ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে মহা মিছিল, ধর্মতলা উত্তাল।  ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হলো পবিত্র উল্টো রথযাত্রা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। রাউজান ফকিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উল্টো রথযাত্রা সম্পন্ন। রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি বনাম জবাবদিহি: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮, ৫০, ৫১, ৫২ ও ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি সাংবিধানিক বিশ্লেষণ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বাংলাদেশের সাংবিধানিক উত্তরণ: ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকে স্ক্র্যাপ জাহাজ, সংকটে শিপব্রেকিং শিল্প।

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে চট্টগ্রামে ভাঙার জন্য আমদানি করা একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজ আটকে গেছে। ফলে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং এটি ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি আমদানি করেছে শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন এসএন করপোরেশন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পরে জানাজানি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাহাজটি আর বিচিং করা হবে না। নিষেধাজ্ঞার তথ্য আগে জানা গেলে প্রতিষ্ঠানটি এটি কিনত না। বর্তমানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

গত ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাহাজটি ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে অংশ নিয়েছিল। একই সঙ্গে এর নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটির স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ। নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি ভাঙা সম্ভব না হওয়ায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি বিবেচনায় জাহাজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই না করলে দেশের শিপব্রেকিং শিল্প ভবিষ্যতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে!

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকে স্ক্র্যাপ জাহাজ, সংকটে শিপব্রেকিং শিল্প।

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে চট্টগ্রামে ভাঙার জন্য আমদানি করা একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজ আটকে গেছে। ফলে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং এটি ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি আমদানি করেছে শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন এসএন করপোরেশন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পরে জানাজানি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাহাজটি আর বিচিং করা হবে না। নিষেধাজ্ঞার তথ্য আগে জানা গেলে প্রতিষ্ঠানটি এটি কিনত না। বর্তমানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

গত ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাহাজটি ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে অংশ নিয়েছিল। একই সঙ্গে এর নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটির স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ। নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি ভাঙা সম্ভব না হওয়ায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি বিবেচনায় জাহাজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই না করলে দেশের শিপব্রেকিং শিল্প ভবিষ্যতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।