ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : ১জনের ফাঁসি ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা, ৪জন খালাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে। ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কচুয়ায় গাছ কাটতে গিয়ে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু, বিচার দাবি পরিবারের। নেত্রকোণায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ৭তম ‎মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা,দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ। শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হোক। হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি।

মিটফোর্ডে ওষুধ সিন্ডিকেটের অভিযোগ : গোপনে উৎপাদন ও সারা দেশে সরবরাহ—জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ?

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭০৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওষুধ পাইকারি বাজার মিটফোর্ডকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধ ওষুধ মজুদ, গোপন উৎপাদন ও দেশব্যাপী সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেডিসিন মার্কেটকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ : অভিযোগে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— রহিম ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) দেবস্মিতা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) বেপারী ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) ত্রিরত্ন ড্রাগ হাউস (আমির মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) বিসমিল্লাহ ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) রনি ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) শাহিদা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা)

রিপন ড্রাগ হাউস (ভুঁইয়া মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) অভিযোগে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সমন্বিত চক্র অবৈধভাবে ওষুধ বাজারজাত করছে।

‘গডফাদার’ অভিযোগ ও নতুন অফিস : অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মোহাম্মদ দিদার নাম উঠে এসেছে। জানা গেছে, তিনি এক-দুই বছর আগেও ইসলামপুর রোডের খান মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত “ইছামতি ড্রাগ হাউস”-এ চাকরি করতেন। বর্তমানে তিনি একই মার্কেটের তৃতীয় তলায় “নাসিমা ফার্মা” নামে একটি অফিস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে সাদিক সৈকতসহ আরও কয়েকজন অংশীদার রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা কিছু কোম্পানি থেকে বৈধভাবে পণ্য ক্রয় করে সেসবের জনপ্রিয় (চালু) পণ্য আলাদা করে গোপনে পুনরুৎপাদন করিয়ে বাজারে ছাড়ছেন।

গোপন উৎপাদন ও গুদামজাতের অভিযোগ : অভিযোগে আরও বলা হয়, গাজীপুরের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার মাধ্যমে গোপনে উৎপাদিত পণ্য মিটফোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তরা সেক্টর-৬-এর একটি বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে বিশাল গুদামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে দাবি।

রাজনৈতিক ও সমিতি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রশাসন ও কিছু সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এমনকি অতীতে কয়েকটি দোকানে অভিযান হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন :

অভিযোগকারীদের দাবি, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল মূলধনের মালিক হওয়া, প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার এবং বড় ফ্ল্যাট ক্রয়—এসবের আর্থিক উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও তোলা হয়েছে, যদিও এর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি : স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনবিহীন বা নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত হলে তা রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কার্যকারিতা কমে যাওয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

ওষুধ খাতে অনিয়ম কেবল আর্থিক অপরাধ নয়—এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত

উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ন্যায্য ব্যবসা পরিবেশ বজায় রাখা এবং বাজারে ভেজাল বা অবৈধ ওষুধ প্রতিরোধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ।

মিটফোর্ডে ওষুধ সিন্ডিকেটের অভিযোগ : গোপনে উৎপাদন ও সারা দেশে সরবরাহ—জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ?

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওষুধ পাইকারি বাজার মিটফোর্ডকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধ ওষুধ মজুদ, গোপন উৎপাদন ও দেশব্যাপী সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেডিসিন মার্কেটকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ : অভিযোগে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— রহিম ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) দেবস্মিতা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) বেপারী ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) ত্রিরত্ন ড্রাগ হাউস (আমির মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) বিসমিল্লাহ ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) রনি ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) শাহিদা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা)

রিপন ড্রাগ হাউস (ভুঁইয়া মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) অভিযোগে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সমন্বিত চক্র অবৈধভাবে ওষুধ বাজারজাত করছে।

‘গডফাদার’ অভিযোগ ও নতুন অফিস : অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মোহাম্মদ দিদার নাম উঠে এসেছে। জানা গেছে, তিনি এক-দুই বছর আগেও ইসলামপুর রোডের খান মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত “ইছামতি ড্রাগ হাউস”-এ চাকরি করতেন। বর্তমানে তিনি একই মার্কেটের তৃতীয় তলায় “নাসিমা ফার্মা” নামে একটি অফিস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে সাদিক সৈকতসহ আরও কয়েকজন অংশীদার রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা কিছু কোম্পানি থেকে বৈধভাবে পণ্য ক্রয় করে সেসবের জনপ্রিয় (চালু) পণ্য আলাদা করে গোপনে পুনরুৎপাদন করিয়ে বাজারে ছাড়ছেন।

গোপন উৎপাদন ও গুদামজাতের অভিযোগ : অভিযোগে আরও বলা হয়, গাজীপুরের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার মাধ্যমে গোপনে উৎপাদিত পণ্য মিটফোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তরা সেক্টর-৬-এর একটি বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে বিশাল গুদামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে দাবি।

রাজনৈতিক ও সমিতি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রশাসন ও কিছু সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এমনকি অতীতে কয়েকটি দোকানে অভিযান হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন :

অভিযোগকারীদের দাবি, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল মূলধনের মালিক হওয়া, প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার এবং বড় ফ্ল্যাট ক্রয়—এসবের আর্থিক উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও তোলা হয়েছে, যদিও এর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি : স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনবিহীন বা নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত হলে তা রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কার্যকারিতা কমে যাওয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

ওষুধ খাতে অনিয়ম কেবল আর্থিক অপরাধ নয়—এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত

উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ন্যায্য ব্যবসা পরিবেশ বজায় রাখা এবং বাজারে ভেজাল বা অবৈধ ওষুধ প্রতিরোধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।