ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
জাত-পাত নয়, মানবতাই হোক পরিচয়: সনাতন ধর্মের সমতার দর্শন। বালিয়াডাঙ্গীতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার। বগুড়া,ডিও লেটার জমা দিতে গিয়ে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে আহত ১। দিনাজপুর কাহারোল সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ। যুবতীর ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ! দুই প্রতারকের বিরদ্ধে মামলা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪০০ বোতল বিদেশি মদ জব্দ। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভাড়া বাসা থেকে পিকআপ চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার। এক মাসের সন্মানী ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করলেন প্রধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিলে এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলন। নিষিদ্ধ সময়ে সুন্দরবনের বিষযুক্ত ১৫০ কেজি চিংড়ি সহ নৌকা জব্দ। কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক নির্বাচিত হলেন মোঃ খসরুজ্জামান (জি. এস. শরীফ)।

সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় বেরিয়ে এলো ‘থলের বিড়াল’ • তদন্তে দোষী সাব্যস্ত এসি ল্যান্ডের শাস্তিমূলক বদলি।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেখিয়ে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর ও সুদূরপ্রসারী দুর্নীতির খতিয়ান ফাঁস হয়েছে। তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এসি ল্যান্ড (ইউএনও) এবং জেলা অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই দুর্নীতির নীল নকশা বাস্তবায়ন করে। পরবর্তীতে এই মেগা দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে গিয়ে দুই টেলিভিশন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে ফেঁসে গেছেন বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জসিম উদ্দিন। রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

 

১ মাস ১০ দিনের ‘তড়িঘড়ি’ নামজারি ও জালিয়াতির ইতিহাস সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ১/১ খতিয়ানভুক্ত (অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত) ১৪ শতাংশ সরকারি খাসজমি হাতিয়ে নিতে ২০১৯ সালে একটি জালিয়াত চক্র মাঠে নামে। পীরগঞ্জ উপজেলার সয়েকপুর মৌজার মৃত শাহাদত হোসেন মন্ডলের দুই পুত্র জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও উমর ফারুক মন্ডলসহ পরিবারের ৬ সদস্য ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এই জমি নামজারির (নামপত্তন) আবেদন করেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জমিটি ১৯৭৮ সালেই (আবেদন নং- ১১৩/৭৮) রামকান্ত সাহার পুত্র পুর্ণ চন্দ্র সাহার নামে ১৩ শতাংশ লিজ প্রদান করা হয়েছিল, যার সুনির্দিষ্ট সরকারি গেজেট রয়েছে। কিন্তু জাহিদুল ইসলামরা ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসের মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে রেজিস্ট্রি হওয়া তিনটি রহস্যজনক দলিল (দলিল নং- ৭১৩, ৭১৪ ও ৭১৫) মূলে মালিকানা দাবি করেন। সরকারি ছুটির দিন বাদে মাত্র ১ মাস ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত নিয়ম নীতি তোয়াক্কা করে তড়িঘড়ি করে এই বিতর্কিত নামজারি সম্পন্ন করা হয়।

 

দুর্নীতির নেপথ্যে যে সিন্ডিকেট :এই সুদূরপ্রসারী দুর্নীতির নীল নকশা তৈরিতে তৎকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি জড়িত ছিলেন:

প্রধান খলনায়ক: তৎকালীন ধাপেরহাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) শামসুল ইসলাম মন্ডল। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনিই প্রথম সরেজমিন ভুয়া তদন্ত দেখিয়ে ২৯/১০/২০১৯ তারিখে নামজারির প্রস্তাব করেন।

সহযোগী (সার্ভেয়ার): তৎকালীন সাদুল্লাপুর এসি ল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আরিফুর রহমান (বর্তমানে সুন্দরগঞ্জ এসি ল্যান্ড অফিসে কর্মরত)। তিনি ১৭/১১/২০১৯ তারিখে এই পর্চায় স্বাক্ষর করেন।

 

চূড়ান্ত অনুমোদনকারী: তৎকালীন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নবীনেওয়াজ**, যিনি এসি ল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ২৯/১১/২০১৯ তারিখে নামজারিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেন। (উল্লেখ্য, তিনি ২০২১ সালে এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কুড়িগ্রামে যোগদান করেন)।

 

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা লুট পরবর্তীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলে সরকার সাদুল্লাপুরের হাসানপাড়া মৌজায় সাড়ে ছয় শতক জমি অধিগ্রহণ করে। দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের তৈরি করা সেই জাল দলিলের ওপর ভিত্তি করেই ,২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর, জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ ,২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা, সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

দুর্নীতির খতিয়ান: সরকারি খাসজমি লিজ থাকার পরও ভুয়া নামজারি সাজিয়ে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প থেকেই ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা তুলে নেয় এই চক্র।

সাদুল্লাপুরের বর্তমান এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিনের এই দুর্নীতির বিষয়ে পরোক্ষ সহযোগিতা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এই বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে যান ,যমুনা টিভির সাংবাদিক জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ, এবং ,সময় টিভির সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু।

 

এ সময় এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তিনি আঙুল উঁচিয়ে অশোভন আচরণ করেন এবং ক্যামেরা ও বুম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে মোবাইল টেবিলে রাখতে বাধ্য করেন। এই লাঞ্ছনার ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

 

সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও দুর্নীতির খবরটি জানাজানি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেয় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। তদন্তে এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ

এরই প্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ এই মেগা দুর্নীতির সাথে জড়িত তহশীলদার শামসুল ইসলাম, সার্ভেয়ার আরিফুর রহমান এবং তৎকালীন ইউএনওসহ পুরো চক্রের বিরুদ্ধে দুদকের (দুদক) মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি টাকা পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

জাত-পাত নয়, মানবতাই হোক পরিচয়: সনাতন ধর্মের সমতার দর্শন।

সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় বেরিয়ে এলো ‘থলের বিড়াল’ • তদন্তে দোষী সাব্যস্ত এসি ল্যান্ডের শাস্তিমূলক বদলি।

আপডেট সময় : ১১:৪৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেখিয়ে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর ও সুদূরপ্রসারী দুর্নীতির খতিয়ান ফাঁস হয়েছে। তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এসি ল্যান্ড (ইউএনও) এবং জেলা অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই দুর্নীতির নীল নকশা বাস্তবায়ন করে। পরবর্তীতে এই মেগা দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে গিয়ে দুই টেলিভিশন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে ফেঁসে গেছেন বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জসিম উদ্দিন। রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

 

১ মাস ১০ দিনের ‘তড়িঘড়ি’ নামজারি ও জালিয়াতির ইতিহাস সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ১/১ খতিয়ানভুক্ত (অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত) ১৪ শতাংশ সরকারি খাসজমি হাতিয়ে নিতে ২০১৯ সালে একটি জালিয়াত চক্র মাঠে নামে। পীরগঞ্জ উপজেলার সয়েকপুর মৌজার মৃত শাহাদত হোসেন মন্ডলের দুই পুত্র জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও উমর ফারুক মন্ডলসহ পরিবারের ৬ সদস্য ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এই জমি নামজারির (নামপত্তন) আবেদন করেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জমিটি ১৯৭৮ সালেই (আবেদন নং- ১১৩/৭৮) রামকান্ত সাহার পুত্র পুর্ণ চন্দ্র সাহার নামে ১৩ শতাংশ লিজ প্রদান করা হয়েছিল, যার সুনির্দিষ্ট সরকারি গেজেট রয়েছে। কিন্তু জাহিদুল ইসলামরা ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসের মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে রেজিস্ট্রি হওয়া তিনটি রহস্যজনক দলিল (দলিল নং- ৭১৩, ৭১৪ ও ৭১৫) মূলে মালিকানা দাবি করেন। সরকারি ছুটির দিন বাদে মাত্র ১ মাস ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত নিয়ম নীতি তোয়াক্কা করে তড়িঘড়ি করে এই বিতর্কিত নামজারি সম্পন্ন করা হয়।

 

দুর্নীতির নেপথ্যে যে সিন্ডিকেট :এই সুদূরপ্রসারী দুর্নীতির নীল নকশা তৈরিতে তৎকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি জড়িত ছিলেন:

প্রধান খলনায়ক: তৎকালীন ধাপেরহাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) শামসুল ইসলাম মন্ডল। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনিই প্রথম সরেজমিন ভুয়া তদন্ত দেখিয়ে ২৯/১০/২০১৯ তারিখে নামজারির প্রস্তাব করেন।

সহযোগী (সার্ভেয়ার): তৎকালীন সাদুল্লাপুর এসি ল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আরিফুর রহমান (বর্তমানে সুন্দরগঞ্জ এসি ল্যান্ড অফিসে কর্মরত)। তিনি ১৭/১১/২০১৯ তারিখে এই পর্চায় স্বাক্ষর করেন।

 

চূড়ান্ত অনুমোদনকারী: তৎকালীন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নবীনেওয়াজ**, যিনি এসি ল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ২৯/১১/২০১৯ তারিখে নামজারিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেন। (উল্লেখ্য, তিনি ২০২১ সালে এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কুড়িগ্রামে যোগদান করেন)।

 

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা লুট পরবর্তীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলে সরকার সাদুল্লাপুরের হাসানপাড়া মৌজায় সাড়ে ছয় শতক জমি অধিগ্রহণ করে। দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের তৈরি করা সেই জাল দলিলের ওপর ভিত্তি করেই ,২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর, জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ ,২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা, সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

দুর্নীতির খতিয়ান: সরকারি খাসজমি লিজ থাকার পরও ভুয়া নামজারি সাজিয়ে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প থেকেই ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা তুলে নেয় এই চক্র।

সাদুল্লাপুরের বর্তমান এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিনের এই দুর্নীতির বিষয়ে পরোক্ষ সহযোগিতা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এই বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে যান ,যমুনা টিভির সাংবাদিক জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ, এবং ,সময় টিভির সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু।

 

এ সময় এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তিনি আঙুল উঁচিয়ে অশোভন আচরণ করেন এবং ক্যামেরা ও বুম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে মোবাইল টেবিলে রাখতে বাধ্য করেন। এই লাঞ্ছনার ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

 

সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও দুর্নীতির খবরটি জানাজানি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেয় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। তদন্তে এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ

এরই প্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ এই মেগা দুর্নীতির সাথে জড়িত তহশীলদার শামসুল ইসলাম, সার্ভেয়ার আরিফুর রহমান এবং তৎকালীন ইউএনওসহ পুরো চক্রের বিরুদ্ধে দুদকের (দুদক) মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি টাকা পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।