ভূমি-সংক্রান্ত সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অল্পতেই রেগে যাওয়া এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার কথা বলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সালমার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো—সেবাপ্রার্থী একজন সাধারণ নাগরিককে উদ্দেশ্য করে তিনি “বেশি বিরক্ত করলে এসিল্যান্ড ও ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে মোবাইল কোর্টে জেলে ভরে দেব”—এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় মালিকগ্রাম থেকে আসা ফয়েজ মোল্লা, সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম তালুকদার, কাউলীবেড়া বাজারের একজন চায়ের দোকানি এবং আরও কয়েকজন সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
স্থানীয় সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে নামজারি, খাজনা, খতিয়ানসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে সাধারণ মানুষ গেলে তাদের সঙ্গে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করা হয় না। সামান্য প্রশ্ন বা কথা বললেই উত্তেজিত হয়ে ওঠা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
সেবক নাকি শাসক?’—স্থানীয়দের প্রশ্ন? একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ধৈর্য, ভদ্রতা ও সহযোগিতামূলক আচরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার বিপরীত আচরণের অভিযোগ উঠছে।
তাদের ভাষ্য, বয়স্ক নারী ও অসহায় সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গেও রূঢ় আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি সেবা নিতে এসে অনেকেই বিব্রত ও মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি ভূমি অফিস কি জনগণের সেবা পাওয়ার স্থান, নাকি ক্ষমতার ভয় দেখানোর স্থান?
অডিও রেকর্ডে কী আছে?
সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরো ঘটনার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড রয়েছে। ওই অডিওতে কথোপকথনের প্রকৃত বক্তব্য যাচাই করা গেলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
তবে অডিওটির স্বাধীনভাবে কারিগরি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এর বক্তব্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা না করে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান-এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সে যদি এরকম কিছু বলে থাকে, আমরা তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
অন্যদিকে ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাদরুল আলম-এর কাছেও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনিও অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
তদন্তের দাবি
স্থানীয় সেবাপ্রার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অডিও রেকর্ডসহ অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শালীন, মানবিক ও সেবামূলক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সালমার বক্তব্য নেওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
দৈনিক রুদ্র খবরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি—অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক।
সারাক্ষণ ডেস্ক 
























