ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়। গাজীপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ঠাকুরগাঁওয়ে কলাবাগান থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার। সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক কৃষিজমি কর্তন, থানায় অভিযোগ। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর। ভুয়া “প্রাচীন পিলার-কয়েন” বাণিজ্যে শত কোটি টাকার প্রতারণা : কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ–সোহেল সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর জাল-জালিয়াতি!  গীতার আলোয় আলোকিত মাদারীপুর গড়তে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদারীপুর -২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব জাহান্দার আলী মিয়া। টেকেরহাটে নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ইউসিবি ব্যাংকের জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন, সভাপতি রফিক-সম্পাদক রেজা। বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলার থেকে ১৫ কোটি টাকার ৫ লাখ ইয়াবা জব্দ, গ্রেফতার- ৯।

বেনাপোল পোর্ট সিন্ডিকেটের ‘গডফাদার’ কামালের বেপরোয়া দুর্নীতির খোঁজে এবার মাঠে দুদক।

বেনাপোল স্থলবন্দরের আলোচিত নাম কামাল হোসেন। সাধারণ এক রিচার্জ ব্যবসায়ী থেকে কয়েক বছরে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার রূপকথাকেও হার মানানো সেই উত্থান নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে। প্রথম পর্বের সংবাদ প্রকাশের পর এবার কামালের অবৈধ সম্পদের পাহাড় ধসাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি কামালের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন দায়িত্বশীল দুদক প্রধান কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

এদিকে, প্রথম পর্বের সংবাদ প্রকাশের পর বেনাপাল জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সংবাদের পোস্টে স্থানীয় বাসিন্দারা কমেন্ট করে কামালের বিষয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছেন।

অভিযোগের কেন্দ্রে যা আছেঃ

দুদকে জমা পড়া অভিযোগপত্র ও আমাদের সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, কামালের আয়ের প্রধান উৎস শুল্ক ফাঁকি, সোনা চোরাচালান এবং ‘সাংবাদিকতা’র আড়ালে চাঁদাবাজি।

ভুয়া সনদে সাংবাদিকতা: অভিযোগ উঠেছে, কামাল বর্তমানে নাভারণ কলেজে বিএ (রোল নং: ২০-০-২৩-৯২৫-০০৫) পড়ুয়া ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়েছেন। এই পরিচয়কে তিনি কাস্টমস কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের ভয় দেখিয়ে ‘মাসোহারা’ আদায়ের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।

চোরাচালান সিন্ডিকেট: কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সোনা ও অবৈধ পণ্য পাচারের সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি চন্দন কাঠ পাচারের দায়ে বিজিবির করা মামলাও রয়েছে তার নামে।

বেনামি সম্পদের পাহাড়: দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, কামালের সম্পদ কেবল বেনাপোলে সীমাবদ্ধ নয়। দিঘীরপাড়ে ৩ তলা আলিশান বাড়ি ছাড়াও যশোর শহরের আরবপুর ও পুলিশ লাইন এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন এবং ফ্ল্যাট রয়েছে তার। নিজের আইনি দায় এড়াতে এই বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পদ তিনি স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে কিনেছেন বলে জানা গেছে।

শুল্ক ফাঁকি ও তদবির বাণিজ্যঃ

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে সখ্য গড়ে তুলে কামাল গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। সম্প্রতি কাস্টমসে আটকে যাওয়া একটি পার্টসের চালান অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ছাড় করানোর চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এর মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কামাল একসময় সামান্য রিচার্জের দোকান চালাতেন। আজ তার দামী প্রিমিও গাড়ি আর অঢেল সম্পদ। এই টাকা কি আকাশ থেকে পড়েছে? আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হোক।”

দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপঃ

দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগপত্রের জমা হলে যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তে পরবর্তী পদক্ষেপ গৃহীত হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির অবৈধ সম্পদের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যাদিও দুদক খতিয়ে দেখবে। কামালের কল রেকর্ড এবং লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করে।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়।

বেনাপোল পোর্ট সিন্ডিকেটের ‘গডফাদার’ কামালের বেপরোয়া দুর্নীতির খোঁজে এবার মাঠে দুদক।

আপডেট সময় : ১২:৩৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বেনাপোল স্থলবন্দরের আলোচিত নাম কামাল হোসেন। সাধারণ এক রিচার্জ ব্যবসায়ী থেকে কয়েক বছরে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার রূপকথাকেও হার মানানো সেই উত্থান নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে। প্রথম পর্বের সংবাদ প্রকাশের পর এবার কামালের অবৈধ সম্পদের পাহাড় ধসাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি কামালের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন দায়িত্বশীল দুদক প্রধান কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

এদিকে, প্রথম পর্বের সংবাদ প্রকাশের পর বেনাপাল জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সংবাদের পোস্টে স্থানীয় বাসিন্দারা কমেন্ট করে কামালের বিষয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছেন।

অভিযোগের কেন্দ্রে যা আছেঃ

দুদকে জমা পড়া অভিযোগপত্র ও আমাদের সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, কামালের আয়ের প্রধান উৎস শুল্ক ফাঁকি, সোনা চোরাচালান এবং ‘সাংবাদিকতা’র আড়ালে চাঁদাবাজি।

ভুয়া সনদে সাংবাদিকতা: অভিযোগ উঠেছে, কামাল বর্তমানে নাভারণ কলেজে বিএ (রোল নং: ২০-০-২৩-৯২৫-০০৫) পড়ুয়া ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়েছেন। এই পরিচয়কে তিনি কাস্টমস কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের ভয় দেখিয়ে ‘মাসোহারা’ আদায়ের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।

চোরাচালান সিন্ডিকেট: কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সোনা ও অবৈধ পণ্য পাচারের সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি চন্দন কাঠ পাচারের দায়ে বিজিবির করা মামলাও রয়েছে তার নামে।

বেনামি সম্পদের পাহাড়: দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, কামালের সম্পদ কেবল বেনাপোলে সীমাবদ্ধ নয়। দিঘীরপাড়ে ৩ তলা আলিশান বাড়ি ছাড়াও যশোর শহরের আরবপুর ও পুলিশ লাইন এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন এবং ফ্ল্যাট রয়েছে তার। নিজের আইনি দায় এড়াতে এই বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পদ তিনি স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে কিনেছেন বলে জানা গেছে।

শুল্ক ফাঁকি ও তদবির বাণিজ্যঃ

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে সখ্য গড়ে তুলে কামাল গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। সম্প্রতি কাস্টমসে আটকে যাওয়া একটি পার্টসের চালান অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ছাড় করানোর চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এর মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কামাল একসময় সামান্য রিচার্জের দোকান চালাতেন। আজ তার দামী প্রিমিও গাড়ি আর অঢেল সম্পদ। এই টাকা কি আকাশ থেকে পড়েছে? আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হোক।”

দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপঃ

দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগপত্রের জমা হলে যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তে পরবর্তী পদক্ষেপ গৃহীত হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির অবৈধ সম্পদের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যাদিও দুদক খতিয়ে দেখবে। কামালের কল রেকর্ড এবং লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করে।