মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরগুনায় ১৮৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় জেলার সরকারি, এমপিও ও নন-এমপিওভুক্ত ১৮৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৮৮ জন প্রধান শিক্ষক অংশ নেন। সভায় মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, পাঠদানের আধুনিক কৌশল, নৈতিক শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং ফলাফল উন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বরগুনার পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কালচারাল অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।
সভায় জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার বলেন,
“শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। মাধ্যমিক স্তরকে শক্তিশালী করতে পারলেই আমরা একটি দক্ষ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারবো। কোনো শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে কম্প্রিহেনসিভ লেসন প্ল্যান অনুযায়ী পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পনাবিহীন পাঠদান কখনোই গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন,
“যেসব শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে, তাদের শনাক্ত করে নিরাময় (Remedial) ক্লাসের মাধ্যমে অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে। শিক্ষকরা যদি আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে শিক্ষার মান এবং পাশের হার—দুই-ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষকরাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারেন। জেলা প্রশাসন এ কাজে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।”
সভায় পুলিশ সুপার শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পর নিয়মিত পড়ার টেবিলে বসে এবং মাদকসহ সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকে।
সিভিল সার্জন হাম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৭২ ঘণ্টার বেশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিদ্যালয়ের প্রতিদিনের অ্যাসেম্বলিতে “মাদককে না বলুন” স্লোগান সমস্বরে পাঠ করানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারী প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়া কমানো, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আরও উন্নত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বরগুনা জেলা প্রতিনিধি 




















