ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউপিতে হিসাবের প্রশ্নে উত্তেজনা চেয়ারম্যানকে মারতে গিয়ে সচিব নিজেই ঘেরাও হলেন। বিদায়ী সংবর্ধনায় সম্মানিত হলেন আনোয়ারা ইউএনও তাহমিনা আক্তার। চুয়াডাঙ্গায় ডিজেলে ‘কারচুপি’: সরোজগঞ্জে ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ। চট্টগ্রাম বন্দরের এলাকায় মজুতদারীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স,  ৭২ ঘণ্টার বেশি কোনো লাইটার বা কোস্টার জাহাজ থাকতে পারবেন। ভোলাহাটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ভারতীয় সিরাপসহ আটক- ১। মাদারীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ। কালীগঞ্জ থানার কামরুল ইসলাম গাজীপুরে শ্রেষ্ঠ এস আই নির্বাচিত। বড়লেখায় ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার,জব্দ মোটরসাইকেল। বিআইডব্লিউটিএ তে কর্মচারী ইউনিয়নের নামে কমিটি বাণিজ্যের হোতা মাজাহারের অবসান। 

পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউপিতে হিসাবের প্রশ্নে উত্তেজনা চেয়ারম্যানকে মারতে গিয়ে সচিব নিজেই ঘেরাও হলেন।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২২ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

পঞ্চগড় সদর উপজেলার এক পরিষদের চেয়ারম্যানকে মারতে উদ্যত হয়ে শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়েন আলিউল ইসলাম নামে এক ইউপি সচিব। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয় তাকপ। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এদিন বিকেল থেকেই তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

জানা গেছে, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আলিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ তসরুপ, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সকল ইউপি সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম। এ সময় প্রশ্নের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সচিব আলিউল ইসলাম। একপর্যায়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

বিতণ্ডা চলাকালে এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠেন সচিব। উপস্থিত ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী প্যানেল চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, আমরা সভায় আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যান। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে যান। আমরা ও গ্রাম পুলিশ মিলে তাকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পরিষদে এসে সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তারা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাকে এই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান টানা দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তিনি একজন নীতিবান মানুষ। তার সঙ্গে আজকে যা ঘটেছে, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। এমন আচরণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

ইউপি সদস্য শফিউল আলম সফিক বলেন, এই সচিব যোগদানের পর থেকেই নিজের ইচ্ছেমত চলেন। অহেতুক ফান্ডের টাকা ব্যয় করেন। আমাদেরকে সবসময় তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন, আজকে স্বয়ং চেয়ারম্যানের সঙ্গে যেটা হল তা মানার মত নয়।

ইউপি চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, সচিব একক সিদ্ধান্তে পরিষদের চেয়ার-টেবিলসহ কিছু কেনাকাটা করেন। কেনাকাটায় অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে ভাউচার করেছেন। এসব জিজ্ঞেস করলে তিনি অযৌক্তিক আচরণ করেন এবং আমার ওপর মারমুখী হন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনেছি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউপিতে হিসাবের প্রশ্নে উত্তেজনা চেয়ারম্যানকে মারতে গিয়ে সচিব নিজেই ঘেরাও হলেন।

পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউপিতে হিসাবের প্রশ্নে উত্তেজনা চেয়ারম্যানকে মারতে গিয়ে সচিব নিজেই ঘেরাও হলেন।

আপডেট সময় : ১২:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

পঞ্চগড় সদর উপজেলার এক পরিষদের চেয়ারম্যানকে মারতে উদ্যত হয়ে শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়েন আলিউল ইসলাম নামে এক ইউপি সচিব। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয় তাকপ। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এদিন বিকেল থেকেই তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

জানা গেছে, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আলিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ তসরুপ, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সকল ইউপি সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম। এ সময় প্রশ্নের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সচিব আলিউল ইসলাম। একপর্যায়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

বিতণ্ডা চলাকালে এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠেন সচিব। উপস্থিত ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী প্যানেল চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, আমরা সভায় আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যান। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে যান। আমরা ও গ্রাম পুলিশ মিলে তাকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পরিষদে এসে সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তারা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাকে এই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান টানা দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তিনি একজন নীতিবান মানুষ। তার সঙ্গে আজকে যা ঘটেছে, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। এমন আচরণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

ইউপি সদস্য শফিউল আলম সফিক বলেন, এই সচিব যোগদানের পর থেকেই নিজের ইচ্ছেমত চলেন। অহেতুক ফান্ডের টাকা ব্যয় করেন। আমাদেরকে সবসময় তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন, আজকে স্বয়ং চেয়ারম্যানের সঙ্গে যেটা হল তা মানার মত নয়।

ইউপি চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, সচিব একক সিদ্ধান্তে পরিষদের চেয়ার-টেবিলসহ কিছু কেনাকাটা করেন। কেনাকাটায় অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে ভাউচার করেছেন। এসব জিজ্ঞেস করলে তিনি অযৌক্তিক আচরণ করেন এবং আমার ওপর মারমুখী হন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনেছি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।