ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে মহা মিছিল, ধর্মতলা উত্তাল।  ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হলো পবিত্র উল্টো রথযাত্রা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। রাউজান ফকিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উল্টো রথযাত্রা সম্পন্ন। রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি বনাম জবাবদিহি: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮, ৫০, ৫১, ৫২ ও ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি সাংবিধানিক বিশ্লেষণ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বাংলাদেশের সাংবিধানিক উত্তরণ: ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

নবীনগরে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট, হুমকির মুখে ফসলি জমি ও খাদ্য নিরাপত্তা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও আমতলী গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় আবাদি কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে।

কৃষিজমি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ এবং সেখানে স্থাপনা তৈরির প্রস্তুতির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উর্বর ফসলি জমির বুক চিরে মাটি ভরাট করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি থাকলেও সেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও স্থাপনা তৈরি করা হলে ওই জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এছাড়া বালু ভরাট এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতায় পড়ে আশপাশের বহু কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছে না। কৃষিজমি এভাবে বেদখল ও ধ্বংস হতে থাকলে একসময় এলাকায় চাষাবাদের অযোগ্য জমি বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ফসলি জমি এভাবে ধ্বংস হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকদের দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন এই অবৈধ মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

কৃষিজমি রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নবীনগর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে!

নবীনগরে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট, হুমকির মুখে ফসলি জমি ও খাদ্য নিরাপত্তা।

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও আমতলী গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় আবাদি কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে।

কৃষিজমি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ এবং সেখানে স্থাপনা তৈরির প্রস্তুতির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উর্বর ফসলি জমির বুক চিরে মাটি ভরাট করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি থাকলেও সেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও স্থাপনা তৈরি করা হলে ওই জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এছাড়া বালু ভরাট এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতায় পড়ে আশপাশের বহু কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছে না। কৃষিজমি এভাবে বেদখল ও ধ্বংস হতে থাকলে একসময় এলাকায় চাষাবাদের অযোগ্য জমি বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ফসলি জমি এভাবে ধ্বংস হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকদের দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন এই অবৈধ মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

কৃষিজমি রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নবীনগর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।