সরকারের প্রচলিত নিয়ম নীতির আলোকে সরকারী দপ্তরের কর্মকান্ড পরিচালনা হয়ে থাকে। কোন কর্মকর্তা তার খেয়াল খুশীমতো কাজ করার অধিকার রাখেন না।
সরকারের প্রচলিত নিয়ম নীতি ভংগ করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও এখতিয়ার বহির্ভুত কাজ করে যাচ্ছেন বিসিক চেয়ারম্যান ও তার প্রিয়পাত্র প্রকল্প পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান।
অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদে আনীত বিল পাশের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদী দলটির অন্যতম একজন সমর্থক বিসিকের ক্যামিকেল শিল্প পার্ক, মুন্সীগন্জ শীর্ষক প্রকল্পের পিডি মোঃ হাফিজুর রহমান।
যিনি আগাগোড়া ফ্যাসিবাদের সমর্থক হিসাবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের গুনকীর্তনে মগ্ন ছিলেন।প্রমাণ হিসাবে তার দেয়া ৪টি ফেইসবুক পোষ্ট অবলোকন করা যেতে পারে।
বিসিক চেয়ারম্যান এ বিষয়টি ভালভাবেই অবগত আছেন। বহুবার বহুভাবে এ সকল তথ্য বিসিক চেয়ারম্যান বরাবরে দাখিল করা হয়েছে।
পিডি হাফিজ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন এবং তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন। তার মোবাইল ফোন ফরেনসিক টেষ্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে।
ফ্যাসিবাদের দোসর হাফিজুর রহমানসহ বেআইনী কাজের সাথে যুক্ত ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্হা না নিয়ে বিসিক চেয়ারম্যান তাদেরকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পুরস্কৃত করে চলেছেন।
যার কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রে আইন বহির্ভূত কাজের মাত্রা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে ৫০ কোটি টাকার অধিক ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পের পিডি প্রকল্পের পূর্ণকালীন পিডি হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সার্বক্ষণিক প্রকল্প এলাকায় অবস্হান করে প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি কাজে সুষ্ঠু ও গতিশীলতা বজায় রাখবেন।
সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী একজন পূর্ণকালীন পিডি হিসাবে হাফিজের কর্মস্হল বিসিক ক্যামিকেল শিল্প পার্ক মুন্সিগঞ্জ প্রকল্প এলাকায়। অথচ সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফুড টেকনোলজিতে এমএসসি ডিগ্রীধারী হাফিজুর রহমানকে বিসিকের মহাব্যবস্হাপক, দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব প্রদান করে তাকে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত রেখেছেন।
এটি সরকারী নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক এবং বিসিক কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ।প্রকল্প পরিচালক সারাক্ষণ বিসিক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত থাকলে প্রকল্পের কাজ দেখাশুনা করার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।
বিসিকের আওতায় বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালগণ শুধুমাত্র প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও হাফিজুর রহমান এর বেলায় ভিন্নধর্মী আচরণ করছেন বিসিক চেয়ারম্যান।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা গেছে হাফিজুর রহমান বিসিক ভবনের এগারতলায় অবস্হিত মহাব্যবস্হাপক, দক্ষতা ও প্রযুক্তির দপ্তরে স্বৈরশাসক হাসিনার অন্যতম তাবেদার সাবেক ডিবি প্রধান হারুন ষ্টাইলে খাবার হোটেল চালু করেছেন। সরকারী দপ্তরে এ জাতীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না থাকা স্বত্তেও কোন ব্যবস্হা নিচ্ছে না বিসিক কর্তৃপক্ষ।
জানার বিষয় হচ্ছে, সরকারী দায়িত্ব পালনে সরকারী নির্দেশনা অনুসরণ না করে বিসিক চেয়ারম্যান বা বিসিক কর্তৃপক্ষ তাদের খেয়াল খুশীমতো কাজ করার এখতিয়ার সংরক্ষণ করেন কিনা? বিসিক চেয়ারম্যান বা বিসিক কর্তৃপক্ষ জাতীয় সংসদ এ পাশকৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদী দলের চিহ্নিত সমর্থকদের পুনর্বাসন করার সুযোগ দিতে পারে কি না?
নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থক পিডি হাফিজ পিডির দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলে বিসিকের ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রি প্রকল্পের বারোটা বেজে যাবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বাংলা নববর্ষে বৈশাখী উৎসবের আপ্যায়নে ৩৫০/- টাকার প্যাকেজের খাবারের বিল বাড়িয়ে ৬৫০/- টাকা প্রায় ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বাংলা নববর্ষে ( ১ লা বৈশাখে)শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব,অতিরিক্ত সচিব,যুগ্ম সচিব এবং বিসিক চেয়ারম্যানকে লক্ষাধিক টাকার ইলিশ মাছ উপহার দিয়েছেন বলে গুঞ্জন চলছে।
তিনি নিজেই দম্ভভরে একথা প্রকাশ করেছেন। এমন প্রচারণায় শিল্প মন্ত্রী, শিল্প সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও বিসিক চেয়ারম্যানের নীতি আদর্শ প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিসিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















