সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মানহানিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে এবার পুলিশকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঝালকাঠি থানায় প্রতারণা, মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা, অর্থ আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
ঝালকাঠি থানার মামলা নং-৩৬, তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/২১১/৪০৬/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই মোঃ রিয়াজ।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি আদালতের একটি ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য এএসআই মোহিত দেউলকাঠী এলাকায় যান। ওয়ারেন্টে থাকা আজাদ হোসেন, পিতা-মহসিন হাওলাদার, সাং-দেউলকাঠী, ঝালকাঠি নামের ব্যক্তির বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নেওয়া হলে ওই নামে একজনের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। তবে পুলিশ তাকে না পেয়ে সেখান থেকে ফিরে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে মোল্লা শাওন ওই আজাদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে জানান, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হবে এবং তার ব্যাংক-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করে দেওয়া সম্ভব। এ কথা বলে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর পুলিশ সদস্যকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে আজাদ খানকে এএসআই মোহিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে প্ররোচিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আজাদকে বলা হয়—এএসআই মোহিত তার চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের ধাওয়ায় আহত হওয়ার কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি ও এক্স-রে করানোর বিষয়েও তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আজাদ খান পুলিশের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে মামলার বাদীপক্ষের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল মোল্লা শাওনের পরিকল্পিত কারসাজি। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে আজাদের বক্তব্য রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় মোঃ আজাদ খান বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় মামলা করেন।
ঝালকাঠি থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সদর উপজেলার দেউলকাঠী গ্রামের মোঃ আজাদ খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রুজু করে এসআই মোঃ রিয়াজকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
তবে মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর আইনগত সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সারাক্ষণ ডেস্ক 

















