ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ঝিনাইদহে রমজান মাসে ফেসবুকে যৌনতার ছবি, পুলিশ সুপারের কাছে ইমামদের অভিযোগ। দুনীতিবাজ মাফিয়া মাসুদ এখন আলমডাঙ্গার কৃষি কর্মকর্তা, সারের বাড়তি দামে ঝুকিতে আলমডাঙ্গা কৃষি ও কৃষকের উৎপাদন। পূর্ব মানিক নগর মাদকদ্রব্য পুলিশের অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার। ঢাকা কদমতলীর মূর্তিমান আতঙ্ক আওয়ামী নেত্রী মুন্নী। বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম: বিসিআইসিতে ‘কোকো পরিষদ’ ব্যানারে চেয়ারম্যান ও পিডি’র ক্যাশিয়ার খ্যাত  কে এই নজরুল ইসলাম? শ্রীপুরে অটোরিক্সা চালককে অপহরণ: মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের পর উদ্ধার, গ্রেফতার-৩। রমজানকে ঘিরে উলিপুরে ব্যাপক বাজার মনিটরিং: ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, সতর্কবার্তা প্রশাসনের। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি উদ্যোগে ময়মনসিংহে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সারাক্ষণ বার্তার প্রকাশক দম্পতির একমাত্র সন্তান অবন্তিকা দাসের জন্মদিন উদযাপন।

কেয়ারটেকার থেকে কোটিপতি!!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২১৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

আব্দুর রশিদ গোলন্দাজ। শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর গ্রামের পবন আলী গোলন্দাজের ছেলে। ছিলেন প্রয়াত পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির কেয়ারটেকার। এরপর প্রয়াত মন্ত্রীর ছেলে নাহিম রাজ্জাকের এপিএস হিসাবে কাজ করতেন। পরে তিনি ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যন নির্বাচিত হন। এরপর চলতি বছর ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্য। এভাবেই কোটিপতি বনে গেছেন।

ব্যবহার করেন বিলাসবহুল গাড়ি। নামে-বেনামে রয়েছে তার অঢেল সম্পদ। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি এলাকা থেকে পলাতক রয়েছেন। জানা যায়, আব্দুর রশিদ গোলন্দাজের বাবা ছিলেন একজন কৃষক। ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী নিজেকে এসএসসি পাশ দাবি করলেও এলাকার লোকজন বলছেন আব্দুর রশিদ অষ্টম শ্রেণি পাশ। তিনি ১৯৯৫ সালে প্রয়াত পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসাবে কাজ শুরু করেন।

 

১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আশার পর শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুর রাজ্জাক পানিসম্পদমন্ত্রী হন। তিনি আব্দুর রশিদকে ব্যক্তিগত এপিএস হিসাবে নিয়োগ করেন। সেই থেকে আর আব্দুর রশিদ গোলন্দাজকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।

২০১১ সালে আব্দুর রাজ্জাক মারা যাওয়ায় ২০১২ সালে ছেলে নাহিম রাজ্জাক ওই আসনে উপনির্বাচনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাবার নিয়োগ করা আব্দুর রশিদ গোলন্দাজকে ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) হিসাবে রেখে দেন। নাহিম রাজ্জাকের এপিএস হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং কোণঠাসা করতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদেরও।

২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ডামুড্যা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে এমপি নাহিম রাজ্জাকের প্রভাবে দলীয়ভাবে মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার ইশারায় মনোনয়ন দেওয়া হতো বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। এভাবে কামিয়েছেন শতকোটি টাকা। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই নাহিম রাজ্জাকের বদলৌতে বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহে রমজান মাসে ফেসবুকে যৌনতার ছবি, পুলিশ সুপারের কাছে ইমামদের অভিযোগ।

কেয়ারটেকার থেকে কোটিপতি!!

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

আব্দুর রশিদ গোলন্দাজ। শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর গ্রামের পবন আলী গোলন্দাজের ছেলে। ছিলেন প্রয়াত পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির কেয়ারটেকার। এরপর প্রয়াত মন্ত্রীর ছেলে নাহিম রাজ্জাকের এপিএস হিসাবে কাজ করতেন। পরে তিনি ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যন নির্বাচিত হন। এরপর চলতি বছর ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্য। এভাবেই কোটিপতি বনে গেছেন।

ব্যবহার করেন বিলাসবহুল গাড়ি। নামে-বেনামে রয়েছে তার অঢেল সম্পদ। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি এলাকা থেকে পলাতক রয়েছেন। জানা যায়, আব্দুর রশিদ গোলন্দাজের বাবা ছিলেন একজন কৃষক। ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী নিজেকে এসএসসি পাশ দাবি করলেও এলাকার লোকজন বলছেন আব্দুর রশিদ অষ্টম শ্রেণি পাশ। তিনি ১৯৯৫ সালে প্রয়াত পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসাবে কাজ শুরু করেন।

 

১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আশার পর শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুর রাজ্জাক পানিসম্পদমন্ত্রী হন। তিনি আব্দুর রশিদকে ব্যক্তিগত এপিএস হিসাবে নিয়োগ করেন। সেই থেকে আর আব্দুর রশিদ গোলন্দাজকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।

২০১১ সালে আব্দুর রাজ্জাক মারা যাওয়ায় ২০১২ সালে ছেলে নাহিম রাজ্জাক ওই আসনে উপনির্বাচনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাবার নিয়োগ করা আব্দুর রশিদ গোলন্দাজকে ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) হিসাবে রেখে দেন। নাহিম রাজ্জাকের এপিএস হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং কোণঠাসা করতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদেরও।

২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ডামুড্যা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে এমপি নাহিম রাজ্জাকের প্রভাবে দলীয়ভাবে মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার ইশারায় মনোনয়ন দেওয়া হতো বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। এভাবে কামিয়েছেন শতকোটি টাকা। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই নাহিম রাজ্জাকের বদলৌতে বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন