ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৫০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ—কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগে তোলপাড়
গণমাধ্যম প্রবেশে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা! অভিযোগের জবাব দিতে অধ্যক্ষের অনীহা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কলেজে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
অভিযোগ রয়েছে, তৃতীয় বর্ষের ভূগোল বিষয়ের চলমান ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনো লিখিত রসিদ ছাড়াই জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এতে মোট প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে—এই অর্থ কোন খাতে নেওয়া হয়েছে, এর কোনো অনুমোদন রয়েছে কি না এবং আদায়কৃত অর্থের যথাযথ হিসাব কোথায়?
এদিকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কলেজের বিএম শাখার হিসাবরক্ষক ফরিদ মিয়াজীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসাকে কেন্দ্র করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জিসান সরকারকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বারান্দায় ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেখানে অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জিসানের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে জিসান মাটিতে পড়ে গেলে তার নাক দিয়ে রক্তপাত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি দেখে উপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিস্ময় ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—একজন অভিভাবককে কলেজের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়াই যদি একজন কর্মচারীর অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য?
সাংবাদিক প্রবেশে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের কলেজে প্রবেশে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাংবাদিকদের প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছে এবং কোনো গণমাধ্যমকর্মী কলেজে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমন অভিযোগের কারণে প্রশ্ন উঠেছে—একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহে এমন বাধা কেন?
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিজের অনুকূলে সংবাদ পরিবেশনের উদ্দেশ্যে খণ্ডকালীন সাংবাদিক পরিচয়ে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের জবাব কোথায়?
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থানও স্পষ্ট হয়নি।
<
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, একজন সরকারি কলেজের প্রধান হিসেবে অভিযোগের জবাব দেওয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা তার প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ। অথচ সাংবাদিকদের ফোন না ধরায় প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগের মুখোমুখি হয়ে নীরবতাই কি অধ্যক্ষের জবাব?
এদিকে অধ্যক্ষের আচরণ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও নানা আলোচনা ও অসন্তোষের কথা জানা গেছে। কেউ কেউ তার আচরণকে অপেশাদার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অধ্যক্ষের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে চিকিৎসাগত প্রমাণ ছাড়া কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, ব্যবহারিক পরীক্ষার অর্থ আদায়ের হিসাব যাচাই, কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ তদন্ত এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক অভিযোগ সত্যিই কতটা ভিত্তিহীন, আর কতটা সত্য—তা নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সারাক্ষণ ডেস্ক 




















