ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কোটচাঁদপুরে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: এলজিইডি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরাবতা। নেত্রকোনায় বাজারে ফাঁকা গুলি,নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে তাঁতীদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ স্ত্রীর বাড়তি ভাড়া আদায় করেও কচ্ছপগতি: ‘কর্ণফুলী-১১’ লঞ্চে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও ক্ষোপ অনৈতিক শিক্ষা কখনো একটা ভাল জাতি উপহার দিতে পারেনা-অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান এমপি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানী ও বৈষম্যের প্রতিবাদে চার মৌজাবাসীর মানববন্ধন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানী ও বৈষম্যের লিংক রোডে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক তেরখাদায় দলীয় সুবিধা বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা পীরগঞ্জে ইয়াবা-ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন? ‎

গণপূর্তে ‘একচ্ছত্র সম্রাট’ বদরুল ! অভিযোগে বিস্ফোরণ, ভেতরে ক্ষোভের আগুন !

 

রাষ্ট্রের অবকাঠামো উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু—গণপূর্ত অধিদপ্তর। অথচ সেই দপ্তরই এখন অভিযোগের পাহাড়ে চাপা পড়ে দিশেহারা! আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে এক নাম—তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।

 

শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য—ক্ষমতার জোরে ? দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের বাইরে গিয়ে বদরুল আলম খান গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট-প্লট, গ্রামে বাংলো, খামারবাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স—সব মিলিয়ে যেন এক ‘গোপন সাম্রাজ্য’। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—এই সম্পদের উৎস কোথায়?

 

সিন্ডিকেটের জালে বন্দী গণপূর্ত ? দপ্তরের ভেতরের সূত্র বলছে, বদরুল আলম খানের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা থেকে ঢাকার প্রভাবশালী ঠিকাদার—সবাই নাকি এই নেটওয়ার্কে যুক্ত । দাবি উঠেছে, টেন্ডার যেন আর প্রতিযোগিতার নয়—বরং ‘নির্বাচিতদের জন্য সংরক্ষিত ক্ষেত্র’!

ফোনেই ঠিকাদার ঠিক !

অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন ডিভিশনের প্রকৌশলীদের ফোন করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চাপ দেওয়া হয়। মিরপুর, ভাষানটেকসহ একাধিক প্রকল্পে ‘পছন্দের ঠিকাদার’ বসানোর চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগও ঘুরছে দপ্তরের ভেতরে।

রাজনৈতিক রঙ বদলে টিকে থাকার কৌশল ? ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এক বলয়ে, পরে আরেক বলয়ে—এমন অভিযোগও এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ক্ষমতার পালাবদল হলেও বদরুলের অবস্থান নড়েনি, বরং আরও শক্ত হয়েছে।

পর্দার আড়ালে ব্যবসা ?

সরকারি চাকরির পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের নামে ডেভেলপার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে এটি সরাসরি স্বার্থের সংঘাত—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়োগে লাখ টাকার খেলা ?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন—নিয়োগের নামে জনপ্রতি ১০-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যদিও কাজ না হওয়ায় কেউ কেউ টাকা ফেরতও পেয়েছেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে!

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ !

এক তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, টেন্ডার ফাঁস—এসব নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব দাবির কোনো স্বাধীন যাচাই এখনো হয়নি।

বদরুলের জবাব : সব অভিযোগ অস্বীকার করে বদরুল আলম খান বলেছেন,“আমি ভালো কাজ করছি বলেই একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।”প্রশ্ন এখন একটাই— গণপূর্ত অধিদপ্তর কি এই অভিযোগের জট খুলে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারবে?নাকি ‘অদৃশ্য ক্ষমতার’ ছায়ায় আরও গভীরে ডুবে যাবে ?

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটচাঁদপুরে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: এলজিইডি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরাবতা।

গণপূর্তে ‘একচ্ছত্র সম্রাট’ বদরুল ! অভিযোগে বিস্ফোরণ, ভেতরে ক্ষোভের আগুন !

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

 

রাষ্ট্রের অবকাঠামো উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু—গণপূর্ত অধিদপ্তর। অথচ সেই দপ্তরই এখন অভিযোগের পাহাড়ে চাপা পড়ে দিশেহারা! আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে এক নাম—তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।

 

শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য—ক্ষমতার জোরে ? দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের বাইরে গিয়ে বদরুল আলম খান গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট-প্লট, গ্রামে বাংলো, খামারবাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স—সব মিলিয়ে যেন এক ‘গোপন সাম্রাজ্য’। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—এই সম্পদের উৎস কোথায়?

 

সিন্ডিকেটের জালে বন্দী গণপূর্ত ? দপ্তরের ভেতরের সূত্র বলছে, বদরুল আলম খানের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা থেকে ঢাকার প্রভাবশালী ঠিকাদার—সবাই নাকি এই নেটওয়ার্কে যুক্ত । দাবি উঠেছে, টেন্ডার যেন আর প্রতিযোগিতার নয়—বরং ‘নির্বাচিতদের জন্য সংরক্ষিত ক্ষেত্র’!

ফোনেই ঠিকাদার ঠিক !

অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন ডিভিশনের প্রকৌশলীদের ফোন করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চাপ দেওয়া হয়। মিরপুর, ভাষানটেকসহ একাধিক প্রকল্পে ‘পছন্দের ঠিকাদার’ বসানোর চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগও ঘুরছে দপ্তরের ভেতরে।

রাজনৈতিক রঙ বদলে টিকে থাকার কৌশল ? ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এক বলয়ে, পরে আরেক বলয়ে—এমন অভিযোগও এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ক্ষমতার পালাবদল হলেও বদরুলের অবস্থান নড়েনি, বরং আরও শক্ত হয়েছে।

পর্দার আড়ালে ব্যবসা ?

সরকারি চাকরির পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের নামে ডেভেলপার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে এটি সরাসরি স্বার্থের সংঘাত—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়োগে লাখ টাকার খেলা ?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন—নিয়োগের নামে জনপ্রতি ১০-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যদিও কাজ না হওয়ায় কেউ কেউ টাকা ফেরতও পেয়েছেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে!

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ !

এক তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, টেন্ডার ফাঁস—এসব নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব দাবির কোনো স্বাধীন যাচাই এখনো হয়নি।

বদরুলের জবাব : সব অভিযোগ অস্বীকার করে বদরুল আলম খান বলেছেন,“আমি ভালো কাজ করছি বলেই একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।”প্রশ্ন এখন একটাই— গণপূর্ত অধিদপ্তর কি এই অভিযোগের জট খুলে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারবে?নাকি ‘অদৃশ্য ক্ষমতার’ ছায়ায় আরও গভীরে ডুবে যাবে ?