ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি। মুছাপুরে নদীভাঙন আতঙ্ক, জিওব্যাগ ও স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন। ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুর পাশে জেলা প্রশাসন, চিকিৎসার ব্যয় বহনের আশ্বাস। ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার ড্রেনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট-সার জব্দ, ২২ পাচারকারী আটক। নর্থ ওয়েস্ট ওভারসীজ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সরকারি নির্দেশনা অমান্য। দিনাজপুরে তৈয়বা মজুমদার রেড ক্রিসেন্ট রক্তকেন্দ্রে সাড়ে ৪ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি হস্তান্তর। প্রধানমন্ত্রীর সফরে পাথর নিক্ষেপ: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতি চ্যালেঞ্জ। বদলি বাণিজ্য’ নাকি প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখলের ব্লু-প্রিন্ট ? গণপূর্তে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে নতুন বিস্ফোরণ!

নবীনগরে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট, হুমকির মুখে ফসলি জমি ও খাদ্য নিরাপত্তা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও আমতলী গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় আবাদি কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে।

কৃষিজমি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ এবং সেখানে স্থাপনা তৈরির প্রস্তুতির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উর্বর ফসলি জমির বুক চিরে মাটি ভরাট করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি থাকলেও সেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও স্থাপনা তৈরি করা হলে ওই জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এছাড়া বালু ভরাট এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতায় পড়ে আশপাশের বহু কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছে না। কৃষিজমি এভাবে বেদখল ও ধ্বংস হতে থাকলে একসময় এলাকায় চাষাবাদের অযোগ্য জমি বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ফসলি জমি এভাবে ধ্বংস হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকদের দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন এই অবৈধ মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

কৃষিজমি রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নবীনগর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা।

নবীনগরে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট, হুমকির মুখে ফসলি জমি ও খাদ্য নিরাপত্তা।

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও আমতলী গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় আবাদি কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে।

কৃষিজমি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ এবং সেখানে স্থাপনা তৈরির প্রস্তুতির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উর্বর ফসলি জমির বুক চিরে মাটি ভরাট করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি থাকলেও সেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও স্থাপনা তৈরি করা হলে ওই জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এছাড়া বালু ভরাট এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতায় পড়ে আশপাশের বহু কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছে না। কৃষিজমি এভাবে বেদখল ও ধ্বংস হতে থাকলে একসময় এলাকায় চাষাবাদের অযোগ্য জমি বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ফসলি জমি এভাবে ধ্বংস হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকদের দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন এই অবৈধ মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

কৃষিজমি রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নবীনগর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।