চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ মজুমদার ও তার পুত্র শাহেদ । কামাল আহমেদ মজুমদার এমডি জেলে আটক থাকার সুযোগ নিয়ে বেসরকারী মোহনা টেলিভিশনে অরাজকতা দেখা দিয়েছে। নিয়োগপত্র ছাড়াই বিভিন্ন জেলায় অনলাইন প্রতিনিধিদের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র (আইডিকার্ড) প্রদান করা হয়েছে বলে একটি অভ্যন্তরীন চিঠিতে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ওই চিঠি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একটি জাতীয় টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এক অফিসিয়াল চিঠিতে বলা হয়েছে, তৎকালীন সময়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে কয়েকজন অনলাইন প্রতিনিধিকে নিয়োগপত্র ছাড়াই কাজ শুরু করতে বলা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন-২০২৬ এর সংবাদ সংগ্রহ ও কাভারেজের স্বার্থে তাদের অফিসিয়াল আইডি কার্ডও সরবরাহ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সিনিয়র নিউজ এডিটরের মৌখিক নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে তিনজন অনলাইন প্রতিনিধির জন্য অফিস থেকে আইডি কার্ড প্রিন্ট করে দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে পরবর্তীতে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্থ করা হয়েছিল।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, কোনো নিয়োগপত্র ছাড়াই কীভাবে একজন ব্যক্তি একটি জাতীয় টেলিভিশনের পরিচয়পত্র ব্যবহার করেন? প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও মানবসম্পদ নীতিমালায় কি এমন কোনো বিধান রয়েছে? আর যদি না থাকে, তাহলে কার নির্দেশে এবং কোন কর্তৃত্বে এসব আইডি কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল?
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, জাতীয় নির্বাচন চলাকালে নির্বাহী পরিচালকের নির্দেশে তার ছেলেকে ভোটকেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহের জন্য অস্থায়ীভাবে একটি অফিসিয়াল আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাকে “সিনিয়র রিপোর্টার” পরিচয়ে আইডি কার্ড প্রদান করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ ছাড়াই পরিচয়পত্র বিতরণ এবং প্রতিষ্ঠানের বাইরের কাউকে সাংবাদিক পরিচয়ে মাঠে পাঠানো হলে তা নৈতিকতা ও পেশাগত মানদন্ড নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
এর আগে মোহনা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক সংকট এবং অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই নতুন এই চিঠি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, মোহনা টেলিভিশনে প্রকৃতপক্ষে নিয়োগ ও পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে? মৌখিক নির্দেশে আইডি কার্ড বিতরণের দায় কে নেবে? এবং এসব ঘটনায় কোনো অভ্যন্তরীন তদন্ত হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















