গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালক আতাউর রহমান (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের দায়ের করা মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল চান জানান, ভুক্তভোগী আতাউর রহমান পেশায় একজন অটোরিক্সা চালক এবং শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (ওয়েলডান মোড়) এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা তাকে তার বাসার সামনে থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরে তাকে আসামি আসাদুল ইসলামের দোকানের ভেতরে নিয়ে গিয়ে সাটার বন্ধ করে দেয় এবং কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপহরণকারীরা আতাউরের কাছ থেকে নগদ ৩৭ হাজার টাকা ও তার মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৮ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এরপর তারা ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দেওয়ায় তাকে আসাদুল ইসলামের বাসার একটি কক্ষে আটকে রেখে বিভিন্ন সময়ে মারধর চালায়।
মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আসামিরা ভুক্তভোগীর শ্যালক রেজাউল করিম ও বোন সাজেদা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিক কল করে হুমকি দেয়।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িত এনামুল হক ও আদাম বেপারী বাবু নামে দুইজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে আরেক আসামি আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার রোকন তালুকদারের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৪৬), এনামুল হক (৪০) এবং শ্রীপুর পৌরসভার মৃত মাইন উদ্দিন বেপারীর ছেলে আদাম বেপারী বাবু (৩২)। তারা সবাই বেড়াইদেরচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন রহিমা খাতুন (৪২) ও আনোয়ার হোসেন (৪০)।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গ্রেফতারকৃত এনামুল হক ও আদাম বেপারী বাবুকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি আসাদুল ইসলাম এবং অপহৃত অটোরিক্সা চালক আতাউর রহমানকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
গাজীপুর প্রতিনিধি 

















