সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও তদবির বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আবুল কালাম আজাদ। কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল মান্নানের (ওরফে মোফান) ছেলে কালাম সাধারণ একজন উপ-পরিদর্শক হয়েও নারায়ণগঞ্জে বহুতল ভবন, ঢাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নিজের ও পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি এবং বড় বড় মাছের প্রজেক্ট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তরে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার সুবাদে তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ বলয়ের প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এসআই আবুল কালাম আজাদ। এই প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যসহ নানাবিধ তদবিরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি। তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের খোঁজে নেমে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় করইতলা মেইন রাস্তার ৩০০ ফুট পশ্চিমে ৫ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন রয়েছে তার, যার ইতোমধ্যে দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে ঢাকা শহরে নিজের ছোট বোন ‘মনি’কে একটি ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন এবং নিজ এলাকা দেবীদ্বার ও এর আশেপাশে নিজের এবং স্বজনদের নামে-বেনামে প্রচুর ফসলি জমি ও মাছ চাষের জন্য বড় বড় পুকুর ক্রয় করেছেন।
শুধু জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনই নয়, এলাকায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দেবীদ্বার উপজেলায় সরকারি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দের একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজে সরাসরি বাধা দেন এসআই কালাম। তিনি প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার মাঝখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক কুমার চাকমা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ বেলাল এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই অবৈধ বেড়া ভেঙে সরকারি রাস্তাটি উদ্ধার করেন। এ নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও চরম প্রতারণার নানা চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয়দের সূত্রে। ২০০০ সালে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ার ঠিক পূর্বে কুমিল্লা জেলার সুবিল গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল মালেকের মেয়ে মোসাম্মদ শিল্পী আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। তবে চাকরি পাওয়ার পরপরই ক্ষমতার মোহে পড়ে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন। এরপর পুলিশে উপ-পরিদর্শক পদে পদোন্নতি ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একাধিক বিয়ে এবং বহু নারীর সাথে প্রতারণার মাধ্যমে সামাজিক শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরাও নিশ্চিত করেছেন।
একজন সাধারণ সাব-ইন্সপেক্টর হয়ে কালামের এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক বনে যাওয়া এবং সরকারি কাজে প্রকাশ্য বাধার দেওয়ার ধৃষ্টতার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। সচেতন মহল অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বিভাগের মাধ্যমে কালামের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি 






















