ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ঘুসকান্ডে চুড়ান্তভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। প্রতিবাদও কি ‘ম্যানেজড’? গণপূর্তের কায়কোবাদকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন : এক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব অন্য মাধ্যমে—‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’র অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ?   ৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা। এমডি’র অব্যবস্থাপনায় ডুবছে অগ্রণী ব্যাংক! ভাঙ্গুড়ায় শহীদ মিনারের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। আলীগের সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে যশোরে হত্যাচেষ্টা মামলা। শিশু খাদ্যে ভেজালে পুলেরহাটে তানসীপ ট্রেডার্সকে লক্ষ টাকা জরিমানা। কুমিল্লা বুড়িচং প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে খোরশেদ সভাপতি, বাবু সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির। গণপূর্তের ‘উজির’: ক্ষমতার বলয়, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ।

মাগুরায় সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৭ লাখ টাকা উধাও: গ্রাহকের অভিযোগে তোলপাড়

সোনালী ব্যাংক লিঃ পিএলসি মাগুরা শাখার এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অ্যাকাউন্ট হোল্ডার মোঃ টিটুল অভিযোগ করেছেন, ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রতারক চক্র তার অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে টাকা তুলে নিয়েছে।

মোঃ টিটুল, পিতা-মৃত কাজী আকিম, গ্রাম ইসলামপুর পাড়া, শহীদ মিন্টু সড়ক, মাগুরা। তিনি উষা এস.সি. লিঃ এর মালিক ও চেয়ারম্যান। তার প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের চলতি হিসাব নম্বর ২৪১৪২০০০১৮৩৫২ রয়েছে। অভিযোগে তিনি জানান, নিজে টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও উক্ত হিসাবে মোট ৮৭ লাখ টাকা জমা হয়। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি কখনো চেক বই গ্রহণ করেননি।

তবে সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, কে বা কারা তার অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো অর্থ তুলে নিয়েছে। তার দাবি, হিসাব খোলার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর ০১৬৮৫-৫৫৭৬৫৬ পরিবর্তন করে প্রতারকদের ব্যবহৃত অপরিচিত নম্বর বসানো হয়। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, বড় অঙ্কের টাকা (৫০ হাজারের বেশি) উত্তোলনের আগে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে ফোনে নিশ্চিত করার কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। একাধিকবার ১০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা একসাথে তোলা হলেও তাকে কখনো জানানো হয়নি, এমনকি কোনো এসএমএসও পাঠানো হয়নি।

টিটুল অভিযোগ করেন, আমার স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে চেক বই ইস্যু করা হয়েছে এবং সেটি ব্যবহার করে ধাপে ধাপে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতেন কিন্তু আমাকে কোনো তথ্য দেননি।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক মাগুরা শাখার বর্তমান ম্যানেজার জানান, “ঘটনাটি আগের ম্যানেজারের আমলে ঘটেছে। আমি অভিযোগ পাওয়ার পর গ্রাহককে ব্যাংকে আসতে বলেছি, কিন্তু তিনি আসেননি।”

অন্যদিকে অ্যাকাউন্ট হোল্ডার জানিয়েছেন, ব্যাংক যদি আইনগত পদক্ষেপ না নেয়, তবে তিনি নিজেই বাদী হয়ে প্রতারক চক্র ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করবেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, দেশের অন্যতম স্বনামধন্য ব্যাংকে এমন ঘটনা নিরাপত্তা ও গ্রাহক আস্থার জন্য বড় হুমকি।

Tag :
About Author Information

Milon Ahammed

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ।

মাগুরায় সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৭ লাখ টাকা উধাও: গ্রাহকের অভিযোগে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

সোনালী ব্যাংক লিঃ পিএলসি মাগুরা শাখার এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অ্যাকাউন্ট হোল্ডার মোঃ টিটুল অভিযোগ করেছেন, ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রতারক চক্র তার অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে টাকা তুলে নিয়েছে।

মোঃ টিটুল, পিতা-মৃত কাজী আকিম, গ্রাম ইসলামপুর পাড়া, শহীদ মিন্টু সড়ক, মাগুরা। তিনি উষা এস.সি. লিঃ এর মালিক ও চেয়ারম্যান। তার প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের চলতি হিসাব নম্বর ২৪১৪২০০০১৮৩৫২ রয়েছে। অভিযোগে তিনি জানান, নিজে টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও উক্ত হিসাবে মোট ৮৭ লাখ টাকা জমা হয়। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি কখনো চেক বই গ্রহণ করেননি।

তবে সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, কে বা কারা তার অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো অর্থ তুলে নিয়েছে। তার দাবি, হিসাব খোলার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর ০১৬৮৫-৫৫৭৬৫৬ পরিবর্তন করে প্রতারকদের ব্যবহৃত অপরিচিত নম্বর বসানো হয়। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, বড় অঙ্কের টাকা (৫০ হাজারের বেশি) উত্তোলনের আগে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে ফোনে নিশ্চিত করার কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। একাধিকবার ১০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা একসাথে তোলা হলেও তাকে কখনো জানানো হয়নি, এমনকি কোনো এসএমএসও পাঠানো হয়নি।

টিটুল অভিযোগ করেন, আমার স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে চেক বই ইস্যু করা হয়েছে এবং সেটি ব্যবহার করে ধাপে ধাপে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতেন কিন্তু আমাকে কোনো তথ্য দেননি।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক মাগুরা শাখার বর্তমান ম্যানেজার জানান, “ঘটনাটি আগের ম্যানেজারের আমলে ঘটেছে। আমি অভিযোগ পাওয়ার পর গ্রাহককে ব্যাংকে আসতে বলেছি, কিন্তু তিনি আসেননি।”

অন্যদিকে অ্যাকাউন্ট হোল্ডার জানিয়েছেন, ব্যাংক যদি আইনগত পদক্ষেপ না নেয়, তবে তিনি নিজেই বাদী হয়ে প্রতারক চক্র ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করবেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, দেশের অন্যতম স্বনামধন্য ব্যাংকে এমন ঘটনা নিরাপত্তা ও গ্রাহক আস্থার জন্য বড় হুমকি।