ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আবুল হাসান খান

সন্ত্রাস, হুমকি ও মাদক: আইনের কঠোর প্রয়োগই হোক প্রতিকার।

  • উপ সম্পাদকীয়
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৭৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষার জন্য আইনের শাসনের বিকল্প নেই। কোনো ব্যক্তি যদি কারও জীবননাশের হুমকি দেয়, ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বা মাদকসহ কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

সম্প্রতি সাবেক কর কমিশনার প্রশান্ত রায়কে হত্যার হুমকির অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দেবাশীষ গাইন নামে এক ব্যক্তিকে মাদকসহ আটক করার ঘটনাকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একজন নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার ওপর হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সমাজে সম্মানিত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।

তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে যথাযথ তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ যেমন কারও নেই, তেমনি অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর প্রতি অযথা সহানুভূতিরও সুযোগ থাকা উচিত নয়।

মাদক ও সন্ত্রাস—এই দুই অভিশাপ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক অনেক সময় অপরাধপ্রবণতা বাড়ায় এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নিয়ে যায়। তাই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে যেমন কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন, তেমনি হুমকি, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রশান্ত রায়ের মতো একজন নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সামাজিক শান্তি রক্ষায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ হুমকি, সন্ত্রাস বা মাদকের মাধ্যমে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করার সাহস না পায়।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মানে প্রতিশোধ নয়; বরং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অপরাধ দমন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হলো—নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

সন্ত্রাস, হুমকি ও মাদক: আইনের কঠোর প্রয়োগই হোক প্রতিকার।

আপডেট সময় : ০৯:০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষার জন্য আইনের শাসনের বিকল্প নেই। কোনো ব্যক্তি যদি কারও জীবননাশের হুমকি দেয়, ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বা মাদকসহ কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

সম্প্রতি সাবেক কর কমিশনার প্রশান্ত রায়কে হত্যার হুমকির অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দেবাশীষ গাইন নামে এক ব্যক্তিকে মাদকসহ আটক করার ঘটনাকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একজন নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার ওপর হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সমাজে সম্মানিত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।

তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে যথাযথ তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ যেমন কারও নেই, তেমনি অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর প্রতি অযথা সহানুভূতিরও সুযোগ থাকা উচিত নয়।

মাদক ও সন্ত্রাস—এই দুই অভিশাপ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক অনেক সময় অপরাধপ্রবণতা বাড়ায় এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নিয়ে যায়। তাই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে যেমন কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন, তেমনি হুমকি, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রশান্ত রায়ের মতো একজন নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সামাজিক শান্তি রক্ষায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ হুমকি, সন্ত্রাস বা মাদকের মাধ্যমে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করার সাহস না পায়।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মানে প্রতিশোধ নয়; বরং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অপরাধ দমন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হলো—নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।