ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ঘুসকান্ডে চুড়ান্তভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। প্রতিবাদও কি ‘ম্যানেজড’? গণপূর্তের কায়কোবাদকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন : এক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব অন্য মাধ্যমে—‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’র অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ?   ৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা। এমডি’র অব্যবস্থাপনায় ডুবছে অগ্রণী ব্যাংক! ভাঙ্গুড়ায় শহীদ মিনারের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। আলীগের সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে যশোরে হত্যাচেষ্টা মামলা। শিশু খাদ্যে ভেজালে পুলেরহাটে তানসীপ ট্রেডার্সকে লক্ষ টাকা জরিমানা। কুমিল্লা বুড়িচং প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে খোরশেদ সভাপতি, বাবু সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির। গণপূর্তের ‘উজির’: ক্ষমতার বলয়, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ।

প্রতিমন্ত্রী করলেন বরখাস্ত প্রধান নির্বাহী আদেশ দিলেন যোগদানের। আসলে বড় কে?

গাজীপুর নগরে নির্মাণকাজের কয়েক দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই প্রকৌশলীকে আবার কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। কিন্তু গত সোমবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁদের পুনর্বহাল করা হয়েছে।

 

পুনর্বহাল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম হারুনুর রশীদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এস এম শামছুর রহমান মাহমুদ। কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গত ২৩ মার্চ তাঁদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী।সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নগরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের তীরে নির্মাণাধীন সড়কটি উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে। সড়কের একটি অংশ প্রায় ১৫ ফুট নিচে দেবে গেলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ২৩ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে বরখাস্ত-সংক্রান্ত চিঠি হস্তান্তর করেন। এ ছাড়া সাত সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি নতুন তদন্ত কমিটি গঠন ও ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী তখন জানিয়েছিলেন, তদন্তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত প্রভাবের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। পরে তিনি বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

তবে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর ১১ মে গাজীপুর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ওই দুই কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। আদেশে বলা হয়, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন ০১-০৫ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ’ প্রকল্পে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই আদেশে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের আবার কর্মস্থলে যোগদানের অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের তদারকিতে তাঁদের অবহেলা ছিল। যার কারণে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ।

প্রতিমন্ত্রী করলেন বরখাস্ত প্রধান নির্বাহী আদেশ দিলেন যোগদানের। আসলে বড় কে?

আপডেট সময় : ১২:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

গাজীপুর নগরে নির্মাণকাজের কয়েক দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই প্রকৌশলীকে আবার কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। কিন্তু গত সোমবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁদের পুনর্বহাল করা হয়েছে।

 

পুনর্বহাল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম হারুনুর রশীদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এস এম শামছুর রহমান মাহমুদ। কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গত ২৩ মার্চ তাঁদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী।সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নগরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের তীরে নির্মাণাধীন সড়কটি উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে। সড়কের একটি অংশ প্রায় ১৫ ফুট নিচে দেবে গেলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ২৩ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে বরখাস্ত-সংক্রান্ত চিঠি হস্তান্তর করেন। এ ছাড়া সাত সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি নতুন তদন্ত কমিটি গঠন ও ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী তখন জানিয়েছিলেন, তদন্তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত প্রভাবের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। পরে তিনি বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

তবে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর ১১ মে গাজীপুর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ওই দুই কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। আদেশে বলা হয়, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন ০১-০৫ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ’ প্রকল্পে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই আদেশে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের আবার কর্মস্থলে যোগদানের অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের তদারকিতে তাঁদের অবহেলা ছিল। যার কারণে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।