ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
এস আলমের কাজের বুয়ার স্বামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার! দিনাজপুরে সমবায় সমিতির নির্বাচন হঠাৎ স্থগিত, ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ। বীরগঞ্জে ‘পার্টনার প্রকল্পের আওতায় কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত। উলশী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কয়েকদিন তীব্র গরমের পর চট্টগ্রামে স্বস্তির বৃষ্টি। সিবিএ নেতার বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষকে আওয়ামিলীগ নেতা আজম নাসিরের বড় ভাইয়ের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ! মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার নির্বাহী অফিসার বনি আমিনের বিরুদ্ধে একাধিক ক্রিমিনাল মামলা দায়ের! উন্নয়নের নামে উপভোগের মহোৎসব।ঢাকার প্রকল্পকে ঘিরে রহস্যময়তার ছাপ। শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে জমকালো আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্টিত। অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করেছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

এস আলমের কাজের বুয়ার স্বামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার!

এস আলমের ঢাকার বাসার কাজের বুয়া মর্জিনা আক্তার। তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা, নিয়োগ পরীক্ষা ও একাডেমিক সনদ যাচাই ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে চাকরি করছেন। এই মর্জিনার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে আরও অন্তত ১৩জন নিয়োগ পেয়েছে। এস আলমের বাসার ঘনিষ্ট মর্জিনা এখন কোটিপতি। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার রাউতি গ্রামে।

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত স্নাতকোত্তর শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণেরা কর্মকর্তা পদে যোগ দেন, এরপর তিন বছর পর তারা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পান। এরপর মুখ্য কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ মুখ্য কর্মকর্তা (এসপিও) পদে পদোন্নতি মেলে। এসপিও হতে কারও কারও ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। অথচ কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ইসলামী ব্যাংকে এসপিও হিসেবে নিয়োগ পান সাদ্দাম হোসেন। তার মূল বেতন ধরা হয় ৫৫ হাজার টাকা। তবে সব মিলিয়ে প্রতি মাসে এক লাখ টাকার বেশি বেতন-ভাতা পান তিনি।

মর্জিনার মতো হাতেগোনা কিছু উদাহরণ আছে। এর বাইরে এভাবে দখলকৃত ব্যাংকগুলোতে নিয়োগ পাওয়া ৩১ হাজারের অধিকাংশের বাড়ি এস আলমের নিজ উপজেলা পটিয়া। তাঁর বাড়ির সামনে রাখা ‘যাদুর বাক্স’এ ফেলা সিভি ড্রপ করেই এদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এর বাইরে সাবেক একজন গভর্নরের সুপারিশে এস আলম আরও ২৯শর লোক নিয়োগ দেন বলে জনশ্রুতি আছে। মূলত সেই গভর্নরই দু’হাত খুলে এস আলমের ব্যাংক দখলের অনুমতি, ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার সুযোগসহ উদারহস্তে সবই দিয়ে গেছেন।

মর্জিনার স্বামী সাদ্দামের মতো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা, সনদ যাচাই ছাড়াই নিয়োগ হয়েছে ১১ হাজার!

প্রথম সারির পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করেছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের গৃহকর্মী মর্জিনা আকতারের ব্যাংক হিসাবে অন্তত ১ কোটি টাকা জমা থাকার তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন জানা যাচ্ছে, সেই গৃহকর্মীর স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ মুখ্য কর্মকর্তা (এসপিও) পদে সরাসরি নিয়োগ দিয়েছে তাঁর মালিকানাধীন এস আলম গ্রুপ। গত মে মাসে এই নিয়োগ দেওয়ার সময় ব্যাংকের নিয়োগ সম্পর্কিত নিয়মের ব্যত্যয় করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিয়োগের পর সাদ্দাম হোসেনকে প্রথমে পদায়ন করা হয় ব্যাংকটির চট্টগ্রামের দক্ষিণ জোনে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁকে চট্টগ্রামের চকবাজার শাখায় পদায়ন করা হয়। ব্যাংকে তিনি পরিচিত এস আলমের লোক (এস আলম’স ম্যান) হিসেবে। পদায়নের পর তিনি নিয়মিত অফিস না করলেও এখন তিনি অফিসে যাচ্ছেন। ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

এস আলমের কাজের বুয়ার স্বামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার!

এস আলমের কাজের বুয়ার স্বামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার!

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

এস আলমের ঢাকার বাসার কাজের বুয়া মর্জিনা আক্তার। তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা, নিয়োগ পরীক্ষা ও একাডেমিক সনদ যাচাই ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে চাকরি করছেন। এই মর্জিনার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে আরও অন্তত ১৩জন নিয়োগ পেয়েছে। এস আলমের বাসার ঘনিষ্ট মর্জিনা এখন কোটিপতি। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার রাউতি গ্রামে।

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত স্নাতকোত্তর শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণেরা কর্মকর্তা পদে যোগ দেন, এরপর তিন বছর পর তারা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পান। এরপর মুখ্য কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ মুখ্য কর্মকর্তা (এসপিও) পদে পদোন্নতি মেলে। এসপিও হতে কারও কারও ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। অথচ কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ইসলামী ব্যাংকে এসপিও হিসেবে নিয়োগ পান সাদ্দাম হোসেন। তার মূল বেতন ধরা হয় ৫৫ হাজার টাকা। তবে সব মিলিয়ে প্রতি মাসে এক লাখ টাকার বেশি বেতন-ভাতা পান তিনি।

মর্জিনার মতো হাতেগোনা কিছু উদাহরণ আছে। এর বাইরে এভাবে দখলকৃত ব্যাংকগুলোতে নিয়োগ পাওয়া ৩১ হাজারের অধিকাংশের বাড়ি এস আলমের নিজ উপজেলা পটিয়া। তাঁর বাড়ির সামনে রাখা ‘যাদুর বাক্স’এ ফেলা সিভি ড্রপ করেই এদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এর বাইরে সাবেক একজন গভর্নরের সুপারিশে এস আলম আরও ২৯শর লোক নিয়োগ দেন বলে জনশ্রুতি আছে। মূলত সেই গভর্নরই দু’হাত খুলে এস আলমের ব্যাংক দখলের অনুমতি, ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার সুযোগসহ উদারহস্তে সবই দিয়ে গেছেন।

মর্জিনার স্বামী সাদ্দামের মতো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা, সনদ যাচাই ছাড়াই নিয়োগ হয়েছে ১১ হাজার!

প্রথম সারির পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করেছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের গৃহকর্মী মর্জিনা আকতারের ব্যাংক হিসাবে অন্তত ১ কোটি টাকা জমা থাকার তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন জানা যাচ্ছে, সেই গৃহকর্মীর স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ মুখ্য কর্মকর্তা (এসপিও) পদে সরাসরি নিয়োগ দিয়েছে তাঁর মালিকানাধীন এস আলম গ্রুপ। গত মে মাসে এই নিয়োগ দেওয়ার সময় ব্যাংকের নিয়োগ সম্পর্কিত নিয়মের ব্যত্যয় করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিয়োগের পর সাদ্দাম হোসেনকে প্রথমে পদায়ন করা হয় ব্যাংকটির চট্টগ্রামের দক্ষিণ জোনে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁকে চট্টগ্রামের চকবাজার শাখায় পদায়ন করা হয়। ব্যাংকে তিনি পরিচিত এস আলমের লোক (এস আলম’স ম্যান) হিসেবে। পদায়নের পর তিনি নিয়মিত অফিস না করলেও এখন তিনি অফিসে যাচ্ছেন। ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।