ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল! নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাষা কর্মশালা ও মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন। নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন। প্রায় ২০ কোটি টাকার স্থাপনার হদিস নেই, রামেবি ক্যাম্পাসে লুটপাটের অভিযোগ। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট’র উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু শিবির ও মেডিক্যাল ক্যাম্প সম্পন্ন। আখাউড়ায় বিশেষ অভিযানে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার একটি স্বপ্নের নাম মর্ম মাধুর্য বসু (তাথৈ) শুভ জন্মদিন, আমাদের প্রাণের আলো। হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন।

জীবন্ত অসাম্প্রদায়িকতার ইতিকথন: চুকনগর জেনোসাইড।যেন গল্পকেও হার মানায়।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৫৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

 

মানবিক পিতার , মানবিকতা গল্প নহে সত্য!

ধর্ম মানুষ কে মানবতা শিখায়, হিংসা নহে কভু।

এক মহান মানুষ এরশাদ আলী মোড়লের পিতৃস্নেহ এবং ১৯৭১ সালে খুলনার চুকনগর গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া দুগ্ধপোষ্য সুন্দরীবালার জীবনালেখ্য যেন মানবিকতা এক অনন্য উদাহরণ।যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে যায় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন।

এক মহান পিতা ১৯৭১ সালের ২১ মে চুকনগরের লাশের স্তূপ থেকে বুকে তুলে নেন পাকিস্তানী বর্বরতায় সদ্য অনাথ এক ৫/৬ মাসের দুগ্ধপোষ্য কন্যাশিশুকে! তাকে নিয়ে রচিত হয়েছে মানবতার এক অমর গাথা আজ খুলনাবাসীর মুখে মুখে।

নিজের বাড়িতে আজান,নামাজ কোরান পড়ার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুটিকে পূজা অর্চনার মাধ্যমে তার পারিবারিক রীতিতে বড়ো করলেন, বিয়ে ও দিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী পাত্রের সাথে।

একাত্তরের ২০ মে বাড়িতে নিয়ে আদর, যত্ন, ভালোবাসায় পিতৃস্নেহে বড়ো করে বিয়ে দিলেন অচেনা সেই অনাথ শিশুকে।

সনাতন ধর্মের সাথে মিল রেখে নাম রেখেছিলেন রাজকুমারী সুন্দরীবালা।

বাড়ির কোণে ঠাকুরঘর তৈরি করে উঠোনে তুলসী গাছ রেখে পূজো আর্চা,গীতা পাঠ শিখিয়ে বড়ো করেছেন। একই ঘরে আযান এবং উলু ধ্বনি একাকার হয়ে যায় মানবতার জয়গানে।

রাজকুমারী সুন্দরীবালা বেড়ে উঠবার পর সনাতন সম্প্রদায়ের পাত্রের কাছে তাঁর বিয়ে দেন কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল।

১৯৭১ সালের ২০ মে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে একসাথে ১০ হাজার নর-নারী এবং শিশুকে হত্যা করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস বাহিনী।

একাত্তরের বর্বরতম এ গণহত্যা সংঘটিত হয় খুলনা জেলার চুকনগর গ্রামে ভদ্রা নদীর পাড়ে।

চুকনগরের প্রতিটি নারী-পুরুষকে একটি মন্দিরের সামনে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাযজ্ঞের একদিন পর লাশের পাহাড়ে পিতাকে খুঁজতে আসেন কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল।

২১ মে ১০ হাজার নারী-পুরুষের রক্তাক্ত লাশের স্তুপ ঘেঁটে নিহত পিতার লাশ না পেয়ে শোকস্তব্ধ এরশাদ আলী চলে আসবার উদ্যোগ নিতেই শিশুর কান্না শুনে থমকে যান। তাকিয়ে দেখলেন, নিহত এক মহিলার বুকের উপর হামাগুড়ি দিয়ে একটি ক্ষুধার্ত শিশু আকুল হয়ে দুধ খুঁজছে!

পিতৃস্নেহে আর্দ্র হৃদয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নিহত মহিলার দিকে তাকিয়ে দেখলেন মহিলাটির হাতে সাদা শাঁখা মাথায় রক্তরাঙা সিঁদুর। সনাতন ধর্মের নিরীহ কন্যাশিশুটির বয়স ছিল তখন আনুমানিক ৬ মাস।

মহান এই বাবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো। কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল আমাদের মতো কোট- টাই পড়া বাবুদের শিখিয়ে দিয়ে গেলেন সত্যিকারের মানবতা।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল!

জীবন্ত অসাম্প্রদায়িকতার ইতিকথন: চুকনগর জেনোসাইড।যেন গল্পকেও হার মানায়।

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

 

 

মানবিক পিতার , মানবিকতা গল্প নহে সত্য!

ধর্ম মানুষ কে মানবতা শিখায়, হিংসা নহে কভু।

এক মহান মানুষ এরশাদ আলী মোড়লের পিতৃস্নেহ এবং ১৯৭১ সালে খুলনার চুকনগর গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া দুগ্ধপোষ্য সুন্দরীবালার জীবনালেখ্য যেন মানবিকতা এক অনন্য উদাহরণ।যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে যায় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন।

এক মহান পিতা ১৯৭১ সালের ২১ মে চুকনগরের লাশের স্তূপ থেকে বুকে তুলে নেন পাকিস্তানী বর্বরতায় সদ্য অনাথ এক ৫/৬ মাসের দুগ্ধপোষ্য কন্যাশিশুকে! তাকে নিয়ে রচিত হয়েছে মানবতার এক অমর গাথা আজ খুলনাবাসীর মুখে মুখে।

নিজের বাড়িতে আজান,নামাজ কোরান পড়ার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুটিকে পূজা অর্চনার মাধ্যমে তার পারিবারিক রীতিতে বড়ো করলেন, বিয়ে ও দিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী পাত্রের সাথে।

একাত্তরের ২০ মে বাড়িতে নিয়ে আদর, যত্ন, ভালোবাসায় পিতৃস্নেহে বড়ো করে বিয়ে দিলেন অচেনা সেই অনাথ শিশুকে।

সনাতন ধর্মের সাথে মিল রেখে নাম রেখেছিলেন রাজকুমারী সুন্দরীবালা।

বাড়ির কোণে ঠাকুরঘর তৈরি করে উঠোনে তুলসী গাছ রেখে পূজো আর্চা,গীতা পাঠ শিখিয়ে বড়ো করেছেন। একই ঘরে আযান এবং উলু ধ্বনি একাকার হয়ে যায় মানবতার জয়গানে।

রাজকুমারী সুন্দরীবালা বেড়ে উঠবার পর সনাতন সম্প্রদায়ের পাত্রের কাছে তাঁর বিয়ে দেন কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল।

১৯৭১ সালের ২০ মে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে একসাথে ১০ হাজার নর-নারী এবং শিশুকে হত্যা করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস বাহিনী।

একাত্তরের বর্বরতম এ গণহত্যা সংঘটিত হয় খুলনা জেলার চুকনগর গ্রামে ভদ্রা নদীর পাড়ে।

চুকনগরের প্রতিটি নারী-পুরুষকে একটি মন্দিরের সামনে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাযজ্ঞের একদিন পর লাশের পাহাড়ে পিতাকে খুঁজতে আসেন কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল।

২১ মে ১০ হাজার নারী-পুরুষের রক্তাক্ত লাশের স্তুপ ঘেঁটে নিহত পিতার লাশ না পেয়ে শোকস্তব্ধ এরশাদ আলী চলে আসবার উদ্যোগ নিতেই শিশুর কান্না শুনে থমকে যান। তাকিয়ে দেখলেন, নিহত এক মহিলার বুকের উপর হামাগুড়ি দিয়ে একটি ক্ষুধার্ত শিশু আকুল হয়ে দুধ খুঁজছে!

পিতৃস্নেহে আর্দ্র হৃদয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নিহত মহিলার দিকে তাকিয়ে দেখলেন মহিলাটির হাতে সাদা শাঁখা মাথায় রক্তরাঙা সিঁদুর। সনাতন ধর্মের নিরীহ কন্যাশিশুটির বয়স ছিল তখন আনুমানিক ৬ মাস।

মহান এই বাবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো। কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল আমাদের মতো কোট- টাই পড়া বাবুদের শিখিয়ে দিয়ে গেলেন সত্যিকারের মানবতা।