ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কে এই রতন মন্ডল? হরি মন্দিরে হাতুড়ি কান্ডের প্রধান মাস্টারমাইন্ড,তার খুঁটির জোর কোথায়? দিনাজপুরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা। দিনাজপুরে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। শিশু কন্যাকে ধর্ষণ বাঙালি জাতির মানবিকতাকে উলঙ্গ করেছে। “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনাঃ সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ।”এই স্লোগানে রাজৈরে ভূমি সেবা মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত। প্রতারণার অভিনব কৌশল, নিজেকে বহুরূপে উপস্থাপন। আসলে তিনি কে? কোন চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভার্নমেন্ট হওয়া উচিত নয়- বললেন আইনমন্ত্রী। সুনামগঞ্জে মোছাঃ শোবি বেগমের চেক ও স্ট্যাম্প ছিনতাই, উল্টো মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে আইজিপি বরাবর আবেদন। ঝালকাঠিতে সবার একটাই প্রশ্ন,আওয়ামী নেতা ও আমির হোসেন আমু’র ডোনার জর্দা মনু গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজল সম্পাদক রিজভী নির্বাচিত।

কে এই রতন মন্ডল? হরি মন্দিরে হাতুড়ি কান্ডের প্রধান মাস্টারমাইন্ড,তার খুঁটির জোর কোথায়?

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৫৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

হরিমন্দির অঙ্গণে রতন মণ্ডলের হাতুড়ি কান্ডের এত দুঃসাহস  পেলো কোথায়।হরিমন্দিরে সমগ্র অপকাজের মূল পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড রতন মণ্ডল যার জন্মধাত্রী মা এখন নিজ এলাকা মাদারীপুরের কাওসার নামের মুসলমান ঘরের ঘরণী। তার এলাকার লোক তাকে ঠাট্টা করে বলেন ‘কাওসাইরার পোলা।’ তিনি ব্যক্তিজীবনে ২ স্ত্রী( একজনকে রাখেন নারায়ণগঞ্জ, অপরজন রাখেন মাদারীপুরে) নিয়ে সংসার করেন।

মাদারীপুরের রমজানপুরে জন্ম নেয়া পারিবারিক জীবনে এমন যার ইতিহাস তিনি টাকাওয়ালা হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করেন। ঢাকার রমনা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে তিন বছর আগে নিজ বংশীয় প্রতিবেশী মতুয়া অতুল চন্দ্র মণ্ডল মহাশয়কে এলাকার আধিপত্য দ্বন্দের জেরে সভাপতি পদ থেকে সরানোর মিশন তিনিই প্রথম শুরু করেন গোপনে। সাধারণ ভক্তরা তখন রতন মণ্ডলের মূল অপ উদ্দেশ্য ঠিক বুঝতে পারেনি। যেহেতু অতুল মণ্ডল দীর্ঘদিন মন্দিরের সভাপতি ছিলেন, তাই তারা সমুখে মিষ্টভাষী রতন মণ্ডলের মিষ্ট কথায় সায় দেয়। তৎকালীন সভাপতি অতুল মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক সমীর গোলদারকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কালীপদ মৃধা ও নৃপেন্দ্রনাথ হীরাকে সভাপতি ও সম্পাদক করা হয়। রতন মণ্ডল হন সহ-সভাপতি। কিন্তু এর পরেই রতন মণ্ডল তার আসল উদ্দেশ্য সফল করার জন্য ব্যবহার করতে থাকে নবনির্বাচিত দুই সভাপতি, সম্পাদককে। নিজের অর্থের প্রভাবে এই দুই সভাপতি, সেক্রেটারিকে দাসত্বের শৃংখল পড়ায় রতন মণ্ডল। মন্দিরে একের পর এক অপকর্ম হতে থাকে। ভক্তদের দানকৃত টাকায় মন্দিরে ৫ টাকার কাজ হলে ২০ টাকা খরচ হিসাব দেখায় এরা। মন্দিরে গুরুচাঁদ ছাত্রাবাসের পিছনে গোপন রুম করে আলিশান সাজসজ্জায় সাজানো হয় সে রুম। অলিখিতভাবে এটি রতন মণ্ডলের জন্য সংরক্ষিত রুম। মাদারীপুরের রতন মণ্ডল ঢাকায় এলে তার এ রুমেই রাত্রীযাপন করেন। এখানে পছন্দ মত অনুগতদের নিয়ে সপ্তায় সপ্তায় চলে হাঁসের মাংস আর পানাহারের আড্ডা। হাঁসের মাংস রতন মণ্ডলের প্রিয় খাবার। তাই এ রুমটি গুরুচাঁদ ছাত্রাবাসের ছাত্র ও অনেক ভক্তের চাপা আলোচনায় ইন্টারনালি নাম পেয়েছে ‘রতন মণ্ডলের হাঁসের মাংস খাওয়া রুম’।

এক বছর আগে কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও মন্দিরে রতন মণ্ডল নিজের এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এ রুমেই কতিপয় অনুগামী দোসরদের নিয়ে কালীপদ মৃধা ও নৃপেন্দ্রনাথ হীরাকে আবারো নতুন মেয়াদে সভাপতি, সম্পাদক বানানোর সব ষড়যন্ত্র করে। অথচ ২ বছর মেয়াদী কমিটি যখন ৩ বছর আগে( ২০২৩ সালের মে মাসে) গঠিত হয়েছিল, তখন কথা ছিল ২ বছর মেয়াদান্তে নতুন কমিটি হবার রেওয়াজ এ মন্দিরে হবে। সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রতি মেয়াদে পরিবর্তন অবশ্যই আসবে, যাতে সভাপতি/সম্পাদকের পদ আকড়ে থেকে কেউ দীর্ঘকাল স্বেচ্ছাচারীভাবে গা ভাসাতে না পারে। সে মোতাবেক গঠণতন্ত্র প্রনয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কালিপদ মৃধা, নৃপেন হীরা ২০২৩ সালে পদে বসেছিলেন। কিন্তু রতন মণ্ডল, কালিপদ মৃধা ও নৃপেন্দ্রনাথ হীরা সেটি আর হতে দেয়নি। কয়েকবার গঠনতন্ত্র প্রণয়নের মিটিংয়ে অন্য সদস্যরা বসতে বাধ্য করলেও এই তিনজন তা পরবর্তীতে নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে অন্তরায় হবে বলে হতে দেয়নি। গঠনতন্ত্র আর হয়নি। মন্দিরে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে মাদারীপুর থেকেই রতন মণ্ডল নিয়ন্ত্রণ করেন এ মন্দিরকে।

গতকাল ১৯ মে,২৬ মন্দির প্রাঙ্গনে রতন মণ্ডলের মূল পরিকল্পনা ও অর্থায়ণেই আয়োজন হয় আবারো কালীপদ মৃধা ও নৃপেন্দ্রনাথ হীরাকে সভাপতি, সেক্রেটারী করে কমিটি ঘোষনার। বিগত সপ্তাহাধিক কাল মন্দিরের গোপন কক্ষে রতন মণ্ডল অবস্থান করেন পরিকল্পনা সাজাতে। সেখানে কেউ বাঁধা দিলে মারামারি করার জন্য চাপাতি, নতুন হাতুরী, কাঠের দণ্ডসহ নানা দেশীয় অস্ত্র যোগাড় করা হয় এই রতন মণ্ডলের টাকায়। সেই অস্ত্রেই গতকাল বিশ্বজিৎ মল্লিকসহ অনেককে নির্মম হামলা চালায় রতন মণ্ডল, কালিপদ, নৃপেন হীরা গংয়েরা।

৫ম শ্রেণি পাশ রতন মণ্ডল তেলের ব্যবসা ও অন্যান্য গোপন ব্যবসা করে বেশ বড় অর্থশালী বলে সমাজে পরিচিত। ঢাকা হরিচাঁদ মন্দিরের মেরুদণ্ডহীন সভাপতি কালীপদ মৃধা ও সম্পাদক নৃপেন্দ্রনাথ হীরা এই রতন মণ্ডলের টাকার কাছে বিক্রিত নেতৃত্ব।

দেশে হরিলীলামৃত স্কুল গড়ার নাম করে এই রতন মণ্ডল ৫/১০ হাজার টাকা কিছু কিছু অঞ্চলে বিলি করে মতুয়া বান্ধব সাজার চেষ্টা করেন। দেড়শো হরিলীলামৃত স্কুল করেছেন বলে বেড়ান। কিন্তু কাগজে ছাড়া স্পটে ২/৪ টির অস্তিত্ব খোঁজলেও খুজে পাওয়া যায়না। মূলত এলাকায় নিজের পারিবারিক অপকীর্তি ঢাকতে তার এই মতুয়া বান্ধব সাজা। কিছু পরের টাকায় চলা লোককে অর্থে বশ করে নিজের পাশে রাখেন, কোথাও গেলে গাড়ী ভাড়া দেন, খাওয়ান, অনুষ্ঠান করলে ডোনেশন দেন- এইতো মতুয়া সমাজে পরিচিতি রতন মণ্ডলের।

মূলতঃ মা মুসলমানের হাত ধরে চলে যাওয়ায় শৈশব থেকেই তিনি বড় হতে থাকেন বেপরোয়াভাবে। তার জীবনাচরণে সেটি পরিলক্ষিত।

অপ্রতিরোধ্য এই রতন মন্ডলকে এখনই  রুখতে না পারলে বিভক্ত হবে সনাতনী মূল্যবোধ , ধ্বংস হবে মন্দিরের পবিত্রতা,বাড়বে স্বজাতি বিদ্বেষ।

জনৈক মতুয়া বলেন, আমরা চাই রমনা হরি মন্দির কমিটি নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত মতুয়াদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দ্বারাই পরিচালিত হোক। হরি গুরুচাঁদের আদর্শে আমরা সকলে উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক রেষারেষি বন্ধ করে ধর্মীয় চেতনায় উজ্জীবিত হই। মতুয়া আদর্শ প্রচারে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কে এই রতন মন্ডল? হরি মন্দিরে হাতুড়ি কান্ডের প্রধান মাস্টারমাইন্ড,তার খুঁটির জোর কোথায়?

কে এই রতন মন্ডল? হরি মন্দিরে হাতুড়ি কান্ডের প্রধান মাস্টারমাইন্ড,তার খুঁটির জোর কোথায়?

আপডেট সময় : ১০:৪৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

হরিমন্দির অঙ্গণে রতন মণ্ডলের হাতুড়ি কান্ডের এত দুঃসাহস  পেলো কোথায়।হরিমন্দিরে সমগ্র অপকাজের মূল পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড রতন মণ্ডল যার জন্মধাত্রী মা এখন নিজ এলাকা মাদারীপুরের কাওসার নামের মুসলমান ঘরের ঘরণী। তার এলাকার লোক তাকে ঠাট্টা করে বলেন ‘কাওসাইরার পোলা।’ তিনি ব্যক্তিজীবনে ২ স্ত্রী( একজনকে রাখেন নারায়ণগঞ্জ, অপরজন রাখেন মাদারীপুরে) নিয়ে সংসার করেন।

মাদারীপুরের রমজানপুরে জন্ম নেয়া পারিবারিক জীবনে এমন যার ইতিহাস তিনি টাকাওয়ালা হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করেন। ঢাকার রমনা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে তিন বছর আগে নিজ বংশীয় প্রতিবেশী মতুয়া অতুল চন্দ্র মণ্ডল মহাশয়কে এলাকার আধিপত্য দ্বন্দের জেরে সভাপতি পদ থেকে সরানোর মিশন তিনিই প্রথম শুরু করেন গোপনে। সাধারণ ভক্তরা তখন রতন মণ্ডলের মূল অপ উদ্দেশ্য ঠিক বুঝতে পারেনি। যেহেতু অতুল মণ্ডল দীর্ঘদিন মন্দিরের সভাপতি ছিলেন, তাই তারা সমুখে মিষ্টভাষী রতন মণ্ডলের মিষ্ট কথায় সায় দেয়। তৎকালীন সভাপতি অতুল মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক সমীর গোলদারকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কালীপদ মৃধা ও নৃপেন্দ্রনাথ হীরাকে সভাপতি ও সম্পাদক করা হয়। রতন মণ্ডল হন সহ-সভাপতি। কিন্তু এর পরেই রতন মণ্ডল তার আসল উদ্দেশ্য সফল করার জন্য ব্যবহার করতে থাকে নবনির্বাচিত দুই সভাপতি, সম্পাদককে। নিজের অর্থের প্রভাবে এই দুই সভাপতি, সেক্রেটারিকে দাসত্বের শৃংখল পড়ায় রতন মণ্ডল। মন্দিরে একের পর এক অপকর্ম হতে থাকে। ভক্তদের দানকৃত টাকায় মন্দিরে ৫ টাকার কাজ হলে ২০ টাকা খরচ হিসাব দেখায় এরা। মন্দিরে গুরুচাঁদ ছাত্রাবাসের পিছনে গোপন রুম করে আলিশান সাজসজ্জায় সাজানো হয় সে রুম। অলিখিতভাবে এটি রতন মণ্ডলের জন্য সংরক্ষিত রুম। মাদারীপুরের রতন মণ্ডল ঢাকায় এলে তার এ রুমেই রাত্রীযাপন করেন। এখানে পছন্দ মত অনুগতদের নিয়ে সপ্তায় সপ্তায় চলে হাঁসের মাংস আর পানাহারের আড্ডা। হাঁসের মাংস রতন মণ্ডলের প্রিয় খাবার। তাই এ রুমটি গুরুচাঁদ ছাত্রাবাসের ছাত্র ও অনেক ভক্তের চাপা আলোচনায় ইন্টারনালি নাম পেয়েছে ‘রতন মণ্ডলের হাঁসের মাংস খাওয়া রুম’।

এক বছর আগে কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও মন্দিরে রতন মণ্ডল নিজের এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এ রুমেই কতিপয় অনুগামী দোসরদের নিয়ে কালীপদ মৃধা ও নৃপেন্দ্রনাথ হীরাকে আবারো নতুন মেয়াদে সভাপতি, সম্পাদক বানানোর সব ষড়যন্ত্র করে। অথচ ২ বছর মেয়াদী কমিটি যখন ৩ বছর আগে( ২০২৩ সালের মে মাসে) গঠিত হয়েছিল, তখন কথা ছিল ২ বছর মেয়াদান্তে নতুন কমিটি হবার রেওয়াজ এ মন্দিরে হবে। সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রতি মেয়াদে পরিবর্তন অবশ্যই আসবে, যাতে সভাপতি/সম্পাদকের পদ আকড়ে থেকে কেউ দীর্ঘকাল স্বেচ্ছাচারীভাবে গা ভাসাতে না পারে। সে মোতাবেক গঠণতন্ত্র প্রনয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কালিপদ মৃধা, নৃপেন হীরা ২০২৩ সালে পদে বসেছিলেন। কিন্তু রতন মণ্ডল, কালিপদ মৃধা ও নৃপেন্দ্রনাথ হীরা সেটি আর হতে দেয়নি। কয়েকবার গঠনতন্ত্র প্রণয়নের মিটিংয়ে অন্য সদস্যরা বসতে বাধ্য করলেও এই তিনজন তা পরবর্তীতে নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে অন্তরায় হবে বলে হতে দেয়নি। গঠনতন্ত্র আর হয়নি। মন্দিরে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে মাদারীপুর থেকেই রতন মণ্ডল নিয়ন্ত্রণ করেন এ মন্দিরকে।

গতকাল ১৯ মে,২৬ মন্দির প্রাঙ্গনে রতন মণ্ডলের মূল পরিকল্পনা ও অর্থায়ণেই আয়োজন হয় আবারো কালীপদ মৃধা ও নৃপেন্দ্রনাথ হীরাকে সভাপতি, সেক্রেটারী করে কমিটি ঘোষনার। বিগত সপ্তাহাধিক কাল মন্দিরের গোপন কক্ষে রতন মণ্ডল অবস্থান করেন পরিকল্পনা সাজাতে। সেখানে কেউ বাঁধা দিলে মারামারি করার জন্য চাপাতি, নতুন হাতুরী, কাঠের দণ্ডসহ নানা দেশীয় অস্ত্র যোগাড় করা হয় এই রতন মণ্ডলের টাকায়। সেই অস্ত্রেই গতকাল বিশ্বজিৎ মল্লিকসহ অনেককে নির্মম হামলা চালায় রতন মণ্ডল, কালিপদ, নৃপেন হীরা গংয়েরা।

৫ম শ্রেণি পাশ রতন মণ্ডল তেলের ব্যবসা ও অন্যান্য গোপন ব্যবসা করে বেশ বড় অর্থশালী বলে সমাজে পরিচিত। ঢাকা হরিচাঁদ মন্দিরের মেরুদণ্ডহীন সভাপতি কালীপদ মৃধা ও সম্পাদক নৃপেন্দ্রনাথ হীরা এই রতন মণ্ডলের টাকার কাছে বিক্রিত নেতৃত্ব।

দেশে হরিলীলামৃত স্কুল গড়ার নাম করে এই রতন মণ্ডল ৫/১০ হাজার টাকা কিছু কিছু অঞ্চলে বিলি করে মতুয়া বান্ধব সাজার চেষ্টা করেন। দেড়শো হরিলীলামৃত স্কুল করেছেন বলে বেড়ান। কিন্তু কাগজে ছাড়া স্পটে ২/৪ টির অস্তিত্ব খোঁজলেও খুজে পাওয়া যায়না। মূলত এলাকায় নিজের পারিবারিক অপকীর্তি ঢাকতে তার এই মতুয়া বান্ধব সাজা। কিছু পরের টাকায় চলা লোককে অর্থে বশ করে নিজের পাশে রাখেন, কোথাও গেলে গাড়ী ভাড়া দেন, খাওয়ান, অনুষ্ঠান করলে ডোনেশন দেন- এইতো মতুয়া সমাজে পরিচিতি রতন মণ্ডলের।

মূলতঃ মা মুসলমানের হাত ধরে চলে যাওয়ায় শৈশব থেকেই তিনি বড় হতে থাকেন বেপরোয়াভাবে। তার জীবনাচরণে সেটি পরিলক্ষিত।

অপ্রতিরোধ্য এই রতন মন্ডলকে এখনই  রুখতে না পারলে বিভক্ত হবে সনাতনী মূল্যবোধ , ধ্বংস হবে মন্দিরের পবিত্রতা,বাড়বে স্বজাতি বিদ্বেষ।

জনৈক মতুয়া বলেন, আমরা চাই রমনা হরি মন্দির কমিটি নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত মতুয়াদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দ্বারাই পরিচালিত হোক। হরি গুরুচাঁদের আদর্শে আমরা সকলে উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক রেষারেষি বন্ধ করে ধর্মীয় চেতনায় উজ্জীবিত হই। মতুয়া আদর্শ প্রচারে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করি।