ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাগুরা জার্নালিস্ট ফোরাম ঢাকা’র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি শাহিনুর, সম্পাদক রবি। সারাক্ষণ বার্তায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লিপি। তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ঘুসকান্ডে চুড়ান্তভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। প্রতিবাদও কি ‘ম্যানেজড’? গণপূর্তের কায়কোবাদকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন : এক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব অন্য মাধ্যমে—‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’র অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ?   ৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা। এমডি’র অব্যবস্থাপনায় ডুবছে অগ্রণী ব্যাংক! ভাঙ্গুড়ায় শহীদ মিনারের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। আলীগের সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে যশোরে হত্যাচেষ্টা মামলা। শিশু খাদ্যে ভেজালে পুলেরহাটে তানসীপ ট্রেডার্সকে লক্ষ টাকা জরিমানা।

শেরপুরে দলিত নারীদের মুষ্টির চালে “দুর্গা পূজা”।

অভাবের সংসার, তবু থেমে নেই উদ্যম। প্রতিদিন মুঠোভর্তি চালের বিনিময়ে জমেছে টাকা। সেই টাকা দিয়ে শেরপুরের ‘দিন আনে দিন খান’ নারীরা নিজ উদ্যোগে আয়োজন করছেন দুর্গাপূজা। দলিত নারীদের এমন উদ্যোগ জেলাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আয়োজক ও বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর পৌর শহরের সাতানিপাড়া মহল্লায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। পেশায় দিনমজুর, আয় রোজগারে টানাপোড়েন। সেই মহল্লার নারীরা গড়ে তুলেছেন ‘উমা সংঘ’ নামের একটি সংগঠন। এর সদস্যসংখ্যা ২৩।

সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহল্লার ৪২টি পরিবার থেকে প্রতিদিন মুষ্টি চাল সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই চাল বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে ২০০ টাকা জমা হয়। এক বছরে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়েই শুরু হয় পূজার প্রস্তুতি। যদিও পূজার ব্যয় আরও বেশি হবে। তাই তাঁরা শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় সামর্থ্যবানদের সহযোগিতা নিচ্ছেন।

এখন প্রতিমা নির্মাণ ও রঙের কাজ শেষ। চলছে গেট নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জার প্রস্তুতি। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। নারীদের পাশাপাশি এলাকার পুরুষ ও তরুণেরাও সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। শুধু এ বছর নয়, গত বছরও উমা সংঘের আয়োজনে নারী নেতৃত্বে প্রথম দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছিল।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমিতা বিশ্বাস বলেন, তাঁদের পাড়ায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি ব্রাহ্মণ ও কায়স্থ পরিবার থাকে। তাঁরাও সহযোগিতা করছেন। এ বছর সফলভাবে পূজা শেষ করতে পারলে আগামী দিনে আরও বড় আয়োজনের পরিকল্পনা আছে তাঁদের।

সাতা‌নিপাড়া মহল্লার বিদ্বান বিশ্বাস বলেন, দেবী দুর্গা নারীশক্তির প্রতীক। তাই নারীরাই যখন পূজার আয়োজন করছেন, এটি সমাজের জন্য দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ।

উমা সংঘের সভাপতি মুক্তি বিশ্বাস বলেন, নারীশক্তির জাগরণের জন্য তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিটি পরিবার থেকে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করে যে টাকা জমিয়েছেন, সেই টাকা তাঁদের এমন উদ্যোগ নিতে সাহস জুগিয়েছে।

শেরপুর জেলা পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের সভাপতি জিতেন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আমরা সরেজমিন উমা সংঘের পূজার আয়োজন দেখেছি। তাই তাদের জন্য বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও সহযোগিতা করবেন। শুধু পূজার আয়োজনই নয়, নারীশক্তির আরাধনাও করছে এই সংগঠন। আমি তা‌দের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরা জার্নালিস্ট ফোরাম ঢাকা’র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি শাহিনুর, সম্পাদক রবি।

শেরপুরে দলিত নারীদের মুষ্টির চালে “দুর্গা পূজা”।

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অভাবের সংসার, তবু থেমে নেই উদ্যম। প্রতিদিন মুঠোভর্তি চালের বিনিময়ে জমেছে টাকা। সেই টাকা দিয়ে শেরপুরের ‘দিন আনে দিন খান’ নারীরা নিজ উদ্যোগে আয়োজন করছেন দুর্গাপূজা। দলিত নারীদের এমন উদ্যোগ জেলাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আয়োজক ও বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর পৌর শহরের সাতানিপাড়া মহল্লায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। পেশায় দিনমজুর, আয় রোজগারে টানাপোড়েন। সেই মহল্লার নারীরা গড়ে তুলেছেন ‘উমা সংঘ’ নামের একটি সংগঠন। এর সদস্যসংখ্যা ২৩।

সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহল্লার ৪২টি পরিবার থেকে প্রতিদিন মুষ্টি চাল সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই চাল বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে ২০০ টাকা জমা হয়। এক বছরে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়েই শুরু হয় পূজার প্রস্তুতি। যদিও পূজার ব্যয় আরও বেশি হবে। তাই তাঁরা শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় সামর্থ্যবানদের সহযোগিতা নিচ্ছেন।

এখন প্রতিমা নির্মাণ ও রঙের কাজ শেষ। চলছে গেট নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জার প্রস্তুতি। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। নারীদের পাশাপাশি এলাকার পুরুষ ও তরুণেরাও সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। শুধু এ বছর নয়, গত বছরও উমা সংঘের আয়োজনে নারী নেতৃত্বে প্রথম দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছিল।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমিতা বিশ্বাস বলেন, তাঁদের পাড়ায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি ব্রাহ্মণ ও কায়স্থ পরিবার থাকে। তাঁরাও সহযোগিতা করছেন। এ বছর সফলভাবে পূজা শেষ করতে পারলে আগামী দিনে আরও বড় আয়োজনের পরিকল্পনা আছে তাঁদের।

সাতা‌নিপাড়া মহল্লার বিদ্বান বিশ্বাস বলেন, দেবী দুর্গা নারীশক্তির প্রতীক। তাই নারীরাই যখন পূজার আয়োজন করছেন, এটি সমাজের জন্য দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ।

উমা সংঘের সভাপতি মুক্তি বিশ্বাস বলেন, নারীশক্তির জাগরণের জন্য তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিটি পরিবার থেকে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করে যে টাকা জমিয়েছেন, সেই টাকা তাঁদের এমন উদ্যোগ নিতে সাহস জুগিয়েছে।

শেরপুর জেলা পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের সভাপতি জিতেন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আমরা সরেজমিন উমা সংঘের পূজার আয়োজন দেখেছি। তাই তাদের জন্য বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও সহযোগিতা করবেন। শুধু পূজার আয়োজনই নয়, নারীশক্তির আরাধনাও করছে এই সংগঠন। আমি তা‌দের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’