ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার। খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত ছোবল : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পুরোনো সিন্ডিকেটের নতুন মুখ, নিম্নমানের পশুখাদ্যে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা। নিয়োগ-বদলী-কেনাকাটা সব তার হাতে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে মহাপরিচালকের ভুমিকায় ডিএডি শামস আরমান। একদিনে দু’দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ..ঘনঘন কম্পনে বাড়ছে শঙ্কা, প্রয়োজন প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ। ডিমলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণের উদ্বোধন। নাশকতার মামলায় যুবলীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেপ্তার। ফ্যাসিষ্টের সহযোগীরা এখন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক। আইপি৬৮/আইপি৬৯ রেটিং ও সনি লাইটিয়া ক্যামেরাসহ বাংলাদেশের বাজারে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো। মাদকমুক্ত ফুলবাড়ী গড়তে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস ছালাম (সুজা)-এর পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা। জামালগঞ্জে কারিতাস বাংলাদেশের উদ্যোগে উন্নয়ন সহযোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ।

ড.দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অদম্য মেধাবী ও আধুনিক অর্থনীতিবিদের এক অনুকরণীয় অনুপ্রেরণা।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ১২৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ১৯৫৬ সালের ২৯ এপ্রিল তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার টাঙ্গাইল মহকুমার(বর্তমান জেলা) কালিহাতীর এলেঙ্গা অঞ্চলের একটি প্রাচীন সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতা বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্য ছিলেন একজন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ও প্রাক্তন বিচারপতি। তার মাতা চিত্রা ভট্টাচার্য বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৭৫ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে যান। মস্কোর পেখানভ জাতীয় অর্থনীতি ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮০ সালে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৮৪ সালে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৯১–১৯৯২ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কুইন এলিজাবেথ ভবনে তিনি উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম আর্থ-সামাজিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান “নীতিসংলাপ কেন্দ্র”-এর সম্মাননীয় সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে তিনি প্রায় চৌদ্দ বছর বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকর্মী হিসেবে কাজ করেন।

২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি জেনেভা ও ভিয়েনায় অবস্থিত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহের সমন্বয়ক হিসেবেও কাজ করেন।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশসমূহের চতুর্থ সম্মেলনের প্রস্তুতিতে তিনি বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটির সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির উপদেষ্টা কমিটি ব্যাংকিং খাত সংস্কার কমিটি ,পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক কমিশনের উপদেষ্টা কমিটি,পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অর্থনীতিবিদ পরিষদ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গ্যাস সম্পদ ব্যবহার সংক্রান্ত কমিটি,এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন।

তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৯৯৯ সালের শিল্পনীতির খসড়া প্রস্তুত করেন এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন নগরীতে অবস্থিত বৈশ্বিক উন্নয়ন বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং জাপানের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অতিথি গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি কোস্টারিকা, তানজানিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং নেপালসহ বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন।বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক চিন্তাকেন্দ্র নেটওয়ার্ক “সাউদার্ন ভয়েস”-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের স্ত্রী ড. ইরিনা ভট্টাচার্য একজন অর্থনীতিবিদ এবং “বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্য ও চিত্রা ভট্টাচার্য ট্রাস্ট”-এর প্রধান নির্বাহী।তাদের একমাত্র কন্যা আলেকজান্দ্রা ভট্টাচার্য একজন মেধাস্বত্ব আইন বিশেষজ্ঞ এবং বর্তমানে জেনেভায় কর্মরত।

গুণী, অদম্য মেধাবী ও নানাবিধ অভিজ্ঞতার সমাহারে যে মানুষটি তিলে তিলে নিজেকে গড়ে তুলেছে তিনি শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয় বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সমাদৃত ও সম্মানীয় স্থান দখল করে আছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

ড.দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অদম্য মেধাবী ও আধুনিক অর্থনীতিবিদের এক অনুকরণীয় অনুপ্রেরণা।

আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ১৯৫৬ সালের ২৯ এপ্রিল তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার টাঙ্গাইল মহকুমার(বর্তমান জেলা) কালিহাতীর এলেঙ্গা অঞ্চলের একটি প্রাচীন সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতা বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্য ছিলেন একজন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ও প্রাক্তন বিচারপতি। তার মাতা চিত্রা ভট্টাচার্য বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৭৫ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে যান। মস্কোর পেখানভ জাতীয় অর্থনীতি ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮০ সালে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৮৪ সালে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৯১–১৯৯২ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কুইন এলিজাবেথ ভবনে তিনি উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম আর্থ-সামাজিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান “নীতিসংলাপ কেন্দ্র”-এর সম্মাননীয় সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে তিনি প্রায় চৌদ্দ বছর বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকর্মী হিসেবে কাজ করেন।

২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি জেনেভা ও ভিয়েনায় অবস্থিত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহের সমন্বয়ক হিসেবেও কাজ করেন।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশসমূহের চতুর্থ সম্মেলনের প্রস্তুতিতে তিনি বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটির সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির উপদেষ্টা কমিটি ব্যাংকিং খাত সংস্কার কমিটি ,পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক কমিশনের উপদেষ্টা কমিটি,পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অর্থনীতিবিদ পরিষদ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গ্যাস সম্পদ ব্যবহার সংক্রান্ত কমিটি,এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন।

তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৯৯৯ সালের শিল্পনীতির খসড়া প্রস্তুত করেন এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন নগরীতে অবস্থিত বৈশ্বিক উন্নয়ন বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং জাপানের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অতিথি গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি কোস্টারিকা, তানজানিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং নেপালসহ বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন।বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক চিন্তাকেন্দ্র নেটওয়ার্ক “সাউদার্ন ভয়েস”-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের স্ত্রী ড. ইরিনা ভট্টাচার্য একজন অর্থনীতিবিদ এবং “বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্য ও চিত্রা ভট্টাচার্য ট্রাস্ট”-এর প্রধান নির্বাহী।তাদের একমাত্র কন্যা আলেকজান্দ্রা ভট্টাচার্য একজন মেধাস্বত্ব আইন বিশেষজ্ঞ এবং বর্তমানে জেনেভায় কর্মরত।

গুণী, অদম্য মেধাবী ও নানাবিধ অভিজ্ঞতার সমাহারে যে মানুষটি তিলে তিলে নিজেকে গড়ে তুলেছে তিনি শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয় বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সমাদৃত ও সম্মানীয় স্থান দখল করে আছে।