ভোরে ভোলা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এম ভি দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চ। যাত্রীদের ভিড়ে ছিলো মাত্র এক দিনের এক নবজাতক—নিঃশ্বাস নিতে হিমশিম খাচ্ছে, সাথে ছিলো অক্সিজেন সিলিন্ডার। লক্ষ্য ছিলো উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পৌঁছানো।
কিন্তু ভাগ্য যেন হঠাৎই থেমে গেল। লঞ্চ যখন মুন্সীগঞ্জ ছাড়িয়ে এগোচ্ছে, তখন অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। সময়টা ছিলো প্রতিটি সেকেন্ডের লড়াই। পরিবারের কেউ দেরি না করে কল দেয় ৯৯৯ এ।
এরপর যা ঘটলো—এটা শুধু একটা ঘটনা নয়, এটা এই দেশের মানবিক মুখের প্রতিচ্ছবি।
৯৯৯ সঙ্গে সঙ্গে খবর পৌঁছে দেয় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীর বুক চিরে ছুটে আসে একটি স্পিডবোট—সাথে নতুন অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, আর দুইজন প্রশিক্ষিত সদস্য। তারা লঞ্চে উঠে নবজাতকের পাশে দাঁড়ায়, শ্বাসের প্রতিটি ওঠানামা মনিটর করে, যেন শিশুটি এক মুহূর্তও একা না থাকে।
লঞ্চ পৌঁছায় সদরঘাটে। ঘাটেই অপেক্ষা করছিলো কোস্ট গার্ডের অ্যাম্বুলেন্স—এক মুহূর্ত দেরি না করে নবজাতককে নিয়ে ছুটে যায় হাসপাতালে।
অন্ধকারের ভেতরেও কিছু আলো থাকে। চারপাশে যখন নেতিবাচক খবরে আমরা ক্লান্ত, তখন এমন একটি ঘটনার খবর হৃদয়ে নতুন বিশ্বাস জাগায়—এই দেশ এখনো মানুষের, এই দেশ এখনো বাঁচিয়ে রাখে স্বপ্ন।
অসংখ্য কৃতজ্ঞতা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ন্যাশনাল ইমারজেন্সি হেল্পলাইন ৯৯৯-কে। আপনারা শুধু দায়িত্ব পালন করেননি, আপনারা এক নবজাতকের জীবন বাঁচিয়েছেন, আর আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে।
মানবতার জয় হউক।এগিয়ে যাক প্রিয় জন্মভূমি।কোস্টগার্ড পার্ক ভোলা খেয়াঘাট।নৌ পুলিশ বাংলাদেশ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো তা যেন অব্যাহত থাকে সবার জন্য।ভোলাবাসী কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ নৌ পুলিশের কাছে। কৃতজ্ঞ সারা দেশের কাছে। এভাবেই এগিয়ে যাক আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।
সারাক্ষণ ডেস্ক 















