ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি: স্পেনের সোনালি উত্থান, আর্জেন্টিনার অশ্রু, মেসির উত্তরাধিকার এবং ফুটবলের অনন্ত মহাকাব্য। বিশ্বকাপের মহারণ: স্পেন না আর্জেন্টিনা—কার হাতে উঠবে ফুটবলের স্বপ্নের ট্রফি? চট্টগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে আলোর পথে ফাউন্ডেশন পঞ্চগড় এর ত্রাণ বিতরণ। ডিবির হাতে যৌন উত্তেজক সিরাপসহ ১’জন গ্রেফতার। ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার রায়: ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ জনের যাবজ্জীবন। স্বাধীন বেলুচিস্তানের স্বপ্ন, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বর্তমান বাস্তবতায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভবিতব্য: একটি গভীর পর্যালোচনা। রাজউকের তেলেসমাতি কারবার! পাবনা গণপূর্তে কোটি টাকার বিল বিতর্ক: নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবিরকে ঘিরে : দুর্নীতির অভিযোগ, দেশত্যাগের শঙ্কা। চট্টগ্রাম বন্দরে গ্যান্ট্রি ক্রেনের ক্যাবল ছিঁড়ে দুমড়ে মুচড়ে গেছে ট্রেইলার ও কন্টেইনার। মাটির মা ফাউন্ডেশন কক্সবাজার জেলা কমিটি আহ্বায়ক মোঃ আলমগীর কবির আযাদ ও সদস্য সচিব মোঃ আলী আজম। 

ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার রায়: ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ জনের যাবজ্জীবন।

প্রায় ১৫ বছর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘটিত বহুল আলোচিত একটি শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডিতদের অর্থদণ্ড এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে তাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

রোববার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় অনুযায়ী, মো. আনিস রানা, সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে মো. আনিছুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী বান্ধবীর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন। পরে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কয়েকদিন পর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় দেড় দশক পর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

 

রায় ঘোষণার সময় আমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিস রানা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। উপস্থিত দণ্ডিতদের সাজা কার্যকরের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি: স্পেনের সোনালি উত্থান, আর্জেন্টিনার অশ্রু, মেসির উত্তরাধিকার এবং ফুটবলের অনন্ত মহাকাব্য।

ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার রায়: ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ জনের যাবজ্জীবন।

আপডেট সময় : ০৩:৫০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

প্রায় ১৫ বছর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘটিত বহুল আলোচিত একটি শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডিতদের অর্থদণ্ড এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে তাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

রোববার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় অনুযায়ী, মো. আনিস রানা, সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে মো. আনিছুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী বান্ধবীর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন। পরে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কয়েকদিন পর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় দেড় দশক পর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

 

রায় ঘোষণার সময় আমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিস রানা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। উপস্থিত দণ্ডিতদের সাজা কার্যকরের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।