নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ক্লোজারসংলগ্ন এলাকায় অব্যাহত নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা, ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণ এবং স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় মুছাপুরের ভাঙনকবলিত এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুছাপুর ক্লোজারসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের কারণে বহু পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট উজানের ঢল ও অতিরিক্ত পানির চাপে মুছাপুর ক্লোজারের স্লুইসগেট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে যায়। এরপর থেকে জোয়ারের পানি ও নদীর প্রবল স্রোত সরাসরি তীরবর্তী এলাকায় আঘাত হানায় ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। প্রায় দুই বছর পার হলেও স্লুইসগেটটি পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু কাওছার মামুন, সোহেল ও নুরনবী।
আবু কাওছার মামুন বলেন, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের উদ্যোগে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি।
বক্তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে নদীতীর সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তাই বরাদ্দ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত অন্তর্বর্তী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত জিওব্যাগ ফেলা ও স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয়রা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের মতে, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে মানুষের জীবন-সম্পদ, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















