ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫। বীরগঞ্জে বাসাবাড়ী- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মহিলাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন। হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে মামদনেনববন্ধন। রথযাত্রা: ইতিহাস, সনাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবমুক্তির চিরন্তন বার্তা। হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা। কিশোরগঞ্জ মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা। সিলেটে জামায়াত সমর্থিত ১৭ সরকারি আইনজীবীর একযোগে পদত্যাগ। রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। উত্তরায় বাসের চাপায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবি সহকর্মীদের। আর্জেন্টিনার বিজয়ে ভোররাত থেকেই ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস।

কিশোরগঞ্জে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ১০১ জন সংবাদটি পড়েছেন

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ধনু নদীতে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আনাস (১৪) নামে এক কিশোরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে,২৬) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার এনসহিলা গ্রাম সংলগ্ন ধনু নদীর তীরে কিশোরটির মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আনাস উপজেলার কুর্শি গ্রামের বড়হাটি এলাকার মানিক মিয়ার একমাত্র ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছয় বোনের মধ্যে আনাসই ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে আহাজারি আর শোকের মাতম।

নিহতের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গরুকে গোসল করাতে ধনু নদীতে যায় আনাস। একপর্যায়ে নদীর পানিতে নামার পর সে স্রোতের মধ্যে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায় কিশোরটি। সঙ্গে থাকা অন্যরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে অপেক্ষা করছিলেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই দিন ধরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অবশেষে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোরে নদীর তীরে ভাসমান অবস্থায় আনাসের মরদেহটি ভাসতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, ধনু নদীতে বর্ষামৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে স্রোতও বেশি থাকে। তাই এসময় এরকম দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে এসময় শিশু-কিশোরদের নদীতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

বাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিল উজ জামান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছেলেটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহটি উদ্ধার পর্যন্ত আমি পরিবারটির পাশে ছিলাম। এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারিয়ে তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নদী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে এসময় বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সাঁতার না জানা শিশু-কিশোরদের নদীতে একা না পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা। পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫।

কিশোরগঞ্জে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার।

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ধনু নদীতে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আনাস (১৪) নামে এক কিশোরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে,২৬) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার এনসহিলা গ্রাম সংলগ্ন ধনু নদীর তীরে কিশোরটির মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আনাস উপজেলার কুর্শি গ্রামের বড়হাটি এলাকার মানিক মিয়ার একমাত্র ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছয় বোনের মধ্যে আনাসই ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে আহাজারি আর শোকের মাতম।

নিহতের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গরুকে গোসল করাতে ধনু নদীতে যায় আনাস। একপর্যায়ে নদীর পানিতে নামার পর সে স্রোতের মধ্যে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায় কিশোরটি। সঙ্গে থাকা অন্যরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে অপেক্ষা করছিলেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই দিন ধরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অবশেষে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোরে নদীর তীরে ভাসমান অবস্থায় আনাসের মরদেহটি ভাসতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, ধনু নদীতে বর্ষামৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে স্রোতও বেশি থাকে। তাই এসময় এরকম দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে এসময় শিশু-কিশোরদের নদীতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

বাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিল উজ জামান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছেলেটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহটি উদ্ধার পর্যন্ত আমি পরিবারটির পাশে ছিলাম। এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারিয়ে তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নদী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে এসময় বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সাঁতার না জানা শিশু-কিশোরদের নদীতে একা না পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা। পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।