ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চার শিক্ষাব্যবস্থা, চার বাংলাদেশ: রাষ্ট্রের নীরব আত্মবিভাজন। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে নতুন সাজে ঠাকুরগাঁও, রাঙিয়ে তোলা হয়েছে শহর। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব: দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন ও সমকালীন পৃথিবীতে কৃষ্ণের প্রাসঙ্গিকতা। ভাঙ্গার আলগীর ঝালডাঙ্গা বিলে শতাধিক নৌকার মহারণ, সেরা রাজৈরের ‘বৈতরণী’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের বার্তা: অশুভের বিরুদ্ধে শুভবোধের জাগরণ- অপর্ণা রায় দাস। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউট সোর্সিং এর কাজ শতভাগ আওয়ামী প্রতিষ্ঠানের দখলে! এনআরবিসি ব্যাংকে চিহ্নিত লুটেরা চক্রের অপতৎপরতা! শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বরিশাল শাখার ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিলেন আবুল কালাম আজাদ নজরুল বর্ষ ও আমাদের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন: বিদ্রোহী কবির প্রাসঙ্গিকতা ও উত্তরাধিকার। যেভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা , সংকটের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা।

শারীরিক অসুস্থতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগে অভিযুক্ত গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়েরা বিনতে রেজা।

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • ৪২৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

এই

 

 

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘ দিন ঢাকায় অবস্থান করা প্রকৌশলীদের বেশির ভাগই ঢাকার বাইরে বদলি হয়েছেন। কিন্তু এখনো কিছু প্রকৌশলী নিয়ন-নীতির ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিন বছর পর অন্য জেলায় পদায়িত হওয়ার নিয়ম থাকলেও তাদের পদায়ন ঢাকাতেই হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়েরা বিনতে রেজা তেমনই একজন কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে ই/এম সার্কেল-১ ঢাকা এর দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি গণপূর্ত এমআইএস সার্কেল, ই/এম সার্কেল-৪, পিএন্ডডি সার্কেল-এর দায়ুত্বে ছিলেন। সবগুলো পদায়নই ঢাকাতেই ছিল। অভিযোগ রয়েছে এসব পদায়নের জন্য তিনি বিপুল টাকা উৎকোচ দিয়েছেন। আর এই উৎকোচের টাকাসহ বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি কামিয়েছেন টেন্ডার বাণিজ্য ও আউট সোর্সিং জনবল নিয়োগ-বাণিজ্য করে।

জানা যায়, হুমায়েরা বিনতে রেজা ঢাকা ই/এম সার্কেল-১, ঢাকা থেকে গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১, ঢাকা এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো: আশরাফুল ইসলাম-এর মাধ্যমে প্রধান প্রকৌশলীর জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অমান্য করে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এপিপি বরাদ্দের কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ঢাকা ই/এম বিভাগ-১ থেকে শতকরা ৯০ ভাগ দরপত্র ওটিএম পদ্ধতিতে আহবান করা হয়। আর এই অনুমোদনের জন্য হুমায়েরা বিনতে রেজা ৫ শতাংশ হারে কমিশন নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় তার অধীনে ঢাকা গণপূর্ত ইএম বিভাগ-২ ও ৩ এরও একই অবস্থা। গণপুর্ত সংশ্লষ্টরা বলছেন, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া জন্যই হুমায়েরা বিনতে রেজা এই নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে তিনি মোটা অংকের কমিশন পেয়েছেন। এখনও ঢাকা ই/এম সার্কেল-১ এর অধীন ডিভিশনগুলোতে ৪০টি এপিপি বরাদ্দের কাজের ওটিএম পদ্ধতিতে আহবানকৃত দরপত্র লাইভে রয়েছে যার প্রাক্কলন অনুমোদন করছেন হুমায়েরা বিনতে রেজা। জানা যায়, চাকুরি জীবনে কখনো হুমায়রা বিনতে রেজা ওয়ার্কিং ডিভিশনে কাজ করেননি। অথচ তিনি গণপূর্ত ই/এম ওয়ার্কিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে রয়েছেন।

২৪তম বিসিএস এর এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরির কোড অব কন্ডাক্ট ভাঙ্গারও মতো গুরুত্বর অভিযোগ আছে। তিনি টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে একটি একাউন্ট পরিচালনা করেন বলে জানা যায়। সেখানে তিনি নানান রকম ভিডিও আপলোড করেন।

এছাড়া হুমায়েরা বিনতে রেজা ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্কিত। কথিত আছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয় থেকে পাশ করে ২৪ তম বিসিএস-এ গণপূর্ত ক্যাডারে যোগদান করেন হুমায়েরা বিনতে রেজা। বুয়েটে থাকাকালেই নানা কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সে সময়ে এক সহপাঠীর সঙ্গে বিয়েও হয় তার। সে বিয়ে ভাঙার পরে ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন তিনি। ইমতিয়াজ আহমেদ বেসরকারি একটি টেলিকম কোম্পানিতে চাকরি করেন। ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু এই সংসারও টিকেনি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী মুখে কথিত আছে গণপূর্ত ইএম বিভাগ-১১ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো: আব্দুল্লাহ আল মাসুম অবৈধ সম্পর্কের জন্য হুমায়েরা ইমতিয়াজের সংসার ত্যাগ করেছেন।

এসব বিষয়ে হুমায়েরা বিনতে রেজার সাথে কথা বলার জন্য তার দুটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শিক্ষাব্যবস্থা, চার বাংলাদেশ: রাষ্ট্রের নীরব আত্মবিভাজন।

শারীরিক অসুস্থতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগে অভিযুক্ত গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়েরা বিনতে রেজা।

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

এই

 

 

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘ দিন ঢাকায় অবস্থান করা প্রকৌশলীদের বেশির ভাগই ঢাকার বাইরে বদলি হয়েছেন। কিন্তু এখনো কিছু প্রকৌশলী নিয়ন-নীতির ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিন বছর পর অন্য জেলায় পদায়িত হওয়ার নিয়ম থাকলেও তাদের পদায়ন ঢাকাতেই হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়েরা বিনতে রেজা তেমনই একজন কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে ই/এম সার্কেল-১ ঢাকা এর দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি গণপূর্ত এমআইএস সার্কেল, ই/এম সার্কেল-৪, পিএন্ডডি সার্কেল-এর দায়ুত্বে ছিলেন। সবগুলো পদায়নই ঢাকাতেই ছিল। অভিযোগ রয়েছে এসব পদায়নের জন্য তিনি বিপুল টাকা উৎকোচ দিয়েছেন। আর এই উৎকোচের টাকাসহ বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি কামিয়েছেন টেন্ডার বাণিজ্য ও আউট সোর্সিং জনবল নিয়োগ-বাণিজ্য করে।

জানা যায়, হুমায়েরা বিনতে রেজা ঢাকা ই/এম সার্কেল-১, ঢাকা থেকে গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১, ঢাকা এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো: আশরাফুল ইসলাম-এর মাধ্যমে প্রধান প্রকৌশলীর জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অমান্য করে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এপিপি বরাদ্দের কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ঢাকা ই/এম বিভাগ-১ থেকে শতকরা ৯০ ভাগ দরপত্র ওটিএম পদ্ধতিতে আহবান করা হয়। আর এই অনুমোদনের জন্য হুমায়েরা বিনতে রেজা ৫ শতাংশ হারে কমিশন নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় তার অধীনে ঢাকা গণপূর্ত ইএম বিভাগ-২ ও ৩ এরও একই অবস্থা। গণপুর্ত সংশ্লষ্টরা বলছেন, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া জন্যই হুমায়েরা বিনতে রেজা এই নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে তিনি মোটা অংকের কমিশন পেয়েছেন। এখনও ঢাকা ই/এম সার্কেল-১ এর অধীন ডিভিশনগুলোতে ৪০টি এপিপি বরাদ্দের কাজের ওটিএম পদ্ধতিতে আহবানকৃত দরপত্র লাইভে রয়েছে যার প্রাক্কলন অনুমোদন করছেন হুমায়েরা বিনতে রেজা। জানা যায়, চাকুরি জীবনে কখনো হুমায়রা বিনতে রেজা ওয়ার্কিং ডিভিশনে কাজ করেননি। অথচ তিনি গণপূর্ত ই/এম ওয়ার্কিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে রয়েছেন।

২৪তম বিসিএস এর এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরির কোড অব কন্ডাক্ট ভাঙ্গারও মতো গুরুত্বর অভিযোগ আছে। তিনি টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে একটি একাউন্ট পরিচালনা করেন বলে জানা যায়। সেখানে তিনি নানান রকম ভিডিও আপলোড করেন।

এছাড়া হুমায়েরা বিনতে রেজা ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্কিত। কথিত আছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয় থেকে পাশ করে ২৪ তম বিসিএস-এ গণপূর্ত ক্যাডারে যোগদান করেন হুমায়েরা বিনতে রেজা। বুয়েটে থাকাকালেই নানা কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সে সময়ে এক সহপাঠীর সঙ্গে বিয়েও হয় তার। সে বিয়ে ভাঙার পরে ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন তিনি। ইমতিয়াজ আহমেদ বেসরকারি একটি টেলিকম কোম্পানিতে চাকরি করেন। ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু এই সংসারও টিকেনি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী মুখে কথিত আছে গণপূর্ত ইএম বিভাগ-১১ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো: আব্দুল্লাহ আল মাসুম অবৈধ সম্পর্কের জন্য হুমায়েরা ইমতিয়াজের সংসার ত্যাগ করেছেন।

এসব বিষয়ে হুমায়েরা বিনতে রেজার সাথে কথা বলার জন্য তার দুটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।