ্নের সিঁড়ি অতিক্রম করতে।
শিক্ষা যখন নেতৃত্বের প্রজ্ঞা, শিক্ষকের মমতা এবং শিক্ষার্থীর স্বপ্নে ভর করে এগিয়ে যায়—তখনই জন্ম নেয় এমন গৌরবময় সাফল্য।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এই অর্জন শুধু প্রতিষ্ঠানটির নয়, বরং পুরো উপজেলার জন্যই গর্বের বিষয়। এই ধারাবাহিক সাফল্য আগামীতে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়েও আরও গৌরবময় সাফল্য বয়ে আনবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।জয় হোক প্রগতিশীল, মননশীল সাংস্কৃতিক চর্চার।কেটে যাক সকল অন্ধকার। নতুন ভোরের আলোয় উদ্ভাসিত হোক নারী শিক্ষায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। নারী শিক্ষায় আলোকবর্তিকা হয়ে প্রতিটি ঘরকে আলোকিত করুক এই প্রত্যাশা এখন সময়ের দাবি।
সারাক্ষণ ডেস্ক 















