ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল! নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাষা কর্মশালা ও মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন। নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন। প্রায় ২০ কোটি টাকার স্থাপনার হদিস নেই, রামেবি ক্যাম্পাসে লুটপাটের অভিযোগ। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট’র উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু শিবির ও মেডিক্যাল ক্যাম্প সম্পন্ন। আখাউড়ায় বিশেষ অভিযানে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার একটি স্বপ্নের নাম মর্ম মাধুর্য বসু (তাথৈ) শুভ জন্মদিন, আমাদের প্রাণের আলো। হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন।

হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হাবিবা বেগম।

  • রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩১ জন সংবাদটি পড়েছেন

সব প্রার্থী যখন নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মাঠে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সদ্য প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে প্রচারের প্রস্তুতি শুরু করেছেন রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম ওরফে শেখ হাবিবা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী হকার্স মার্কেটে একটি ছাপাখানায় লিফলেট ছাপাতে দেখা যায় তাঁকে। লিফলেট হাতে পেয়েই প্রেস এলাকা থেকেই বিলি শুরু করেন তিনি।

এর আগে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে না পেয়ে জাতির উদ্দেশে সাংবাদিকদের সামনে একটি জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছিলেন হাবিবা বেগম। তাঁর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালতের আদেশে তাঁর সংসদ সদস্য প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়।

হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাবিবা বেগমকে প্রতীক বরাদ্দ দেন। তিনি ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন। রাজশাহী জেলায় তিনি একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

হাবিবা বেগম জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর নামে ছয়টি মামলা দায়ের হয় এবং তাঁকে সাতবার কারাগারে যেতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অতীতে পুলিশের হাতে কামড় দেওয়ার ঘটনায় তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন।

হাবিবার বাড়ি রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা গ্রামে। তাঁর স্বামীর নাম মাসুদ রানা ওরফে হেলাল। রাজনৈতিক জীবনে তিনি উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক নারীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

প্রার্থিতা বাতিল ও পুনর্বহালের বিষয়ে হাবিবা বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে আমার প্রার্থিতা বাতিল করেন। আপিল করেও ফেরত পাইনি। এরপর সাংবাদিকদের সামনে আমি বক্তব্য দিই, কারণ আপিলের সময় আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশবাসী জানেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রদ্ধেয় হাদি ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে গুলি খেয়ে মারা গেছেন।

হাবিবা দাবি করেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। তবে স্বাক্ষরদাতাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি নামের তালিকা প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি যদি সবার জীবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন, তাহলে আমি তালিকা প্রকাশ করব। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বুধবার সকালে বলেন, মঙ্গলবার রাতেই হাইকোর্টের আদেশ পেয়েছি এবং রাতেই হাবিবা বেগমকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে হাবিবা বলেন, অর্থের অভাব থাকলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না। “আমার স্বামীর একটি জমি আছে, সেটি এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছি। আরেক জায়গায় ছয় কাঠা জমি আছে, সেটিও বন্ধক রাখার জন্য আমার স্বামী গেছেন। এভাবেই আমি নির্বাচন করব। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। নির্বাচনী খরচ জনগণই বহন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল!

হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হাবিবা বেগম।

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

সব প্রার্থী যখন নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মাঠে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সদ্য প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে প্রচারের প্রস্তুতি শুরু করেছেন রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম ওরফে শেখ হাবিবা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী হকার্স মার্কেটে একটি ছাপাখানায় লিফলেট ছাপাতে দেখা যায় তাঁকে। লিফলেট হাতে পেয়েই প্রেস এলাকা থেকেই বিলি শুরু করেন তিনি।

এর আগে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে না পেয়ে জাতির উদ্দেশে সাংবাদিকদের সামনে একটি জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছিলেন হাবিবা বেগম। তাঁর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালতের আদেশে তাঁর সংসদ সদস্য প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়।

হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাবিবা বেগমকে প্রতীক বরাদ্দ দেন। তিনি ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন। রাজশাহী জেলায় তিনি একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

হাবিবা বেগম জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর নামে ছয়টি মামলা দায়ের হয় এবং তাঁকে সাতবার কারাগারে যেতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অতীতে পুলিশের হাতে কামড় দেওয়ার ঘটনায় তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন।

হাবিবার বাড়ি রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা গ্রামে। তাঁর স্বামীর নাম মাসুদ রানা ওরফে হেলাল। রাজনৈতিক জীবনে তিনি উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক নারীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

প্রার্থিতা বাতিল ও পুনর্বহালের বিষয়ে হাবিবা বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে আমার প্রার্থিতা বাতিল করেন। আপিল করেও ফেরত পাইনি। এরপর সাংবাদিকদের সামনে আমি বক্তব্য দিই, কারণ আপিলের সময় আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশবাসী জানেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রদ্ধেয় হাদি ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে গুলি খেয়ে মারা গেছেন।

হাবিবা দাবি করেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। তবে স্বাক্ষরদাতাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি নামের তালিকা প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি যদি সবার জীবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন, তাহলে আমি তালিকা প্রকাশ করব। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বুধবার সকালে বলেন, মঙ্গলবার রাতেই হাইকোর্টের আদেশ পেয়েছি এবং রাতেই হাবিবা বেগমকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে হাবিবা বলেন, অর্থের অভাব থাকলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না। “আমার স্বামীর একটি জমি আছে, সেটি এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছি। আরেক জায়গায় ছয় কাঠা জমি আছে, সেটিও বন্ধক রাখার জন্য আমার স্বামী গেছেন। এভাবেই আমি নির্বাচন করব। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। নির্বাচনী খরচ জনগণই বহন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।