ঢাকা ০১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বিসিক এর জিএম,পিডি মোঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? মোহনা টিভির চেয়ারম্যান,এমডি কারাগারে, মব গোষ্ঠির দখলে মোহনা টিভি!  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনীত হলেন হেলেন জেরিন খান। মাগুরায় শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন সহ ৪ জনের নামে সাংবাদিকের মামলা দায়ের! অসীম ক্ষমতাধর মাসুদুল ইসলাম একসাথে পাঁচ পদের দায়িত্বে।  বিআইডব্লিউটিএ’ র বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। দেশের জ্বালানী ও অর্থনীতি সংকটেও বিআইডব্লিউটিএতে বিলাসী বনভোজনের নামে অর্থ ও জ্বালানি অপচয়ে মনোরঞ্জন।  বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীপুর সাংবাদিক সমিতির ফ্যামিলি ডে ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। “যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত”—মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বাধীনতা পদক–২০২৬ ও সাহিত্য সম্মাননা প্রদান। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া রসুলবাগ ‘চাক্তাই ডাইভারশন খালটি’ সংস্কার জরুরী। আমতলীতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকারে, বিপাকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা।

হামের উপসর্গে শিশু ভর্তি বাড়ছে, চমেকে চিকিৎসাধীন ৩৩।

চট্টগ্রামে হঠাৎ করেই হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গতকাল ৩১ মার্চ একদিনেই হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ২৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

এ নিয়ে বর্তমানে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। এর মধ্যে কয়েকজন শিশু ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি ছিল ৩৩ জন শিশু। এদের অধিকাংশই হামের টিকা নেয়নি। ইতোমধ্যে ৭ জনের শরীরে হাম এবং একজনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে গত সোমবার রাতে কক্সবাজার থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাড়ে ৫ মাস বয়সী আয়েশা সিদ্দিকা নামের এক শিশু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে শিশুটির মৃত্যু হামে হয়েছে কিনা।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, নগর এলাকা থেকে গতকাল ৬ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরি-তে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে নগর থেকে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে ১৫টি উপজেলা থেকে গতকাল ১০ জন শিশুর নমুনা পাঠানো হয়। উপজেলাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৯১ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ জন শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের বেশিরভাগই হামের টিকা নেয়নি। এছাড়া কয়েকজন শিশু এক ডোজ টিকা নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার পূর্ণ দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও কয়েকজন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে শূন্য থেকে ছয় মাস বয়সী রয়েছে ৭ জন, সাত থেকে নয় মাস বয়সী ৭ জন, ১০ মাস থেকে এক বছরের ৪ জন, দুই থেকে পাঁচ বছরের ১৩ জন এবং ছয় থেকে ১০ বছরের ২ জন।

পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পাওয়া তিন শিশুর বয়স যথাক্রমে দেড় বছর, দুই বছর ও ৮ বছর। এক ডোজ টিকা নিয়েছে ৯ জন। এছাড়া ২১ জন শিশু কোনো টিকাই নেয়নি। এদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স দুই থেকে নয় মাস।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ মাস বয়সী এক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের বয়স ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে আসছে তাদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯১ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। গতকালই ১৬ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার থেকে আসা যে শিশুটি মারা গেছে তার রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ শিশু টিকা নেয়নি। আবার কিছু শিশুর টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি বা এক ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। কোনো টিকার কার্যকারিতা শতভাগ নয়। টিকা নেওয়ার পরও কখনো কখনো শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি না হলে রোগ দেখা দিতে পারে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিক এর জিএম,পিডি মোঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?

হামের উপসর্গে শিশু ভর্তি বাড়ছে, চমেকে চিকিৎসাধীন ৩৩।

আপডেট সময় : ১০:০৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে হঠাৎ করেই হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গতকাল ৩১ মার্চ একদিনেই হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ২৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

এ নিয়ে বর্তমানে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। এর মধ্যে কয়েকজন শিশু ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি ছিল ৩৩ জন শিশু। এদের অধিকাংশই হামের টিকা নেয়নি। ইতোমধ্যে ৭ জনের শরীরে হাম এবং একজনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে গত সোমবার রাতে কক্সবাজার থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাড়ে ৫ মাস বয়সী আয়েশা সিদ্দিকা নামের এক শিশু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে শিশুটির মৃত্যু হামে হয়েছে কিনা।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, নগর এলাকা থেকে গতকাল ৬ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরি-তে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে নগর থেকে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে ১৫টি উপজেলা থেকে গতকাল ১০ জন শিশুর নমুনা পাঠানো হয়। উপজেলাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৯১ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ জন শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের বেশিরভাগই হামের টিকা নেয়নি। এছাড়া কয়েকজন শিশু এক ডোজ টিকা নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার পূর্ণ দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও কয়েকজন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে শূন্য থেকে ছয় মাস বয়সী রয়েছে ৭ জন, সাত থেকে নয় মাস বয়সী ৭ জন, ১০ মাস থেকে এক বছরের ৪ জন, দুই থেকে পাঁচ বছরের ১৩ জন এবং ছয় থেকে ১০ বছরের ২ জন।

পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পাওয়া তিন শিশুর বয়স যথাক্রমে দেড় বছর, দুই বছর ও ৮ বছর। এক ডোজ টিকা নিয়েছে ৯ জন। এছাড়া ২১ জন শিশু কোনো টিকাই নেয়নি। এদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স দুই থেকে নয় মাস।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ মাস বয়সী এক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের বয়স ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে আসছে তাদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯১ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। গতকালই ১৬ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার থেকে আসা যে শিশুটি মারা গেছে তার রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ শিশু টিকা নেয়নি। আবার কিছু শিশুর টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি বা এক ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। কোনো টিকার কার্যকারিতা শতভাগ নয়। টিকা নেওয়ার পরও কখনো কখনো শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি না হলে রোগ দেখা দিতে পারে।