ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা মহিলাদলের প্রচার সম্পাদক শিরিনা আক্তারকে হানিট্র্যাপ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) দুপুরে নগরীর আলমগীর মুনসুর মেমোরিয়াল (মিন্টু) কলেজ এলাকা থেকে তাকে অপর এক ব্যক্তিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ত্রিশালের ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা শামীমকে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা (নং-৮২, তারিখ: ২৯ জুন ২০২৬) দায়ের করা হয়। ওই মামলায় এর আগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও শিরিনা আক্তার পলাতক ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সাফায়েত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিত। তাদের দাবি, শিরিনা আক্তার ওই চক্রের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী।
এছাড়া স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, এর আগে ত্রিশালের বালিপাড়া এলাকা থেকে শফিকুল ইসলামের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে অন্তরকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনাতেও শিরিনা ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বালিপাড়া ইউনিয়নের সামাল মেম্বারের ছেলে শামীম অভিযোগ করেন, শিরিনা ও ঝর্ণা তাকে ধর্ষণচেষ্টার মতো স্পর্শকাতর একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছিলেন।
ত্রিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন কর্মী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ত্রিশাল বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, ত্রিশালে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দল বদ্ধপরিকর। কোনো নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, বাঘমারা এলাকার একটি বাসায় সংঘটিত হানিট্র্যাপের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শিরিনা আক্তারসহ দুইজনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে একই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি সংঘবদ্ধ হানিট্র্যাপ চক্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















