স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বর্তমান সচিব মো: কামরুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং সরকারের বিরুদ্ধে নানা প্রকার ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলোই প্রধান ।
সাম্প্রতিক সময়ে় সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে । স্বাস্থ্য সচিবদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বদলি ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি: চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের বদলি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ । পদভেদে ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় । টেন্ডার ও কেনাকাটায় কমিশন। (ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয় (প্রকিউরমেন্ট) এবং ঠিকাদারদের বিল পাস করার ক্ষেত্রে ২% থেকে ৫% পর্যন্ত কমিশন বা উৎকোচ দাবি। সচিব মো: কামরুজ্জামান চৌধুরীর
ফ্যাসিস্ট দোসরদের আশ্রয়:
বিগত সরকারের আস্থাভাজন ও সুবিধাবাদী কর্মকর্তাদের গুুেত্বপূর্ণ পদে বসানো এবং বেআইনিভাবে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা: ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও পছন্দের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় চালানোর অভিযোগ রয়েছে । এছাড়াও, বিভিন্ন ফাইল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দিনের পর দিন স্বাক্ষর না করে আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে। তার সিন্ডিকেটের প্রধান ৩ কর্মকর্তা হলেন: প্রতিমন্ত্রী ডা: এম এ মুহীত, অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ও প্রতিমন্ত্রীর সহকারী সচিব মো: আল মামুন এবং সচিবের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাজমুস সাকিব । এরা একজোট হয়ে মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
আদালত অবমাননা:
অতীতে নিয়মবহির্ভূতভাবে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার মতো আদালত অবমাননার অভিযোগও স্বাস্থ্য সচিবের বিরুদ্ধে এসেছে। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় তদন্তের দাবি তোলা হলেও সংশ্লিষ্ট সচিব এ ধরনের অভিযোগগুলোর ব্যাপারে গণমাধ্যমের সামনে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন
দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ:
স্বাস্থ্য বিভাগের চুক্তিভিত্তিক সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। অভিযোগে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি, চিকিৎসকদের বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
দুদকের সংশি¬ষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি কমিশনের চেয়ারম্যানের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে বর্তমানে কমিশন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলায় এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কমিশন গঠনের পর অভিযোগটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচটিএমএসের মালিক আফতাব আহমেদের সঙ্গে সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রকল্প বাস্তবায়নে এই সম্পর্ক প্রভাব ফেলছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই আফতাব আহমেদের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা সমমূল্যের ইউরো উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন কামরুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়া তিনি নিয়মিত আফতাব আহমেদের কার্যালয়ে যাতায়াত করেন বলেও অভিযোগে উলে¬খ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা সংশি¬ষ্ট পক্ষের বক্তব্য অভিযোগপত্রে উলে¬খ করা হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের প্যাকেজ-২-এর কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেখানে সর্বনিম্ন দরদাতাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে ‘মজিদ অ্যান্ড সন্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা নথিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এছাড়া আর্থিক ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত বিধি উপেক্ষা করে সচিব নিজেই কেনাকাটা ও অর্থ ছাড়ের বিভিন্ন নথি অনুমোদন দিচ্ছেন বলেও অভিযোগে উলে¬খ করা হয়েছে। ঠিকাদারি বিল ও কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার (সিএমএসডি) সংশি¬ষ্ট বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয় বলেও অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের বদলি এবং পদোন্নতি নিয়েও গুরুতর অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, সাধারণ চিকিৎসকদের বদলি বা পদোন্নতির জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য, অর্থ না দিলে সংশি¬ষ্ট ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,এই পুরো প্রক্রিয়ায় সচিবের ব্যক্তিগত সহকারী(পিএস) নাজমুস সাকিব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আর্থিক লেনদেন ও সিন্ডিকেট পরিচালনায় তিনি সচিবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের দেশ প্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী ঘরাণার কর্মকর্তারা প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্য একটি সুত্র জানায়-সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন বিতর্কিত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও চুক্তিভিত্তিক সচিব!
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















