ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
সারাক্ষণ বার্তায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লিপি। তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ঘুসকান্ডে চুড়ান্তভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। প্রতিবাদও কি ‘ম্যানেজড’? গণপূর্তের কায়কোবাদকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন : এক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব অন্য মাধ্যমে—‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’র অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ?   ৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা। এমডি’র অব্যবস্থাপনায় ডুবছে অগ্রণী ব্যাংক! ভাঙ্গুড়ায় শহীদ মিনারের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। আলীগের সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে যশোরে হত্যাচেষ্টা মামলা। শিশু খাদ্যে ভেজালে পুলেরহাটে তানসীপ ট্রেডার্সকে লক্ষ টাকা জরিমানা। কুমিল্লা বুড়িচং প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে খোরশেদ সভাপতি, বাবু সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির।

গণপূর্তে ‘একচ্ছত্র সম্রাট’ বদরুল ! অভিযোগে বিস্ফোরণ, ভেতরে ক্ষোভের আগুন !

 

রাষ্ট্রের অবকাঠামো উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু—গণপূর্ত অধিদপ্তর। অথচ সেই দপ্তরই এখন অভিযোগের পাহাড়ে চাপা পড়ে দিশেহারা! আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে এক নাম—তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।

 

শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য—ক্ষমতার জোরে ? দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের বাইরে গিয়ে বদরুল আলম খান গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট-প্লট, গ্রামে বাংলো, খামারবাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স—সব মিলিয়ে যেন এক ‘গোপন সাম্রাজ্য’। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—এই সম্পদের উৎস কোথায়?

 

সিন্ডিকেটের জালে বন্দী গণপূর্ত ? দপ্তরের ভেতরের সূত্র বলছে, বদরুল আলম খানের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা থেকে ঢাকার প্রভাবশালী ঠিকাদার—সবাই নাকি এই নেটওয়ার্কে যুক্ত । দাবি উঠেছে, টেন্ডার যেন আর প্রতিযোগিতার নয়—বরং ‘নির্বাচিতদের জন্য সংরক্ষিত ক্ষেত্র’!

ফোনেই ঠিকাদার ঠিক !

অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন ডিভিশনের প্রকৌশলীদের ফোন করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চাপ দেওয়া হয়। মিরপুর, ভাষানটেকসহ একাধিক প্রকল্পে ‘পছন্দের ঠিকাদার’ বসানোর চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগও ঘুরছে দপ্তরের ভেতরে।

রাজনৈতিক রঙ বদলে টিকে থাকার কৌশল ? ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এক বলয়ে, পরে আরেক বলয়ে—এমন অভিযোগও এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ক্ষমতার পালাবদল হলেও বদরুলের অবস্থান নড়েনি, বরং আরও শক্ত হয়েছে।

পর্দার আড়ালে ব্যবসা ?

সরকারি চাকরির পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের নামে ডেভেলপার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে এটি সরাসরি স্বার্থের সংঘাত—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়োগে লাখ টাকার খেলা ?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন—নিয়োগের নামে জনপ্রতি ১০-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যদিও কাজ না হওয়ায় কেউ কেউ টাকা ফেরতও পেয়েছেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে!

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ !

এক তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, টেন্ডার ফাঁস—এসব নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব দাবির কোনো স্বাধীন যাচাই এখনো হয়নি।

বদরুলের জবাব : সব অভিযোগ অস্বীকার করে বদরুল আলম খান বলেছেন,“আমি ভালো কাজ করছি বলেই একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।”প্রশ্ন এখন একটাই— গণপূর্ত অধিদপ্তর কি এই অভিযোগের জট খুলে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারবে?নাকি ‘অদৃশ্য ক্ষমতার’ ছায়ায় আরও গভীরে ডুবে যাবে ?

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাক্ষণ বার্তায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লিপি।

গণপূর্তে ‘একচ্ছত্র সম্রাট’ বদরুল ! অভিযোগে বিস্ফোরণ, ভেতরে ক্ষোভের আগুন !

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

 

রাষ্ট্রের অবকাঠামো উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু—গণপূর্ত অধিদপ্তর। অথচ সেই দপ্তরই এখন অভিযোগের পাহাড়ে চাপা পড়ে দিশেহারা! আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে এক নাম—তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।

 

শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য—ক্ষমতার জোরে ? দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের বাইরে গিয়ে বদরুল আলম খান গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট-প্লট, গ্রামে বাংলো, খামারবাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স—সব মিলিয়ে যেন এক ‘গোপন সাম্রাজ্য’। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—এই সম্পদের উৎস কোথায়?

 

সিন্ডিকেটের জালে বন্দী গণপূর্ত ? দপ্তরের ভেতরের সূত্র বলছে, বদরুল আলম খানের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা থেকে ঢাকার প্রভাবশালী ঠিকাদার—সবাই নাকি এই নেটওয়ার্কে যুক্ত । দাবি উঠেছে, টেন্ডার যেন আর প্রতিযোগিতার নয়—বরং ‘নির্বাচিতদের জন্য সংরক্ষিত ক্ষেত্র’!

ফোনেই ঠিকাদার ঠিক !

অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন ডিভিশনের প্রকৌশলীদের ফোন করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চাপ দেওয়া হয়। মিরপুর, ভাষানটেকসহ একাধিক প্রকল্পে ‘পছন্দের ঠিকাদার’ বসানোর চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগও ঘুরছে দপ্তরের ভেতরে।

রাজনৈতিক রঙ বদলে টিকে থাকার কৌশল ? ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এক বলয়ে, পরে আরেক বলয়ে—এমন অভিযোগও এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ক্ষমতার পালাবদল হলেও বদরুলের অবস্থান নড়েনি, বরং আরও শক্ত হয়েছে।

পর্দার আড়ালে ব্যবসা ?

সরকারি চাকরির পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের নামে ডেভেলপার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে এটি সরাসরি স্বার্থের সংঘাত—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়োগে লাখ টাকার খেলা ?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন—নিয়োগের নামে জনপ্রতি ১০-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যদিও কাজ না হওয়ায় কেউ কেউ টাকা ফেরতও পেয়েছেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে!

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ !

এক তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, টেন্ডার ফাঁস—এসব নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব দাবির কোনো স্বাধীন যাচাই এখনো হয়নি।

বদরুলের জবাব : সব অভিযোগ অস্বীকার করে বদরুল আলম খান বলেছেন,“আমি ভালো কাজ করছি বলেই একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।”প্রশ্ন এখন একটাই— গণপূর্ত অধিদপ্তর কি এই অভিযোগের জট খুলে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারবে?নাকি ‘অদৃশ্য ক্ষমতার’ ছায়ায় আরও গভীরে ডুবে যাবে ?