ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪০০ বোতল বিদেশি মদ জব্দ। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভাড়া বাসা থেকে পিকআপ চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার। এক মাসের সন্মানী ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করলেন প্রধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিলে এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলন। নিষিদ্ধ সময়ে সুন্দরবনের বিষযুক্ত ১৫০ কেজি চিংড়ি সহ নৌকা জব্দ। কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক নির্বাচিত হলেন মোঃ খসরুজ্জামান (জি. এস. শরীফ)। রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের বার্ষিক আনন্দভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কাপাসিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়লো ৮ দোকান ও বসতবাড়ি, ক্ষয়ক্ষতি কোটি টাকা। চারঘাটে ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার। সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় বেরিয়ে এলো ‘থলের বিড়াল’ • তদন্তে দোষী সাব্যস্ত এসি ল্যান্ডের শাস্তিমূলক বদলি। রাজশাহীতে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ*  হুমকির মুখে ভুক্তভোগী, চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষঃ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মানছেন না বিসিক চেয়ারম্যান!

প্রধানমন্ত্রীর জারিকৃত অনুশাসন মানছেন না বিসিক চেয়ারম্যান। তিনি তার খেয়াল খুশিমত একটার পর একটা আদেশ জারি করছেন। সৃষ্টি করছেন প্রশাসনিক জটিলতা। তার এহেন কর্মকান্ডে বিসিকে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

জানাগেছে, বিসিক পরিচালক প্রশাসন মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ১১ জুন ২০২৬ তারিখের বরাতে জারীকৃত এবং ০২ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিসিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অফিস আদেশ স্মারক নং-৪৯৩৫ এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন এবং সরকারের নির্দেশনার বরখেলাপ করে একটি প্রশ্নবিদ্ধ অফিস আদেশ জারী করা হয়েছে। জারীকৃত আদেশে বিসিক চেয়ারম্যান এবং বিসিক পরিচালক প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন এবং সরকারী নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

জারীকৃত অফিস আদেশে উলে¬খ করা হয়েছে-“বিসিকের চলমান প্রকল্প সমূহের মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত আছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এখন থেকেই নিবিড় তদারকীকরণ প্রয়োজন। তৎপ্রেক্ষিতে অপরিহার্য কারণ ব্যতীত কর্মস্থলে অবস্থান করে নিবিড় তদারকীর মাধ্যমে স্ব স্ব প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য প্রকল্প পরিচালকগণকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো”। অফিস আদেশ জারীর অনুমোদনকারী বিসিক চেয়ারম্যান এবং অফিস আদেশে স্বাক্ষরকারী বিসিক পরিচালক (প্রশাসন) প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও অনুসরনীয় বিষয়াদির ব্যাপারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তারিখের জারীকৃত নির্দেশনা অবমাননা করেছেন এবং তাদের ইচ্ছামতো ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিবিড় তদারকীর বিষয়ে উলে¬খ করে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন এবং বিদ্যমান নীতিমালা অগ্রাহ্য করেছেন। বিসিক কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কাজে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের ফ্যাসিবাদী আচরণের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুচারু ও সময়মতো বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় আবশ্যিকভাবে সার্বক্ষণিক অবস্থান করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন । তিনি ঢাকায় বসে প্রকল্প পরিচালনার প্রবণতা পরিহার করতে এবং প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত থাকার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

প্রকল্প পরিচালকদের দায়িত্ব পালন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের মূল দিকগুলো হলো:

মাঠ পর্যায়ে উপস্থিতি: প্রকল্প পরিচালকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে (প্রকল্প এলাকায়) থাকতে হবে। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তদারকি ও ত্বরান্বিত করতে এটি অত্যন্ত জরুরি।

ঢাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ: গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছাড়া প্রকল্প পরিচালকরা ঢাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। প্রকল্প এলাকায় সশরীরে উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা এই অনুশাসনের প্রধান লক্ষ্য ।

ঘন ঘন পরিদর্শন: প্রকল্প এলাকায় ঠিকমতো কাজ হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য সংশি¬ষ্ট

মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদেরও নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পদক্ষেপ ও মনিটরিং: প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো গাফিলতি হলে বা প্রকল্প পরিচালক এলাকায় অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

 

বিসিক চেয়ারম্যান তথা বিসিক কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অনুশাসন অগ্রাহ্য করে তার নিজের মতো করে নির্দেশনা জারী করানোর এখতিয়ার সম্পন্ন ব্যক্তি নন মর্মে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

সরকারের বিদ্যমান নিয়মের বরখেলাপ করণ এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অগ্রাহ্য করার কারণে বিসিকের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসাবে শিল্প মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনসংগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিসিকের উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালকগণকে প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করে প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা প্রদান সময়ের দাবী।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪০০ বোতল বিদেশি মদ জব্দ।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষঃ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মানছেন না বিসিক চেয়ারম্যান!

আপডেট সময় : ০৭:১৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর জারিকৃত অনুশাসন মানছেন না বিসিক চেয়ারম্যান। তিনি তার খেয়াল খুশিমত একটার পর একটা আদেশ জারি করছেন। সৃষ্টি করছেন প্রশাসনিক জটিলতা। তার এহেন কর্মকান্ডে বিসিকে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

জানাগেছে, বিসিক পরিচালক প্রশাসন মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ১১ জুন ২০২৬ তারিখের বরাতে জারীকৃত এবং ০২ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিসিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অফিস আদেশ স্মারক নং-৪৯৩৫ এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন এবং সরকারের নির্দেশনার বরখেলাপ করে একটি প্রশ্নবিদ্ধ অফিস আদেশ জারী করা হয়েছে। জারীকৃত আদেশে বিসিক চেয়ারম্যান এবং বিসিক পরিচালক প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন এবং সরকারী নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

জারীকৃত অফিস আদেশে উলে¬খ করা হয়েছে-“বিসিকের চলমান প্রকল্প সমূহের মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত আছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এখন থেকেই নিবিড় তদারকীকরণ প্রয়োজন। তৎপ্রেক্ষিতে অপরিহার্য কারণ ব্যতীত কর্মস্থলে অবস্থান করে নিবিড় তদারকীর মাধ্যমে স্ব স্ব প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য প্রকল্প পরিচালকগণকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো”। অফিস আদেশ জারীর অনুমোদনকারী বিসিক চেয়ারম্যান এবং অফিস আদেশে স্বাক্ষরকারী বিসিক পরিচালক (প্রশাসন) প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও অনুসরনীয় বিষয়াদির ব্যাপারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তারিখের জারীকৃত নির্দেশনা অবমাননা করেছেন এবং তাদের ইচ্ছামতো ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিবিড় তদারকীর বিষয়ে উলে¬খ করে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন এবং বিদ্যমান নীতিমালা অগ্রাহ্য করেছেন। বিসিক কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কাজে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের ফ্যাসিবাদী আচরণের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুচারু ও সময়মতো বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় আবশ্যিকভাবে সার্বক্ষণিক অবস্থান করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন । তিনি ঢাকায় বসে প্রকল্প পরিচালনার প্রবণতা পরিহার করতে এবং প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত থাকার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

প্রকল্প পরিচালকদের দায়িত্ব পালন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের মূল দিকগুলো হলো:

মাঠ পর্যায়ে উপস্থিতি: প্রকল্প পরিচালকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে (প্রকল্প এলাকায়) থাকতে হবে। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তদারকি ও ত্বরান্বিত করতে এটি অত্যন্ত জরুরি।

ঢাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ: গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছাড়া প্রকল্প পরিচালকরা ঢাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। প্রকল্প এলাকায় সশরীরে উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা এই অনুশাসনের প্রধান লক্ষ্য ।

ঘন ঘন পরিদর্শন: প্রকল্প এলাকায় ঠিকমতো কাজ হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য সংশি¬ষ্ট

মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদেরও নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পদক্ষেপ ও মনিটরিং: প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো গাফিলতি হলে বা প্রকল্প পরিচালক এলাকায় অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

 

বিসিক চেয়ারম্যান তথা বিসিক কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অনুশাসন অগ্রাহ্য করে তার নিজের মতো করে নির্দেশনা জারী করানোর এখতিয়ার সম্পন্ন ব্যক্তি নন মর্মে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

সরকারের বিদ্যমান নিয়মের বরখেলাপ করণ এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অগ্রাহ্য করার কারণে বিসিকের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসাবে শিল্প মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনসংগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিসিকের উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালকগণকে প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করে প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা প্রদান সময়ের দাবী।