অন্তবর্তীকালীন সরকারের আলোচিত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেলারেল এম সাখাওয়াত হোসেন চ্যানেল ওয়ানকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
উনি বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ পূনর্গঠনের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তখন পুলিশের নানা দাবিদাওয়া ছিল, সেসব পূরণের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভ্যুত্থানের পর যখন অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন হয়, তার ৭/৮ দিন পর উনি বলেছিলেন, অভ্যুত্থানের অধিকাংশ মানুষ মারা গেছে ৭.৬২ রাইফেলের বুলেটে, যেটি বাংলাদেশের পুলিশ ব্যবহার করেনা। ওটা তখন মানুষের ভেতর ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল। কিন্তু জনাব সাখাওয়াতকে সরিয়ে দিয়ে সরকার সে আলোচনা আগাতে দেয়নি।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের অন্তত ৪ হাজার রাইফেল লুট হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে নানা সময়ে ৩ হাজারের মত উদ্ধার সম্ভব হলেও এখনও ১০০০ রাইফেল সন্ত্রাসীদের কাছে আছে। এই অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলে বর্তমান সরকরের জন্য বিপদের কারণ হবে বলে ওনার মত।
কেনো তাকে স্বরাস্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? এই প্রশ্নের জবাবে উনি বলেন, ”আমার ও সময়কার বক্তব্যের জন্যই আমাকে মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করে দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ ছাত্রদেরকে ৭.৬২ রাইফেলের গুলি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসব অস্ত্র পুলিশ ব্যবহার করেনা। তাহলে এটা দাঁড়ায় যে, হয় পুলিশকে এসব অস্ত্র দেয়া হয়েছে, না হয় বাইরের কোনো গ্রুপ এসব মানুষকে হত্যা করেছে। আমি ওটা বলার কারণেই আমাকে সরিয়ে দেয়া হয়। অথচ আজ পর্যন্ত ওই ইস্যুর সমাধান হয়নি। আনসারের ওখানে ভিজিট করতে গিয়ে আমি লুঙ্গি পরা হাতে রাইফেল পরা লোকজনের ছবি দেখেছি। আমার কাছে এমনও ছবি আছে, যারা ওসব অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে তাদের বডি, চোহারার গঠন, দেখতে আমাদের মত না। এরা বাইরে কেউ হতে পারে। আমি তদন্ত করতে চেয়েছিলাম যে এরা কারা। কিন্তু তার আগেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
এর কারণে আমি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ড. ইউনূস আমার হাতে ধরে অনুরোধ করেছিলেন। বলেছিলেন, সরকারের মাত্র ৭/৮ দিন হয়েছে, আপনি চলে গেলে আমরা বিপদে পড়বো। ফলে আমি থেকে গেলাম।
তার মতে, নির্বাচন ভাল হয়েছে। আমাদের মত দেশে ১০০% ভাল নির্বাচন করা সম্ভব না। ছোটখাট ত্রুটি বড় নির্বাচনে হতেই পারে। জামাত ৭৭টা সিট পেয়েছে এটা বিশাল ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।
”উপদেষ্টাদের ভেতর একটা গ্রুপ নির্বাচন পরিচালনা থেকে সরকার পরিচালনা- সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেবিনেটের ভেতর একটা কিচেন কেবিনেট ছিল। তারাই সরকার চালিয়েছে।” উনি দাবি করেছেন, উনি সেই ছোট কেবিনেটের সদস্য ছিলেন না। কয়েকজন উপদেষ্টা নির্বাচনের পক্ষে ছিলনা। কারা তারা সেটা উনি জানেন, কিন্তু তারা ওপেনলি কিছু বলেনি কখনো।
কোনো বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটে বসে নেওয়া হতো না। কেবিনেটের বাইরে বসে কয়েকজন সিদ্ধান্ত নিতেন। সেই গ্রুপে উনি ছিলেন না। সংস্কার কমিশনের সাথে ওনার মত উপদেষ্টাদেরকে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি। উনি চেয়েছিলেন যুক্ত হতে, কিন্তু দেয়া হয়নি।
১৭ তারিখ ইউনূস সরকার ক্ষমতা ছেড়েছে। ১৬ তারিখেও বিদেশীদের সাথে চুক্তি করেছে সরকার, জারি করেছে অধ্যাদেশ। বিদেশ থেকে রীতিমত থ্রেট করা হয়েছে এসব চুক্তি করার জন্য। না করে উপায় ছিল না বলে ওনার মত!!
আমলারা কিছু কিছু জায়গায় ভুগিয়েছে। তবে ওনাকে ভোগাননি বলে মত দিয়েছেন তিনি।
উপদেষ্টাদের কেউ কেউ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। উনি দেশ ছেড়ে যাবেন না, নিজ দেশ ছেড়ে যাবেন কেনো ? বলে প্রশ্ন রেখেছেন।
গত দেড় বছরের কিচ্ছাকাহিনী সামনে আসতে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকারের পর জামাত-এনসিপির জামাকাপড়ের যা তা অবস্থা। বাকিরা মুখ খুললে কি যে হবে…সামনে বোধহয় দারুণ সময় আসতেছে। প্রচুর মুড়ি-চানাচুর নিয়ে বসতে হবে। তবে যাই বলিনা কেন, দিন শেষে বলতে হয় ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের মত সাহসী ও নির্ভীক মানুষের বড় অভাব আমাদের এই বঙ্গ দেশে।
সারাক্ষণ ডেস্ক 



















