ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
শিক্ষকের সামনে বই খুলে পরীক্ষা, সাংবাদিকদের মারধর করে আটকে রাখা,এ কোন বর্বরতা? যশোরের শার্শায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী নাসির-সুমন চক্রের মিথ্যা অপহরণ মামলার বাদি সাক্ষী,লাপাত্তা। ডুমুরিয়ায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে তীর্থ ফৌজদার অভিযুক্ত। মাগুরা জার্নালিস্ট ফোরাম ঢাকা’র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি শাহিনুর, সম্পাদক রবি। সারাক্ষণ বার্তায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লিপি। তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ঘুসকান্ডে চুড়ান্তভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। প্রতিবাদও কি ‘ম্যানেজড’? গণপূর্তের কায়কোবাদকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন : এক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব অন্য মাধ্যমে—‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’র অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ?   ৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা।

নবীনগরে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট, হুমকির মুখে ফসলি জমি ও খাদ্য নিরাপত্তা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও আমতলী গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় আবাদি কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে।

কৃষিজমি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ এবং সেখানে স্থাপনা তৈরির প্রস্তুতির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উর্বর ফসলি জমির বুক চিরে মাটি ভরাট করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি থাকলেও সেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও স্থাপনা তৈরি করা হলে ওই জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এছাড়া বালু ভরাট এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতায় পড়ে আশপাশের বহু কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছে না। কৃষিজমি এভাবে বেদখল ও ধ্বংস হতে থাকলে একসময় এলাকায় চাষাবাদের অযোগ্য জমি বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ফসলি জমি এভাবে ধ্বংস হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকদের দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন এই অবৈধ মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

কৃষিজমি রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নবীনগর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকের সামনে বই খুলে পরীক্ষা, সাংবাদিকদের মারধর করে আটকে রাখা,এ কোন বর্বরতা?

নবীনগরে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট, হুমকির মুখে ফসলি জমি ও খাদ্য নিরাপত্তা।

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও আমতলী গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় আবাদি কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে।

কৃষিজমি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ এবং সেখানে স্থাপনা তৈরির প্রস্তুতির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উর্বর ফসলি জমির বুক চিরে মাটি ভরাট করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি থাকলেও সেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও স্থাপনা তৈরি করা হলে ওই জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এছাড়া বালু ভরাট এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতায় পড়ে আশপাশের বহু কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছে না। কৃষিজমি এভাবে বেদখল ও ধ্বংস হতে থাকলে একসময় এলাকায় চাষাবাদের অযোগ্য জমি বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ফসলি জমি এভাবে ধ্বংস হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকদের দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন এই অবৈধ মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

কৃষিজমি রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নবীনগর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।