ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
যশোর ডিবির তিন এসআইকে আইজিপি ব্যাজ প্রদান । গ্রামীণ সংস্কৃতি ও কাছারির গল্প- অধ্যক্ষ সৈয়দ রবিউল আলম। কিশোরগঞ্জে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার। জৈন্তাপুরে নবাগত ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেন সুনন্দা রায়। সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত। ওমানে গাড়ির ভেতর চট্টগ্রামের ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু। প্রতিমন্ত্রী করলেন বরখাস্ত প্রধান নির্বাহী আদেশ দিলেন যোগদানের। আসলে বড় কে? জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘তারুণ্যের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদের জামাত আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত। রাজবাড়ী সদরে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষকের সম্মাননা পেলেন সহকারী অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান।

মইনুল রোডে খালেদা জিয়ার সেই বাড়ি ভেঙে ছিল কারা?

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫২ জন সংবাদটি পড়েছেন

২০১০ সালের গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর প্রথম পর্যায়ে ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি বাড়িটি থেকে খালেদা জিয়ার প্রতিনিধিরা সব মালামাল সরিয়ে নেন। বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ মালামাল বুঝে নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাড়িটি ভেঙে ফেলার আগে সব কিছুই ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।গত ডিসেম্বরেই সেনাসদর ওই বাড়ি ভেঙে সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পায়। সূত্র জানায়, ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে সেখানে মেজর থেকে লে. কর্নেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তারা পরিবারসহ বসবাসের সুযোগ পাবেন এবং এর মাধ্যমে সেনা কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট অনেকটাই দূর হবে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. নাজমুস সাদাত সেলিম বলেন, ‘ওই বাড়িটি ভেঙে ফেলার ঘটনা ছাড়া সেখানে কী ধরনের এবং কাদের জন্য ভবন নির্মাণ হতে যা”েছ সে বিষয়ে তেমন কিছু আমার জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের মইনুল রোডের ওই বাড়িটি খালেদা জিয়াকে লিজ দেন। সেনা সদরের ৬ নম্বর শহীদ মইনুল রোডে ২ দশমিক ৭২ একর জমির ওপর ¯’াপিত বাড়িটি বছরে এক টাকা খাজনা দেওয়ার শর্তে লিজ দেওয়া হয়। প্রতিবছর খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ফলের গাছসহ অন্য কোনো গাছ না কাটা, খনিজসম্পদ পাওয়া গেলে তা উত্তোলন না করা, বাড়ির পরিবর্তন বা পরিবর্ধন না করা, অন্য কারো কাছে বিক্রি বা লিজ বা বন্ধক না দেওয়া ও সম্পত্তি বিভক্ত না করার শর্তে এই লিজ দেওয়া হয়। তবে তার আগে থেকেই খালেদা জিয়া তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

হাসিনা-সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের ৮ এপ্রিল মন্ত্রিসভা খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের এই বাড়িটির ইজারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যব¯’া নিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত জানার পর আইনগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়তে সামরিক ভূসম্পত্তি প্রশাসক গত বছরের ২০ এপ্রিল নোটিশ দেন। এই নোটিশে বাড়ি বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গের পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে ১৫ দিনের মধ্যে জমি ও বাড়ির দখল সরকারের পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসারের কাছে প্রত্যর্পণ করতে খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হয়। ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট গত ১৩ অক্টোবর ওই রিট খারিজ করে রায় দেন এবং খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়ার জন্য ৩০ দিনের সময় দিতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর ডিবির তিন এসআইকে আইজিপি ব্যাজ প্রদান ।

মইনুল রোডে খালেদা জিয়ার সেই বাড়ি ভেঙে ছিল কারা?

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০১০ সালের গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর প্রথম পর্যায়ে ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি বাড়িটি থেকে খালেদা জিয়ার প্রতিনিধিরা সব মালামাল সরিয়ে নেন। বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ মালামাল বুঝে নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাড়িটি ভেঙে ফেলার আগে সব কিছুই ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।গত ডিসেম্বরেই সেনাসদর ওই বাড়ি ভেঙে সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পায়। সূত্র জানায়, ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে সেখানে মেজর থেকে লে. কর্নেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তারা পরিবারসহ বসবাসের সুযোগ পাবেন এবং এর মাধ্যমে সেনা কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট অনেকটাই দূর হবে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. নাজমুস সাদাত সেলিম বলেন, ‘ওই বাড়িটি ভেঙে ফেলার ঘটনা ছাড়া সেখানে কী ধরনের এবং কাদের জন্য ভবন নির্মাণ হতে যা”েছ সে বিষয়ে তেমন কিছু আমার জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের মইনুল রোডের ওই বাড়িটি খালেদা জিয়াকে লিজ দেন। সেনা সদরের ৬ নম্বর শহীদ মইনুল রোডে ২ দশমিক ৭২ একর জমির ওপর ¯’াপিত বাড়িটি বছরে এক টাকা খাজনা দেওয়ার শর্তে লিজ দেওয়া হয়। প্রতিবছর খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ফলের গাছসহ অন্য কোনো গাছ না কাটা, খনিজসম্পদ পাওয়া গেলে তা উত্তোলন না করা, বাড়ির পরিবর্তন বা পরিবর্ধন না করা, অন্য কারো কাছে বিক্রি বা লিজ বা বন্ধক না দেওয়া ও সম্পত্তি বিভক্ত না করার শর্তে এই লিজ দেওয়া হয়। তবে তার আগে থেকেই খালেদা জিয়া তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

হাসিনা-সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের ৮ এপ্রিল মন্ত্রিসভা খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের এই বাড়িটির ইজারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যব¯’া নিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত জানার পর আইনগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়তে সামরিক ভূসম্পত্তি প্রশাসক গত বছরের ২০ এপ্রিল নোটিশ দেন। এই নোটিশে বাড়ি বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গের পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে ১৫ দিনের মধ্যে জমি ও বাড়ির দখল সরকারের পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসারের কাছে প্রত্যর্পণ করতে খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হয়। ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট গত ১৩ অক্টোবর ওই রিট খারিজ করে রায় দেন এবং খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়ার জন্য ৩০ দিনের সময় দিতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন।