ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
যশোরের শার্শায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী নাসির-সুমন চক্রের মিথ্যা অপহরণ মামলার বাদি সাক্ষী,লাপাত্তা। ডুমুরিয়ায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে তীর্থ ফৌজদার অভিযুক্ত। মাগুরা জার্নালিস্ট ফোরাম ঢাকা’র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি শাহিনুর, সম্পাদক রবি। সারাক্ষণ বার্তায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লিপি। তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ঘুসকান্ডে চুড়ান্তভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। প্রতিবাদও কি ‘ম্যানেজড’? গণপূর্তের কায়কোবাদকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন : এক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব অন্য মাধ্যমে—‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’র অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ?   ৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা। এমডি’র অব্যবস্থাপনায় ডুবছে অগ্রণী ব্যাংক!

পলাশবাড়ী টু কিশোরগাড়ী সড়কের বেহাল দশা: ভাঙা রাস্তায় ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ, দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল কাশিয়াবাড়ীতে যাতায়াতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে গণেশপুর বাজার থেকে বাঁধের মুখ পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে পাকা রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কাশিয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল কৃষিনির্ভর এলাকা। নদ-নদী, চর ও বালুময় ভূমিকে কেন্দ্র করে এখানকার কৃষি অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। প্রতি মৌসুমে এই এলাকায় ভুট্টা, গম, ধান, বিভিন্ন রবিশস্যসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কৃষিপণ্য বাজারজাত করার প্রধান ভরসা কাশিয়াবাড়ী-পলাশবাড়ী সড়ক।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় এখন বড় ট্রাক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ছোট যানবাহন, অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচলেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং কৃষকরাও উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না।

 

এদিকে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। ভাঙা রাস্তা ও বড় গর্তের কারণে তাদের নিরাপদ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সন্তানদের যাতায়াত নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরা।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাজু প্রামানিক বলেন, “রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

 

স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন লিটন বলেন, “রাস্তার ভাঙা অংশগুলো দিন দিন আরও বড় গর্তে পরিণত হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। কাশিয়াবাড়ী থেকে পলাশবাড়ীতে যাতায়াতের এটি একমাত্র সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। আমরা পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।”

 

এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থী রাকিব জানায়, “ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে খুব ভয় লাগে। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে সেই আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়।”

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজর আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ, কৃষি অর্থনীতি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কাশিয়াবাড়ী-

পলাশবাড়ী সড়কের গণেশপুর বাজার থেকে বাঁধের মুখ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরের শার্শায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।

পলাশবাড়ী টু কিশোরগাড়ী সড়কের বেহাল দশা: ভাঙা রাস্তায় ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ, দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল কাশিয়াবাড়ীতে যাতায়াতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে গণেশপুর বাজার থেকে বাঁধের মুখ পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে পাকা রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কাশিয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল কৃষিনির্ভর এলাকা। নদ-নদী, চর ও বালুময় ভূমিকে কেন্দ্র করে এখানকার কৃষি অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। প্রতি মৌসুমে এই এলাকায় ভুট্টা, গম, ধান, বিভিন্ন রবিশস্যসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কৃষিপণ্য বাজারজাত করার প্রধান ভরসা কাশিয়াবাড়ী-পলাশবাড়ী সড়ক।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় এখন বড় ট্রাক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ছোট যানবাহন, অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচলেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং কৃষকরাও উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না।

 

এদিকে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। ভাঙা রাস্তা ও বড় গর্তের কারণে তাদের নিরাপদ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সন্তানদের যাতায়াত নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরা।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাজু প্রামানিক বলেন, “রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

 

স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন লিটন বলেন, “রাস্তার ভাঙা অংশগুলো দিন দিন আরও বড় গর্তে পরিণত হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। কাশিয়াবাড়ী থেকে পলাশবাড়ীতে যাতায়াতের এটি একমাত্র সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। আমরা পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।”

 

এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থী রাকিব জানায়, “ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে খুব ভয় লাগে। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে সেই আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়।”

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজর আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ, কৃষি অর্থনীতি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কাশিয়াবাড়ী-

পলাশবাড়ী সড়কের গণেশপুর বাজার থেকে বাঁধের মুখ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।