এক সময়ের প্রমত্তা, খরস্রোতা,পূর্ণ যৌবনের জৌলুস, দাম্ভিকতা কোনটাই অবশিষ্ট নেই, সব কিছুই আজ হারিয়ে ফেলেছে রাজৈরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদী। কালের পরিক্রমায় কুমার নদী আজ মৃত প্রায়।
একদিন এই নদীর নাম-ডাক ছিল যৌবনের উচ্ছাস, উদ্দিপনা ছিল, হুংকার আর গর্জনে হৃদপিন্ডে কাপনের সৃষ্টি হত পার্শ্ববর্তী দু-চার এলাকার লোকজনের। অথচ সেই নদী আজ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে প্রতিনিয়ত। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও মানুষের লাগামহীন অত্যাচারে কুমার নদী হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের পাতা থেকে।
ষাটের দশকে এই কুমার নদীর বুক চিরে বয়ে যেত বড়, বড় ষ্টীমার, লঞ্চ,চরমুগুরিয়া থেকে খুলনা পর্যন্ত। বড়, বড় ঘাসী নৌকা পাল তুলে ছুটে যেত ভাটিয়ালী গানের সুরের তালে,তালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের দুর- দুরন্তে যাতায়াতের এক মাত্র অবলম্বন ছিল এই কুমার নদী। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেই নদী আজ মুখ থুবরে পড়ে আছে জীবন্ত লাশ হয়ে।
এই নদীর হিংস্র স্রোতে ডুবে গেছে অজস্র ছোট বড় নৌকা, কেড়ে নিয়েছে শত সহস্র মায়ের নারী ছেড়া ধন, অনেক ধনীকে বানিয়েছে ফকির, আবার ফকিরকে বানিয়েছে ধনী।
বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদী দুই পাড়ের বাসিন্দারা থাকতো আতংকে এই বুঝি তাদের শেষ সম্বল ভিটা বাড়ি টুকু কেড়ে নিয়ে যাবে নদী গর্ভে।
সেই নদী দিয়ে আজ লঞ্চ,স্টিমার চলা তো দুরের কথা মানুষের ব্যবহার করার মত পানিও থাকে না। এই নদী নিয়ে অনেক লেখা লেখি হয়েছে পত্র পত্রিকায় কিন্ত কোন কিছুতেই প্রশাসনের টনক নড়ছে না। নদীর রাজৈরের অংশ কচুরিপানায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ। ময়লা আবর্জনা ফেলার একমাত্র ডাস্টবিনই মনে হচ্ছে এই নদী। রাজৈর পৌরসভার ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে আজকের কুমার নদী।
নদীটি আগের মত সচল থাকলে নদীর দুই পাড়ের কৃষকদের সেচ ব্যবস্থায় অনেক সাশ্রয়ী হত। নদীর পানি ব্যবহারে জমিতে বেড়ে যেত বহুগুণ উর্বরতা শক্তি, ফসল আসতো দ্বিগুন। তাই নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রানের দাবী নদী সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের চোখের কালো চশমা খুলে অতি দ্রুত কুমার নদীটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। নয়তো একদিন এ নদীর অস্তিত্ব খুঁজতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দ্বারস্থ হতে হবে। এলাকাবাসীর আশা অচিরেই হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভেঙ্গে কুমার নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হবেন।
এডভোকেট গৌরাঙ্গ বসু 














