ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ঘুসকান্ডে চুড়ান্তভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। প্রতিবাদও কি ‘ম্যানেজড’? গণপূর্তের কায়কোবাদকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন : এক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব অন্য মাধ্যমে—‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’র অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ?   ৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা। এমডি’র অব্যবস্থাপনায় ডুবছে অগ্রণী ব্যাংক! ভাঙ্গুড়ায় শহীদ মিনারের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। আলীগের সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে যশোরে হত্যাচেষ্টা মামলা। শিশু খাদ্যে ভেজালে পুলেরহাটে তানসীপ ট্রেডার্সকে লক্ষ টাকা জরিমানা। কুমিল্লা বুড়িচং প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে খোরশেদ সভাপতি, বাবু সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির। গণপূর্তের ‘উজির’: ক্ষমতার বলয়, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ।

অপপ্রচার নাকি তদন্তাধীন অভিযোগ ? জিডির পর মুখ খুললেন বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ উদ্দিন।

 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লি উটিএ)-এর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ. কে. এম. আরিফ উদ্দিনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কিত নানা অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও এসব অভিযোগকে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৬৫৩,তারিখ: ২২ জুন ২০২৬) করেছে ন বলে জানা গেছে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, “Tnzina Haque Nidra” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির চেষ্টা হতে পারে।

অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন : সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি প্রকল্প, ড্রেজিং কার্যক্রম, সরকারি সম্পদ বিক্রি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক অনিয়মের নানা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোরই এখনো কোনো বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রচারণা প্রশ্নের মুখে : কিছু প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কথিত ভিডিও ফুটেজের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণকাল, প্রেক্ষাপট কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সম্পর্কে কোনো স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে,ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত অযাচা ইকৃত তথ্য বা ডিজিটাল কনটেন্ট প্রকাশ সাংবাদিকতার নৈতিকতার প্রশ্নও তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন সেগুলোর সত্যতা যাচাই হয়নি।

আরিফ উদ্দিনের অবস্থান :

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে পরিচালক এ. কে. এম. আরিফ উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তার দাবি, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। জিডিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ জানিয়েছেন।

জিডি নতুন মাত্রা যোগ করল :

সংশ্লিষ্টদের মতে, জিডি দায়েরের ঘটনাটি পুরো বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।একদিকে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে,অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজেকে অপপ্রচারের শিকার দাবি করছেন।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ কারীদের কাছে যদি পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ থাকে,তবে সেগু লো তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা উচিত। একই ভাবে কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণার শিকার হন, তবে তারও আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রয়েছে।

এখন নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে :

বিআইডব্লিউটিএকে ঘিরে আলোচিত অভিযোগ এবং পাল্টা অপপ্রচারের অভিযোগ—দুই পক্ষের দাবির মধ্যেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে নিরপেক্ষ তদন্ত।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে। ফলে এখন সংশ্লিষ্ট মহল, প্রশাসন ও জনসাধারণের দৃষ্টি তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত ফলাফলের দিকেই।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ।

অপপ্রচার নাকি তদন্তাধীন অভিযোগ ? জিডির পর মুখ খুললেন বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ উদ্দিন।

আপডেট সময় : ০৭:১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লি উটিএ)-এর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ. কে. এম. আরিফ উদ্দিনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কিত নানা অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও এসব অভিযোগকে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৬৫৩,তারিখ: ২২ জুন ২০২৬) করেছে ন বলে জানা গেছে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, “Tnzina Haque Nidra” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির চেষ্টা হতে পারে।

অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন : সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি প্রকল্প, ড্রেজিং কার্যক্রম, সরকারি সম্পদ বিক্রি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক অনিয়মের নানা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোরই এখনো কোনো বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রচারণা প্রশ্নের মুখে : কিছু প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কথিত ভিডিও ফুটেজের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণকাল, প্রেক্ষাপট কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সম্পর্কে কোনো স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে,ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত অযাচা ইকৃত তথ্য বা ডিজিটাল কনটেন্ট প্রকাশ সাংবাদিকতার নৈতিকতার প্রশ্নও তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন সেগুলোর সত্যতা যাচাই হয়নি।

আরিফ উদ্দিনের অবস্থান :

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে পরিচালক এ. কে. এম. আরিফ উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তার দাবি, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। জিডিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ জানিয়েছেন।

জিডি নতুন মাত্রা যোগ করল :

সংশ্লিষ্টদের মতে, জিডি দায়েরের ঘটনাটি পুরো বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।একদিকে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে,অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজেকে অপপ্রচারের শিকার দাবি করছেন।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ কারীদের কাছে যদি পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ থাকে,তবে সেগু লো তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা উচিত। একই ভাবে কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণার শিকার হন, তবে তারও আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রয়েছে।

এখন নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে :

বিআইডব্লিউটিএকে ঘিরে আলোচিত অভিযোগ এবং পাল্টা অপপ্রচারের অভিযোগ—দুই পক্ষের দাবির মধ্যেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে নিরপেক্ষ তদন্ত।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে। ফলে এখন সংশ্লিষ্ট মহল, প্রশাসন ও জনসাধারণের দৃষ্টি তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত ফলাফলের দিকেই।