ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল! নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাষা কর্মশালা ও মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন। নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন। প্রায় ২০ কোটি টাকার স্থাপনার হদিস নেই, রামেবি ক্যাম্পাসে লুটপাটের অভিযোগ। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট’র উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু শিবির ও মেডিক্যাল ক্যাম্প সম্পন্ন। আখাউড়ায় বিশেষ অভিযানে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার একটি স্বপ্নের নাম মর্ম মাধুর্য বসু (তাথৈ) শুভ জন্মদিন, আমাদের প্রাণের আলো। হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন।

ডিপজলের বিরুদ্ধে তরুণীর মামলা

  • সারাক্ষণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • ৬৭৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

বাংলা সিনেমার খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক তরুণী।

মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে মো. রাশিদা আক্তার নামে এক পোশাক কর্মী মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আলমের আদালতে এ মামলা করেন।মামলায় ডিপজলের সহযোগী মো. ফয়সালকেও আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী রাশিদা আক্তার অভিনেতা ডিপজলের ‘একজন ভক্ত’। গত কুরবানির ঈদের আগে ২ জুন তিনি গাবতলী হাটে গিয়েছিলেন গরু দেখতে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন হাটের মধ্যে অফিসে অভিনেতা ডিপজল আছেন।তখন রাশিদা আক্তার সেই অফিসে গিয়ে ডিপজলকে সালাম দিয়ে বলেন যে, তিনি অভিনেতার একজন ভক্ত। তার সঙ্গে দেখা করতে চান। তখন ডিপজল তার পিএস ফয়সালকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই মহিলা ভেতরে কীভাবে ঢুকল? বের কর এখান থেকে’।

তখন রাশিদা আক্তার ডিপজলকে বলেন, ‘ভাই আমি আপনার সঙ্গে একটু কথা বলেই চলে যাব, আমাকে বের করে দিতে বলছেন কেন?’ রাশিদার এ কথায় ডিপজল রেগে বলেন, ‘এই তোরা এই মহিলাকে পিটিয়ে এখান থেকে বের কর’। তারপর ডিপজলের হুকুমে ও প্ররোচণায় ফয়সাল এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি রাশিদার ঘাড় ও হাত ধরে এবং পিঠে হাত দিয়ে জোর জবরদস্তি করে অফিসের ভেতর থেকে টেনে বের করেন। তখন তিনি জামা কাপড় পেচিয়ে মাটিতে পড়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়, রাশিদা উঠে দাঁড়িয়ে ফয়সালকে বলেন, ‘আমি তো ডিপজল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে চলেই যেতাম, আপনারা আমার শরীরে হাত দিলেন কেন, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন কেন? তখন ফয়সাল তাকে বলেন, ‘এখান থেকে না গেলে তোর হাত পা ভেঙে পাশের তুরাগ নদীতে ফেলে দেব।’ রাশিদা এরপর প্রতিবাদ করে ফয়সালকে বলেন, ‘ভাঙেন হাত পা, দেখি আপনাদের কত সাহস’।

রাশিদা এই কথা বলার পর ফয়সাল আশপাশে থাকা অজ্ঞাতনামাদের উদ্দেশে দড়ি আনার কথা বলেন। ফয়সালের কথায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গরু বাঁধার রশি এনে তার হাতে দেন৷ এরপরে তিনি অন্য ব্যক্তিদের বলে, ‘এই তোরা এই মহিলাকে ধর।’

এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন ব্যক্তি তাকে চেপে ধরেন। এসময় ফয়সাল হাত বেঁধে ফেলে এবং অন্যান্য ৮/১০ অজ্ঞাতনামা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুসি লাথি মারতে থাকে। তখন ভিকটিম কান্না করতে করতে করতে বলতে থাকেন, ‘আমাকে ছাড়, আমি ডিপজল ভাইয়ের কাছে বিচার দেব।’ তখন ফয়সাল বলেন, ‘ভেতরে গেলে ডিপজল ভাই তোকে খুন করে ফেলবে।’

এ সময় ফয়সাল ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘ওকে এইভাবে মেরে মনের জিদ কমবে না।’ এই কথা বলেই তিনি অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তিকে বলেন, ‘ভেতরে একটা ছোট গ্যালন আছে, ওটা নিয়ে আয়।’ অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি অফিসের ভেতর থেকে গ্যালন নিয়ে এসে ফয়সালের হাতে দেন। এসময় ফয়সাল গ্যালনের মুখ খুলে বাদীর শরীরে ঢেলে দেন। রাশিদা যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করতে থাকেন। পরে বাসে করে তার বাসা যাত্রাবাড়ীতে আসেন।

এজাহারে বলা হয়, স্বজনরা দেখে জিজ্ঞাসা করেন এ অবস্থা কীভাবে হয়েছে। বাদী কাউকে কিছু না বলে ঘুমিয়ে যান। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাপোড়া অনুভব করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা দেখেন। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আদালতে মামলা করতে এসেছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল!

ডিপজলের বিরুদ্ধে তরুণীর মামলা

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

বাংলা সিনেমার খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক তরুণী।

মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে মো. রাশিদা আক্তার নামে এক পোশাক কর্মী মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আলমের আদালতে এ মামলা করেন।মামলায় ডিপজলের সহযোগী মো. ফয়সালকেও আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী রাশিদা আক্তার অভিনেতা ডিপজলের ‘একজন ভক্ত’। গত কুরবানির ঈদের আগে ২ জুন তিনি গাবতলী হাটে গিয়েছিলেন গরু দেখতে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন হাটের মধ্যে অফিসে অভিনেতা ডিপজল আছেন।তখন রাশিদা আক্তার সেই অফিসে গিয়ে ডিপজলকে সালাম দিয়ে বলেন যে, তিনি অভিনেতার একজন ভক্ত। তার সঙ্গে দেখা করতে চান। তখন ডিপজল তার পিএস ফয়সালকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই মহিলা ভেতরে কীভাবে ঢুকল? বের কর এখান থেকে’।

তখন রাশিদা আক্তার ডিপজলকে বলেন, ‘ভাই আমি আপনার সঙ্গে একটু কথা বলেই চলে যাব, আমাকে বের করে দিতে বলছেন কেন?’ রাশিদার এ কথায় ডিপজল রেগে বলেন, ‘এই তোরা এই মহিলাকে পিটিয়ে এখান থেকে বের কর’। তারপর ডিপজলের হুকুমে ও প্ররোচণায় ফয়সাল এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি রাশিদার ঘাড় ও হাত ধরে এবং পিঠে হাত দিয়ে জোর জবরদস্তি করে অফিসের ভেতর থেকে টেনে বের করেন। তখন তিনি জামা কাপড় পেচিয়ে মাটিতে পড়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়, রাশিদা উঠে দাঁড়িয়ে ফয়সালকে বলেন, ‘আমি তো ডিপজল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে চলেই যেতাম, আপনারা আমার শরীরে হাত দিলেন কেন, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন কেন? তখন ফয়সাল তাকে বলেন, ‘এখান থেকে না গেলে তোর হাত পা ভেঙে পাশের তুরাগ নদীতে ফেলে দেব।’ রাশিদা এরপর প্রতিবাদ করে ফয়সালকে বলেন, ‘ভাঙেন হাত পা, দেখি আপনাদের কত সাহস’।

রাশিদা এই কথা বলার পর ফয়সাল আশপাশে থাকা অজ্ঞাতনামাদের উদ্দেশে দড়ি আনার কথা বলেন। ফয়সালের কথায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গরু বাঁধার রশি এনে তার হাতে দেন৷ এরপরে তিনি অন্য ব্যক্তিদের বলে, ‘এই তোরা এই মহিলাকে ধর।’

এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন ব্যক্তি তাকে চেপে ধরেন। এসময় ফয়সাল হাত বেঁধে ফেলে এবং অন্যান্য ৮/১০ অজ্ঞাতনামা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুসি লাথি মারতে থাকে। তখন ভিকটিম কান্না করতে করতে করতে বলতে থাকেন, ‘আমাকে ছাড়, আমি ডিপজল ভাইয়ের কাছে বিচার দেব।’ তখন ফয়সাল বলেন, ‘ভেতরে গেলে ডিপজল ভাই তোকে খুন করে ফেলবে।’

এ সময় ফয়সাল ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘ওকে এইভাবে মেরে মনের জিদ কমবে না।’ এই কথা বলেই তিনি অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তিকে বলেন, ‘ভেতরে একটা ছোট গ্যালন আছে, ওটা নিয়ে আয়।’ অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি অফিসের ভেতর থেকে গ্যালন নিয়ে এসে ফয়সালের হাতে দেন। এসময় ফয়সাল গ্যালনের মুখ খুলে বাদীর শরীরে ঢেলে দেন। রাশিদা যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করতে থাকেন। পরে বাসে করে তার বাসা যাত্রাবাড়ীতে আসেন।

এজাহারে বলা হয়, স্বজনরা দেখে জিজ্ঞাসা করেন এ অবস্থা কীভাবে হয়েছে। বাদী কাউকে কিছু না বলে ঘুমিয়ে যান। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাপোড়া অনুভব করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা দেখেন। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আদালতে মামলা করতে এসেছেন।