মাদারীপুর সদর উপজেলার ইটেরপুল এলাকার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, ২৬ বছর বয়সী জাহিদ খাঁ নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী পলিনা আক্তারকে ছেড়ে বারবার ভাগ্নিকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনা নিয়ে এ পর্যন্ত তিনি কমপক্ষে তিন থেকে চার বার নিরুদ্দেশ হয়েছেন। সর্বশেষ, গতকাল রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরেও তিনি ঘর ছাড়েন। ফলে স্ত্রী পলিনা আক্তার নিরুপায় হয়ে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছেন।
জানা যায়, সাথি আক্তার (১৮), যাঁর সাথে জাহিদ খাঁ পালিয়ে যাচ্ছেন, তিনি পলিনা আক্তারের আপন বড় বোনের মেয়ে এবং সম্পর্কে তাঁর ভাগ্নি। সাথি আক্তার শরীয়তপুর জেলার পালং থানাধীন বিনোদপুর চরের কান্দী এলাকার নাসিরুদ্দিন খানের মেয়ে।
পলিনা আক্তার জানান, প্রায় এক বছর আগে স্বামী জাহিদ খাঁ প্রথমবার ভাগ্নিকে নিয়ে পালিয়ে যান। সেই সময় বহু খোঁজাখুঁজির পর স্বামীকে না পেয়ে তিনি মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জাহিদ খাঁ ফিরে আসেন এবং আর এমন করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। এরপর কৌশলে তিনি স্ত্রীকে দিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করিয়ে নেন। কিন্তু সেই ঘটনার প্রায় ৭ মাস পর, গতকাল দুপুরে জাহিদ খাঁ আবার বাসা থেকে বের হন। পরবর্তীতে পলিনা জানতে পারেন, তিনি সেই ভাগ্নিকে নিয়েই আবারও পালিয়ে গেছেন।
পলিনা আক্তার বিষণ্ণতা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালে জাহিদ খাঁর সাথে তাঁর বিয়ে হয় এবং প্রথম দুই-তিন বছর সংসার ভালোভাবে চলেছিল। এরপরই তিনি জানতে পারেন যে তাঁর স্বামী এবং তাঁর বড় বোনের মেয়ে সেলিনা আক্তারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এরপর তাঁরা পালিয়ে গিয়ে বিয়েও করে ফেলেন। বিভিন্ন উপায়ে একাধিকবার তাঁদের ধরে আনা হলেও তাঁরা বারবার পালিয়ে যান।
জতিনি আরও জানান, এ বছরের শুরুতে শেষবার পালানোর আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ হয়। সেখানে স্বামী-ভাগ্নি দুজনেই লিখিত দেন যে তাঁরা আর এমন করবেন না। এমনকি, ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের মধ্যে তালাকও হয়। কিন্তু এরপরও তারা আবার পালিয়ে যান। সেই পালানোর ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর জাহিদ খাঁ স্ত্রীর কাছে ফিরে এসেছিলেন। পলিনা আক্তার এখন তার সাড়ে ৩ বছরের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে পলিনা বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের কারণে তিনি শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আয়ার চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি তার স্বামীকে ফেরত পেতে গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনুরোধ জানান। যদি স্বামী ফিরে না আসেন, তবে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















