গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি বন ও খাসজমি দখল করে গাছ কেটে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে আটকে রেখে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত মাসুদ রানার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি সরকারি বন ও খাসজমি দখল, গাছ কাটার পাশাপাশি সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তারা বাধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের আটকে রেখে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করা হয় এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এক ধরনের মব পরিস্থিতি তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
সাংবাদিকদের দাবি, তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। পরে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকরা বলেন, কোনো ব্যক্তির সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে সন্দেহ বা প্রশ্ন থাকলে তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সংগঠন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের আটকে রাখা, জনসমাগম ঘটিয়ে হেনস্তা করা, ভয়ভীতি দেখানো বা চাপ প্রয়োগ করে মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি বন ও খাসজমি দখল, গাছ কেটে ফেলা এবং সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মতো অভিযোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা যাতে কোনো ধরনের বাধা, ভয়ভীতি বা হেনস্তার শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হেনস্তা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক মহলের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে সরকারি বন ও খাসজমি দখল এবং গাছ কাটার অভিযোগও তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
**তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ রানার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।**
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেটিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। দুই ক্ষেত্রেই আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রচলিত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
গাজীপুর প্রতিনিধি 























