ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে গোপন টেন্ডারে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ । পূর্ণ যৌবনা কুমার নদী এখন জৌলুস হারিয়ে মৃত প্রায় নদীতে রূপ নিয়েছে। মাদারীপুরে নবাগত পুলিশ সুপার ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনা আদালত চত্বরে গুলি করে দুইজনকে হত্যা। মাদারীপুরের রাজৈরে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি পালন। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত। বাংলার কিংবদন্তি এক মহীয়সী নারী বেগম খালেদা জিয়া। টিকটকে প্রেম, ৬ বছরের শিশুকে রেখে পালালো মা। ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে গাড়ীর ব্যবসায়ের নামে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা বেইস- টেকের মালিক নীলয়।

মন্ত্রণালয় এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশও মানা হয়নি  রাজউকের ৩০ হাজার নথি গায়েব: ব্যবস্থা নেয়া হয়নি দু’বছরেও।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

 

রাজউকের বহুল আলোচিত ৩০ হাজার নথি গায়েবের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানেনি রাজউক। এমনকি হাইকোর্ট থেকে সুয়োমটো রুল জারি করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও সেটিও মানেননি রাজউকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। হাইকোর্টের রুল জারির পর এক পর্যায়ে রাজউকের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হলো, হারিয়ে যাওয়া সবগুলো ফাইলই পাওয়া গেছে। কিন্তু রাজউকের সফটওয়্যার থেকে কীভাবে ডাটাগুলো গায়েব হয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে তা পাওয়া গেছে, এসব ঘটনার জন্য কে বা কারা দায়ী- এ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই রাজউকের কাছে। উচ্চ আদালতের রুলের যে জবাব রাজউকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে তাতেও এসবের কোনো ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়নি।

উল্লেখ্য, রাজউকের এ নথিগুলো গায়েব হয় এমন এক সময়ে যখন ড্যাপ বাস্তবায়ন নিয়ে মহা বিতর্ক চলছিল। ২৩ আগস্ট, ২০২২ ঢাকা মহানগর এলাকার জন্য রাজউকের প্রণয়ন করা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুমোদন দেয় সরকার। ড্যাপের এই নিয়ম অনুযায়ী, রাজউকের আওতাধীন অধিকাংশ এলাকায় আগের চেয়ে কম উচ্চতার ভবন নির্মাণ করতে হবে জমির মালিকদের। পরে জমির মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজউক সিদ্ধান্ত নেয়, যারা ২৩ আগস্টের আগে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন তারা আগের নিয়মে ভবন নির্মাণ করতে পারবেন। অর্থাৎ, বর্তমান ড্যাপে উল্লিখিত আয়তনের চেয়ে বেশি আয়তন পাবেন। ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজউক। কিন্তু এর একদিন পরই ৬ ডিসেম্বর রাজউকের ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর এক পর্যায়ে বলা হয়, ৩০ হাজার ফাইল গায়েব হয়ে গেছে রাজউকের সফটওয়ার থেকে।

 

শুরু থেকেই রাজউকের ভেতরের-বাইরের অনেকের মধ্যে এমন সন্দেহ তৈরি হয় যে, রাজউকের আইটি প্রতিষ্ঠান টেকনো হেভেন-এর সঙ্গে যোগসাজশে রাজউছক কর্মকর্তারাই মূলতঃ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাইল গায়েব করেছেন প্ল্যান পাসের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা আদায় করার জন্য। ক্রমেই সেই সন্দেহটি বাস্তবে প্রমাণিত হয়। দেখা যায়, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রমরমা বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন। যারা নগদে মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন তাদের ফাইল পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন কর্মকর্তারা। প্ল্যান পাস-এর নথি অনুমোদন করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্ল্যান পাস-এর সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়ে রাজউক কর্মকর্তাদের কাছে। আইটি প্রতিষ্ঠান ‘টেকনো হেভেন’ ছাড়াও রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন এবং অধঃস্তন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাই এই ‘ফাইল গায়েব’ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রুল জারি এবং গণমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর আইটি ফার্ম ও রাজউক কর্মকর্তারা ফেঁসে যান। বিশেষ করে সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১ মে, ২০২৩ এর সংখ্যায় “রাজউকে ফাইল গায়েবের নামে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার চলছে: মন্ত্রণালয়-উচ্চ আদালত কারো নির্দেশই মানছে না, তদন্তে টালবাহানা, প্ল্যান পাসের নতুন বাণিজ্য” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানমুলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মূলতঃ শীর্ষকাগজের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই রাজউক কর্মকর্তারা বাধ্য হন ‘হারিয়ে যাওয়া ৩০ হাজার ফাইলের সবগুলোই পাওয়া গেছে’ মর্মে ঘোষণা দিতে।

 

ডাটা সেন্টার বলছে, ফাইল গায়েব হয়নি কখনো

সরকারি মালিকানাধীন অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টারের সার্ভারে রাজউকের এ সংক্রান্ত সফটওয়্যারটি রাখা হয়েছিল। ডাটা সেন্টারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমেই রাজউকের সফটওয়ার বা নথিগুলো রাখা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী রাজউকের ফাইল-সফটওয়ারের পুরো নিরাপত্তা দেয়ার কথা সরকারের সংশ্লিষ্ট ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল)। কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে এর দায়ও তাদের বহন করার কথা। অথচ ফাইল গায়েবের বিষয়ে বিডিসিসিএল কোনো লিখিত বক্তব্য রাজউককে দেয়নি। শুধু রাজউক-ই বলেছে, তাদের ৩০ হাজার ফাইল গায়েব হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। কিন্তু এতটা হইচই, তোলপাড় চললেও রাজউকের পক্ষ থেকে বিডিসিসিএল- কে তখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চিঠি দেয়া হয়নি- ডাটাগুলো আদৌ গায়েব হয়েছে কিনা, কীভাবে গায়েব হয়েছে, কতটা গায়েব হয়েছে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে। যদিও নিয়মানুযায়ী এ ব্যাপারে শুরুতেই বিডিসিসিএল’র বক্তব্য নেয়ার কথা। উভয় পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে চিঠি চালাচালিও হয়ে যাওয়ার কথা বেশ কয়েক দফায়। এমনকি ডাটা নষ্ট হয়ে যাওয়া বা গায়েব হওয়ার কারণে রাজউকের পক্ষ থেকে বিডিসিসিএল’র কাছে ক্ষতিপূরণও দাবি করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো, ফাইল গায়েব সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রাথমিক চিঠিও দেয়নি রাজউক। বিডিসিসিএল’র কাছ থেকে কোনো বক্তব্য না নিয়েই রাজউক চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রচার করে দিলেন, তাদের ৩০ হাজার ফাইল গায়েব হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে রাজউক কর্মকর্তারা প্ল্যান পাস’র রমরমা ঘুষ বাণিজ্যে নেমে পড়লেন।

 

বিডিসিসিএল’র ওই আধুনিক ডাটা সেন্টারে শুধু রাজউকেরই নয়, অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানেরই ফাইল বা সফটওয়ার সংরক্ষিত আছে। নষ্ট হলে বা হারিয়ে গেলে একসঙ্গে সবগুলো প্রতিষ্ঠানের ফাইল-সফটওয়ার নষ্ট হওয়ার কথা। এটাই নিয়ম। অথচ একই ডাটা সেন্টারের সার্ভারে সংরক্ষিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ফাইল-সফটওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা শোনা যায়নি। রাজউকের তখনকার কর্মকর্তারাও এ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) অধীন যে ডাটা সেন্টারটিতে রাজউকের ডাটাগুলো রাখা হয়েছিল এটি বর্তমান বিশ্বের আধুনিক মানসম্পন্ন ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার। এ ধরনের ডাটা সেন্টারে ফাইল বা সফটওয়্যার গায়েব-হ্যাক হওয়ার, নষ্ট অথবা হারিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইটি বিশেষজ্ঞ এবং বিডিসিসিএল কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন। কারণ, এ ধরনের ডাটা সেন্টারের ডাটাগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য কমপক্ষে চারটি ব্যাক আপ পদ্ধতি রয়েছে। বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষকাগজের এ প্রতিবেদককে বলেছেন, তাদের ডাটা সেন্টারে সংরক্ষিত কোনো ফাইল বা সফটওয়্যার নষ্ট-হ্যাক বা গায়েব হয়নি এ পর্যন্ত কখনও। এমনকি সামান্যতমও ক্ষতিগ্রস্ত বা সাময়িক সময়ের জন্যও হারিয়ে যায়নি। তাহলে রাজউক কেন ডাটা সেন্টারে সংরক্ষিত তাদের ৩০ হাজার ফাইল গায়েব হওয়ার কথা বলেছে ২০২৩ সালের ওই সময়- এ প্রশ্নের জবাবে বিডিসিসিএল’র সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, তাদেরই জিজ্ঞেস করুন তারা কেন একথা বলেছে। তার মতে, রাজউকের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুয়া। নিজেদের হীন কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই রাজউক কর্মকর্তারা এসব ভুয়া কথা মার্কেটে ছড়িয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ, এমনকি হাইকোর্টের আদেশও মানেনি রাজউক!

রাজউকের ফাইল গায়েব হওয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২ জানুয়ারি, ২০২৩ রাজউকের প্রতি সুয়োমটো রুল জারি করেন। রুল আদেশে রাজউক চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহ’র মধ্যে ফাইল গায়েবের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এবং ফাইল গায়েবের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জানাতে বলা হয়। ওইদিন সবগুলো গণমাধ্যমে হাইকোর্টের এই আদেশের কথা ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। অথচ হাইকোর্টের ওই আদেশ মানেনি রাজউক। হাইকোর্টের আদেশের দীর্ঘ চার মাস পরে ৩০ এপ্রিল, ২০২৩ হাইকোর্টে একটি জবাব দাখিল করে রাজউক। তাতে বলা হয়, গায়েব হওয়া ফাইলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু কীভাবে গায়েব হয়েছে, কীভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে- এ বিষয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা রাজউকের ওই জবাব ছিল না।

 

তাছাড়া এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, হাইকোর্টের রুলে তদন্ত কমিটি গঠন করে চার সপ্তার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রাজউকের পক্ষ থেকে দাখিল করা জবাবে এ সম্পর্কে তথ্য নেই। এক্ষেত্রে হাইকোর্টকেও ধোঁকা দিয়েছেন রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকে ম্যানেজ করেই হাইকোর্টকে এভাবে ধোঁকা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

জানা যায়, ২ জানুয়ারি, ২০২৩ একই দিন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকেও রাজউককে চিঠি দেয়া হয়েছিল, ফাইল গায়েবের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছিল। বুয়েটের একজন প্রফেসরের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রাজউকের পক্ষ থেকে তখন প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো, সেই তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। সবকিছু ধামাচাপা দিয়েছেন রাজউকের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিজেদের অপকর্মের দায় থেকে বাঁচার জন্য।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেছেন, তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন এটা ডাটা সেন্টারের কোনো সমস্যা ছিল না। ফাইল গায়েবের বিষয়টি রাজউকের সফটওয়ার তৈরিকারক ও সহায়তাকারী কোম্পানি টেকনো হেভেন এবং রাজউক কর্মকর্তাদের নিজেদের মধ্যকার কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়। এরা নিজেরাই সমস্যা তৈরি করে ‘প্ল্যান পাস’ বাবদ সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই সময়। যারা ইতিপূর্বে প্ল্যান পাসের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন তাদের কারো কারো কাছ থেকে ভুয়া কাগজপত্র জমা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেকের কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে নতুন করে ঘুষ দিতে হয়েছে আগের কাগজপত্র ঠিক রাখার জন্য।

 

নিম্ন আদালতের মামলায়ও কারসাজি, পুলিশের রহস্যজনক প্রতিবেদন

২০২২ সালের শেষে যখন এসব নথি গায়েব হওয়ার খবর রাজউকের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয় ওই সময় এ ব্যাপারে জিডি এন্ট্রিও হয়। সেই জিডি এন্ট্রি পরবর্তীতে মামলায় পরিণত হয়। কিন্তু সম্প্রতি ওই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ বলেছে, নথি গায়েবের সঙ্গে কারো কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই অর্থাৎ কেউ দায়ী নয়। যা অত্যন্ত রহস্যজনক। রাজউক অবশ্য পুলিশের ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে নারাজি দিয়েছে। রাজউকের সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, নথি গায়েবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুলিশকে ম্যানেজ করেই এ ধরনের নামেমাত্র প্রতিবেদন দাখিলের ব্যবস্থা করেছেন। এরসঙ্গে টেকনো হেভেনও জড়িত। টেকনো হেভেন নামে প্রতিষ্ঠানটি রাজউকের সঙ্গে আইটি সংশ্লিষ্ট কাজকর্মে এবং চুক্তিতে শুরু থেকেই অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে আসছিল। কোনো রকমের টেন্ডার ছাড়াই রাজউক এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আইটি কাজকর্মের চুক্তি করেছে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও থামানো যায়নি। কারণ, এ প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়-এর বন্ধুর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। রাজউকের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তারও এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে গোপন টেন্ডারে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ।

মন্ত্রণালয় এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশও মানা হয়নি  রাজউকের ৩০ হাজার নথি গায়েব: ব্যবস্থা নেয়া হয়নি দু’বছরেও।

আপডেট সময় : ০৯:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

 

 

রাজউকের বহুল আলোচিত ৩০ হাজার নথি গায়েবের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানেনি রাজউক। এমনকি হাইকোর্ট থেকে সুয়োমটো রুল জারি করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও সেটিও মানেননি রাজউকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। হাইকোর্টের রুল জারির পর এক পর্যায়ে রাজউকের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হলো, হারিয়ে যাওয়া সবগুলো ফাইলই পাওয়া গেছে। কিন্তু রাজউকের সফটওয়্যার থেকে কীভাবে ডাটাগুলো গায়েব হয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে তা পাওয়া গেছে, এসব ঘটনার জন্য কে বা কারা দায়ী- এ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই রাজউকের কাছে। উচ্চ আদালতের রুলের যে জবাব রাজউকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে তাতেও এসবের কোনো ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়নি।

উল্লেখ্য, রাজউকের এ নথিগুলো গায়েব হয় এমন এক সময়ে যখন ড্যাপ বাস্তবায়ন নিয়ে মহা বিতর্ক চলছিল। ২৩ আগস্ট, ২০২২ ঢাকা মহানগর এলাকার জন্য রাজউকের প্রণয়ন করা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুমোদন দেয় সরকার। ড্যাপের এই নিয়ম অনুযায়ী, রাজউকের আওতাধীন অধিকাংশ এলাকায় আগের চেয়ে কম উচ্চতার ভবন নির্মাণ করতে হবে জমির মালিকদের। পরে জমির মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজউক সিদ্ধান্ত নেয়, যারা ২৩ আগস্টের আগে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন তারা আগের নিয়মে ভবন নির্মাণ করতে পারবেন। অর্থাৎ, বর্তমান ড্যাপে উল্লিখিত আয়তনের চেয়ে বেশি আয়তন পাবেন। ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজউক। কিন্তু এর একদিন পরই ৬ ডিসেম্বর রাজউকের ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর এক পর্যায়ে বলা হয়, ৩০ হাজার ফাইল গায়েব হয়ে গেছে রাজউকের সফটওয়ার থেকে।

 

শুরু থেকেই রাজউকের ভেতরের-বাইরের অনেকের মধ্যে এমন সন্দেহ তৈরি হয় যে, রাজউকের আইটি প্রতিষ্ঠান টেকনো হেভেন-এর সঙ্গে যোগসাজশে রাজউছক কর্মকর্তারাই মূলতঃ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাইল গায়েব করেছেন প্ল্যান পাসের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা আদায় করার জন্য। ক্রমেই সেই সন্দেহটি বাস্তবে প্রমাণিত হয়। দেখা যায়, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রমরমা বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন। যারা নগদে মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন তাদের ফাইল পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন কর্মকর্তারা। প্ল্যান পাস-এর নথি অনুমোদন করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্ল্যান পাস-এর সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়ে রাজউক কর্মকর্তাদের কাছে। আইটি প্রতিষ্ঠান ‘টেকনো হেভেন’ ছাড়াও রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন এবং অধঃস্তন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাই এই ‘ফাইল গায়েব’ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রুল জারি এবং গণমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর আইটি ফার্ম ও রাজউক কর্মকর্তারা ফেঁসে যান। বিশেষ করে সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১ মে, ২০২৩ এর সংখ্যায় “রাজউকে ফাইল গায়েবের নামে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার চলছে: মন্ত্রণালয়-উচ্চ আদালত কারো নির্দেশই মানছে না, তদন্তে টালবাহানা, প্ল্যান পাসের নতুন বাণিজ্য” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানমুলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মূলতঃ শীর্ষকাগজের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই রাজউক কর্মকর্তারা বাধ্য হন ‘হারিয়ে যাওয়া ৩০ হাজার ফাইলের সবগুলোই পাওয়া গেছে’ মর্মে ঘোষণা দিতে।

 

ডাটা সেন্টার বলছে, ফাইল গায়েব হয়নি কখনো

সরকারি মালিকানাধীন অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টারের সার্ভারে রাজউকের এ সংক্রান্ত সফটওয়্যারটি রাখা হয়েছিল। ডাটা সেন্টারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমেই রাজউকের সফটওয়ার বা নথিগুলো রাখা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী রাজউকের ফাইল-সফটওয়ারের পুরো নিরাপত্তা দেয়ার কথা সরকারের সংশ্লিষ্ট ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল)। কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে এর দায়ও তাদের বহন করার কথা। অথচ ফাইল গায়েবের বিষয়ে বিডিসিসিএল কোনো লিখিত বক্তব্য রাজউককে দেয়নি। শুধু রাজউক-ই বলেছে, তাদের ৩০ হাজার ফাইল গায়েব হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। কিন্তু এতটা হইচই, তোলপাড় চললেও রাজউকের পক্ষ থেকে বিডিসিসিএল- কে তখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চিঠি দেয়া হয়নি- ডাটাগুলো আদৌ গায়েব হয়েছে কিনা, কীভাবে গায়েব হয়েছে, কতটা গায়েব হয়েছে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে। যদিও নিয়মানুযায়ী এ ব্যাপারে শুরুতেই বিডিসিসিএল’র বক্তব্য নেয়ার কথা। উভয় পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে চিঠি চালাচালিও হয়ে যাওয়ার কথা বেশ কয়েক দফায়। এমনকি ডাটা নষ্ট হয়ে যাওয়া বা গায়েব হওয়ার কারণে রাজউকের পক্ষ থেকে বিডিসিসিএল’র কাছে ক্ষতিপূরণও দাবি করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো, ফাইল গায়েব সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রাথমিক চিঠিও দেয়নি রাজউক। বিডিসিসিএল’র কাছ থেকে কোনো বক্তব্য না নিয়েই রাজউক চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রচার করে দিলেন, তাদের ৩০ হাজার ফাইল গায়েব হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে রাজউক কর্মকর্তারা প্ল্যান পাস’র রমরমা ঘুষ বাণিজ্যে নেমে পড়লেন।

 

বিডিসিসিএল’র ওই আধুনিক ডাটা সেন্টারে শুধু রাজউকেরই নয়, অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানেরই ফাইল বা সফটওয়ার সংরক্ষিত আছে। নষ্ট হলে বা হারিয়ে গেলে একসঙ্গে সবগুলো প্রতিষ্ঠানের ফাইল-সফটওয়ার নষ্ট হওয়ার কথা। এটাই নিয়ম। অথচ একই ডাটা সেন্টারের সার্ভারে সংরক্ষিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ফাইল-সফটওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা শোনা যায়নি। রাজউকের তখনকার কর্মকর্তারাও এ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) অধীন যে ডাটা সেন্টারটিতে রাজউকের ডাটাগুলো রাখা হয়েছিল এটি বর্তমান বিশ্বের আধুনিক মানসম্পন্ন ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার। এ ধরনের ডাটা সেন্টারে ফাইল বা সফটওয়্যার গায়েব-হ্যাক হওয়ার, নষ্ট অথবা হারিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইটি বিশেষজ্ঞ এবং বিডিসিসিএল কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন। কারণ, এ ধরনের ডাটা সেন্টারের ডাটাগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য কমপক্ষে চারটি ব্যাক আপ পদ্ধতি রয়েছে। বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষকাগজের এ প্রতিবেদককে বলেছেন, তাদের ডাটা সেন্টারে সংরক্ষিত কোনো ফাইল বা সফটওয়্যার নষ্ট-হ্যাক বা গায়েব হয়নি এ পর্যন্ত কখনও। এমনকি সামান্যতমও ক্ষতিগ্রস্ত বা সাময়িক সময়ের জন্যও হারিয়ে যায়নি। তাহলে রাজউক কেন ডাটা সেন্টারে সংরক্ষিত তাদের ৩০ হাজার ফাইল গায়েব হওয়ার কথা বলেছে ২০২৩ সালের ওই সময়- এ প্রশ্নের জবাবে বিডিসিসিএল’র সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, তাদেরই জিজ্ঞেস করুন তারা কেন একথা বলেছে। তার মতে, রাজউকের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুয়া। নিজেদের হীন কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই রাজউক কর্মকর্তারা এসব ভুয়া কথা মার্কেটে ছড়িয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ, এমনকি হাইকোর্টের আদেশও মানেনি রাজউক!

রাজউকের ফাইল গায়েব হওয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২ জানুয়ারি, ২০২৩ রাজউকের প্রতি সুয়োমটো রুল জারি করেন। রুল আদেশে রাজউক চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহ’র মধ্যে ফাইল গায়েবের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এবং ফাইল গায়েবের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জানাতে বলা হয়। ওইদিন সবগুলো গণমাধ্যমে হাইকোর্টের এই আদেশের কথা ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। অথচ হাইকোর্টের ওই আদেশ মানেনি রাজউক। হাইকোর্টের আদেশের দীর্ঘ চার মাস পরে ৩০ এপ্রিল, ২০২৩ হাইকোর্টে একটি জবাব দাখিল করে রাজউক। তাতে বলা হয়, গায়েব হওয়া ফাইলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু কীভাবে গায়েব হয়েছে, কীভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে- এ বিষয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা রাজউকের ওই জবাব ছিল না।

 

তাছাড়া এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, হাইকোর্টের রুলে তদন্ত কমিটি গঠন করে চার সপ্তার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রাজউকের পক্ষ থেকে দাখিল করা জবাবে এ সম্পর্কে তথ্য নেই। এক্ষেত্রে হাইকোর্টকেও ধোঁকা দিয়েছেন রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকে ম্যানেজ করেই হাইকোর্টকে এভাবে ধোঁকা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

জানা যায়, ২ জানুয়ারি, ২০২৩ একই দিন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকেও রাজউককে চিঠি দেয়া হয়েছিল, ফাইল গায়েবের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছিল। বুয়েটের একজন প্রফেসরের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রাজউকের পক্ষ থেকে তখন প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো, সেই তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। সবকিছু ধামাচাপা দিয়েছেন রাজউকের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিজেদের অপকর্মের দায় থেকে বাঁচার জন্য।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেছেন, তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন এটা ডাটা সেন্টারের কোনো সমস্যা ছিল না। ফাইল গায়েবের বিষয়টি রাজউকের সফটওয়ার তৈরিকারক ও সহায়তাকারী কোম্পানি টেকনো হেভেন এবং রাজউক কর্মকর্তাদের নিজেদের মধ্যকার কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়। এরা নিজেরাই সমস্যা তৈরি করে ‘প্ল্যান পাস’ বাবদ সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই সময়। যারা ইতিপূর্বে প্ল্যান পাসের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন তাদের কারো কারো কাছ থেকে ভুয়া কাগজপত্র জমা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেকের কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে নতুন করে ঘুষ দিতে হয়েছে আগের কাগজপত্র ঠিক রাখার জন্য।

 

নিম্ন আদালতের মামলায়ও কারসাজি, পুলিশের রহস্যজনক প্রতিবেদন

২০২২ সালের শেষে যখন এসব নথি গায়েব হওয়ার খবর রাজউকের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয় ওই সময় এ ব্যাপারে জিডি এন্ট্রিও হয়। সেই জিডি এন্ট্রি পরবর্তীতে মামলায় পরিণত হয়। কিন্তু সম্প্রতি ওই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ বলেছে, নথি গায়েবের সঙ্গে কারো কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই অর্থাৎ কেউ দায়ী নয়। যা অত্যন্ত রহস্যজনক। রাজউক অবশ্য পুলিশের ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে নারাজি দিয়েছে। রাজউকের সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, নথি গায়েবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুলিশকে ম্যানেজ করেই এ ধরনের নামেমাত্র প্রতিবেদন দাখিলের ব্যবস্থা করেছেন। এরসঙ্গে টেকনো হেভেনও জড়িত। টেকনো হেভেন নামে প্রতিষ্ঠানটি রাজউকের সঙ্গে আইটি সংশ্লিষ্ট কাজকর্মে এবং চুক্তিতে শুরু থেকেই অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে আসছিল। কোনো রকমের টেন্ডার ছাড়াই রাজউক এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আইটি কাজকর্মের চুক্তি করেছে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও থামানো যায়নি। কারণ, এ প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়-এর বন্ধুর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। রাজউকের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তারও এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।