ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বাংলাদেশের সাংবিধানিক উত্তরণ: ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনায় পুলিশের সন্তান নিহত। উদ্ধার করতে গিয়ে দেখলেন নিজেরই সন্তান। চিলমারীতে স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে, স্বামীর বাড়ির সামনে স্ত্রীর অনশন। লোকালয়ে বানরের উপদ্রব, সীমান্ত পেরিয়ে আসার সম্ভাব্য ধারণা !  উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা। মাধ্যমিক শিক্ষায় মানোন্নয়নে বরগুনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, কোনো শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে ,জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার। প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের আয়োজনে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল হকের বিদায় সংবর্ধনা। ডাকুয়া খাল থেকে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন, রাস্তা ঝুঁকিতে।  গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগে উত্তপ্ত শ্যামনগর, প্রতিএমপিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ: টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট ও সম্পদ অর্জনের প্রশ্ন : প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক ঘিরে আলোচনায় এই প্রকৌশলী।

ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের, আসামী গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে বাদীর অভিযোগ তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তরের দাবী।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের ভাই মো. নুরুজ্জামান হোসেন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে জগন্নাথপুর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। যাহার জগন্নাথপুর থানার মামলা নং-১২ তারিখ: ১৪/০৭/২০২৬ ইং।

মামলার বিবরণ ও এজাহার থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের মো. তাজিল মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামানকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করে একটি পাচারকারী চক্র। চক্রের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানার হাওলাদারপাড়া এলাকার মামলার প্রধান আসামী শিপন আহমদ, দিরাই উপজেলার ফজলুর রহমান এবং রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা বাড়ি এসে তিনখানা স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু এক মাসের মধ্যে ইতালি পাঠানোর কথা থাকলেও ভুক্তভোগীকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে এক অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলে দুবাইতে অবস্থানরত তার ভাই নুরুজ্জামান অন্য উপায়ে তাকে উদ্ধার করে দুবাই নিয়ে যান। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আসামীরা দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

 

এদিকে মামলা রুজু হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী। সুবিচারের আশায় বাদী মো. নুরুজ্জামান হোসেন জেলা পুলিশ সুপার বরাবর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা বা ডিবিতে হস্তান্তরের লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

 

পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর হোসেন আসামিদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছেন। এমনকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে পুলিশকে আসামিদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার পরও আসামি গ্রেফতার করছেন না। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার মূল আসামি শিপন আহমদ আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত এবং সিলেটের রাজনৈতিক প্রভাব ও ফেইসবুক সাংবাদিকদের ব্যবহার করে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এই বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার এস.আই নুর হোসেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ আমার কাছে আছে, আমি বিষয়টি তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করিব। উক্ত মামলার এক নং আসামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলে তিনি জানান, এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি আদালতে মোকাবেলা করিব। চার নং আসামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলে ফজলুর রহমান জানান, এই বিষয়ে তিনি কোন কিছুই জানেন না এবং পরে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন।

 

থানা পুলিশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় মামলাটি দ্রুত জেলা গোয়েন্দা সংস্থায় স্থানান্তর করে মূল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বাংলাদেশের সাংবিধানিক উত্তরণ: ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের, আসামী গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে বাদীর অভিযোগ তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তরের দাবী।

আপডেট সময় : ১২:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের ভাই মো. নুরুজ্জামান হোসেন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে জগন্নাথপুর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। যাহার জগন্নাথপুর থানার মামলা নং-১২ তারিখ: ১৪/০৭/২০২৬ ইং।

মামলার বিবরণ ও এজাহার থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের মো. তাজিল মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামানকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করে একটি পাচারকারী চক্র। চক্রের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানার হাওলাদারপাড়া এলাকার মামলার প্রধান আসামী শিপন আহমদ, দিরাই উপজেলার ফজলুর রহমান এবং রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা বাড়ি এসে তিনখানা স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু এক মাসের মধ্যে ইতালি পাঠানোর কথা থাকলেও ভুক্তভোগীকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে এক অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলে দুবাইতে অবস্থানরত তার ভাই নুরুজ্জামান অন্য উপায়ে তাকে উদ্ধার করে দুবাই নিয়ে যান। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আসামীরা দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

 

এদিকে মামলা রুজু হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী। সুবিচারের আশায় বাদী মো. নুরুজ্জামান হোসেন জেলা পুলিশ সুপার বরাবর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা বা ডিবিতে হস্তান্তরের লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

 

পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর হোসেন আসামিদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছেন। এমনকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে পুলিশকে আসামিদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার পরও আসামি গ্রেফতার করছেন না। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার মূল আসামি শিপন আহমদ আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত এবং সিলেটের রাজনৈতিক প্রভাব ও ফেইসবুক সাংবাদিকদের ব্যবহার করে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এই বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার এস.আই নুর হোসেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ আমার কাছে আছে, আমি বিষয়টি তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করিব। উক্ত মামলার এক নং আসামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলে তিনি জানান, এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি আদালতে মোকাবেলা করিব। চার নং আসামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলে ফজলুর রহমান জানান, এই বিষয়ে তিনি কোন কিছুই জানেন না এবং পরে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন।

 

থানা পুলিশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় মামলাটি দ্রুত জেলা গোয়েন্দা সংস্থায় স্থানান্তর করে মূল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।