জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বর্তমানে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে একজন নাগরিককে হত্যার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্ধারিত বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে পুলিশের উচ্চপদে পদোন্নতি পেয়েছেন। শুধু পেশাগত ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও রয়েছে তার বিরুদ্ধে নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগ।
মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার থাকাকালে তিনি অধীনস্থ এক ওসির স্ত্রীকে বিয়ে করেন। এর আগে তালাক দেন প্রথম স্ত্রী ফাহিমা আক্তারকে। ফাহিমা অভিযোগ করেছেন- তালাকের পরও জহিরুল তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়ার্টারে রিজার্ভ হিসাবে সংযুক্ত রয়েছেন। গত ২৫ এপ্রিল সাবেক স্ত্রী ফাহিমা আক্তার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও প্রায় এক বছর পার হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি তিনি স্বরাষ্ট সচিব মহোদয়ের কাছে আরেকখানা লিখিত অভিযোগজমা দিয়েছেন। এই অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন যে, অতি: ডিআইজি মো: জহিরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সোনিয়া দেশের বিভিন্ন থানায় ক্ষমতার অপব্যববহার বরে দেশের বিভিন্ন থানায় তার নামে প্রায় ১০ টি জিডি ও মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছেন। তার স্বাভাবিক জীবনটাকে নরকে পরিণত করেছেন। অতিরিক্ত ডিআইজি মো: জহুরুল ইসলামকে নিয়ে ইতিপর্বে সোস্যাল মিডিয়া ও পত্র পত্রিকায় অসংখ্য নোংরা নিউজ ছাপা হয়েছে। পরনারী ভোগের ভিডিও ফাম হয়েছে। এমন কি তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র জনতা হত্যা মামলাও রয়েছে। যে মামলায় তিনি ৫ নং আসামী।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই ঢাকার ভাটারা থানাধীন কুড়িল এলাকায় ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলি ও পিটুনিতে নিহত হন জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ৫ নম্বর আসামি হলেন অতি: ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। ভাটারা থানার ওসি রাকিবুল হাসান জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী শফিকুল ঢাকা উত্তর জেলার হারবাইন এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে এবং নিহত জাহাঙ্গীর পাবনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। এজাহারে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী চরিত্রের একটি গোষ্ঠী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলা চালায়; ব্যবহৃত হয় আগ্নেয়াস্ত্র, হকিস্টিক, চাইনিজ কুড়াল, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, ককটেল ও বোমা। জাহাঙ্গীর গুরুতর আহত হলে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে লুকিয়ে রাখে, পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে ২১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টায় তার মৃত্যু হয়।
তার সাবেক স্ত্রী ফাহিমা আক্তার জানান, ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর ছাত্রাবস্থায় তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি নিয়ে সংসার ও জহিরুলের পড়াশোনার খরচ বহন করেন। ২০০৩ সালে রাইফেলস স্কুলে শিক্ষকতার সময় জহিরুল এক ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তখন ফাহিমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ক্ষমা চাওয়ার পর আবার সংসার শুরু হয়। পরে জহিরুল ২৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশে যোগ দেন।
ফাহিমার দাবি, মাগুরা এসপি হওয়ার পর থেকেই জহিরুলের আচরণ বদলে যায় এবং নির্যাতন বাড়তে থাকে। এরপর পরকীয়ার অভিযোগ, গোপনে বাসা বদল, আরেক মহিলা রিয়া জোয়াদারকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সাথে অবৈধ মেলামেশা করেন। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। পরবর্তীতে তার অধীনস্থ ওসি জব্বারের স্ত্রী সোনিয়া ইভানার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডিআইজিদের উপস্থিতিতে জহিরুল ছোট ছেলের পড়াশোনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এপ্রিল থেকে তা বন্ধ করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য অতি: ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জহিরুল এক ভয়ংকর নারীখাদক:
মাগুরায় শ্রীপুরের এক এসআইয়ের বউয়ের দিকে নজর পড়ে তার। ওই এসআই রাজী না হয়,তাকে সাসপেন্ড করে জহিরুল ইসলাম। পরে ওই এস আইয়ের স্ত্রী এসপি জহিরুলের মাথে দেখা করে তার স্বামীর বরখাস্ত আদেশ বাতিল করার অনুরোধ জানালে জহিরুল ওই এসআইয়ের স্ত্রীর সাথে পশু সুলভ আচরণ করেন। বলেন- আমাকে তুমি দেহ দিয়ে খুশি করতে পারেলে তোসার স্বামীর বরখাস্ত আদেশ উইড্র করে দেব। এ কথা শুনে “তুই একটা কুত্তার বাচ্চা” এ কথা বলে গালি দিয়ে এসপির বাসভবন ত্যাগ করেন ওই এসআইয়ের স্ত্রী। একথা পরে তিনি মিডিয়ায় অডিও আকারে প্রকাশ করে দেন।
এ ছাড়া এসপি থাকাকালীন সময়ে ওসি জব্বারের বউকে ভাগিয়ে বিয়ে করা অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুল ইসলাম ছাত্র আন্দোলনে গুলির আসামী।
সম্প্রতি এক নারী পুলিশ সদস্যের সাথে এই জহিরের লুচুপানার ভিডিও ফাঁস হয়। চরম লুচু ও দুর্নীতিবাজ এই অতিরিক্ত ডিআইজির বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারির অভিযোগ ফাঁস হয়। তার আপত্তিকর ভিডিও মানুষের মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ তাকে সদর দপ্তরে ক্লোজ করা ছাড়া আর কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ বিভাগ। তাকে শুধু ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বদলি করা এনে রিজার্ভ করে রাখা হয়েছে আর বসিয়ে বসিয়ে জনগনের টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে।
সোনিয়া ওরফে ইভানা উপাখ্যান:
সোনিয়া ওরফে ইভানার আগের স্বামী ওসি জব্বার যখন চিটাগাং এর পটিয়া উপজেলায়় ছিলেন তখন সোনিয়া এক এএসপির সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ায়। আবার প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতে গিয়েও তার় বসের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জডায়় (মাগুরায় প্রচার আছে বিয়ে করে) এবং জব্বারকে ডিভোর্স দেয়। পরে বসকে ছেড়ে আবার ওসি জব্বারের কাছে ফিরে আসে। যদিও বার এট ল তে তার নাম নিবন্ধিত নাই তবুও নিজেকে একজন এডভোকেট, কখনো ব্যারিস্টার, কখনো সাংবাদিক পরিচয় দেয় এই সোনিয়া । আর এডিশনাল ডিআইজির স্ত্রী পরিচয়় দিয়ে সবকটি থানায় পাওয়ার খাটায়। থানার এসআই, এএসআই রা ভয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। জহির ছেলেদের কাছে সোনিয়াকে বিয়ের কথা প্রকাশ করে ১৮নভেম্বর১৯৯৯। তখন বলে বিয়ে করে ফেলেছে। জহিরের আপন একমাত্র ভাই সুমন,৪ নম্বর বোন আসমা আক্তার সাথী, বোন জামাই আলিফ ওদের কাছে সোনিয়াকে পরিচয় করিয়ে় দেয় অক্টোবর ২০২৪, তাদের ডিভোর্স কার্যকর হওয়ার আগেই। মামলায় তাদের বিয়ের তারিখ উল্লেখ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সোনিয়়ার আগের স্বামী জব্বারের নামে হেডকোয়ার্টারে সোনিয়ার করা অভিযোগ আজো রয়ে়ছে। শ্বশুরের বাড়ীর সবাইকে মামলার হুমকি দিতো ওর চাহিদা পূরণ না হলে। ও সি জব্বারও ভয়ে মুখ খুলতেন না।
পদন্নোতি কেলেংকারী:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি হওয়া সত্ত্বেও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এখন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে একজন নাগরিককে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তার নাম থাকলেও তিনি নির্ধারিত বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে পুলিশের উচ্চপদে পদোন্নতি পেয়েছেন।শুধু পেশাগত বিতর্ক নয়, ব্যক্তিজীবনেও রয়েছে নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগ। মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার থাকাকালীন তিনি অধীনস্থ এক ওসির স্ত্রীকে বিয়ে করেন। এর আগে তালাক দেন তার প্রথম স্ত্রী ফাহিমা আক্তারকে, তিনি দাবি করেছেন তালাকের পরও তাকে অমানসিক নির্যাতন করে চলেছেন জহিরুল।তিনি বলেন, ‘মাগুরা জেলার এসপি হওয়ার পর থেকেই ওর আচরণ পাল্টে যায়। আমার ওপর নির্যাতন বাড়ে। আমি নিজেই বলতাম, ‘তুমি চাও আমি ছেড়ে দেব, কিন্তু আর অত্যাচার করো না। পরবর্তীতে জানতে পারি, তার নানা অনৈতিক কর্মকান্ড চলছে। পরিবারের সবাইকে বললেও কেউ কিছু বলে না। এক পর্যায়ে সে ফিরে এসে সাহায্য চায়। আমি আবারও ভেবে নিই, হয়তো এবার ঠিক হবে।’
ফাহিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা নিউ মার্কেট অফিসার্স কোয়ার্টারে উঠি। কিন্তু আড়াই মাসের মাথায় সে আবার উত্তরায় বাসা নেয়। ঝগড়া করে আমার অনুপস্থিতিতে সব জিনিসপত্র নিয়ে যায়। ওর পরকীয়ার বিষয় জানিয়ে ইন্সপেক্টর জব্বারের স্ত্রী সোনিয়া ইভানা তার সঙ্গে দেখা করেন। তারা দুজনই এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে ছিল। সেই মহিলা রিয়া জোয়াদার, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে তখনকার আইজিপি বেনজীর আহমেদের হস্তক্ষেপে তাকে বদলি করা হয়। এরপর জানতে পারি, সে সোনিয়া ইভানাকেও বিয়ে করেছে। সোনিয়া ছিল ইন্সপেক্টর জব্বারের স্ত্রী। আমি কিছু বলিনি, শুধু চেয়েছি আমার সন্তানদের জন্য একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা হোক। জহির সোনিয়ার মাধ্যমে আমাকে হুমকি দিত। বলে, সোনিয়ার অনেক ক্ষমতা আছে। এক সময় আমাকে পুলিশি হয়রানির হুমকিও দেয়।’
ফাহিমা আক্তার আরও বলেন, ‘২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি আশরাফুর রহমান ও দুইজন অতিরিক্ত ডিআইজির উপস্থিতিতে সে মাসিক ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ছোট ছেলের পড়াশোনার জন্য। কিন্তু এপ্রিল থেকেই টাকা বন্ধ করে দেয়। আমি আইজিপির কাছে বিচার চেয়েছি। কিন্তু সে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। চাকরি থেকে বের করে দেওয়ারও ষড়যন্ত্র করেছে। থানায় জিডি করেছে, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।’
ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়ার ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।
কাউরেই ছাড়েন না অতিরিক্ত ডিআইজি জহির:
আপনারা জেনেছেনে,মাগুরায় এসপি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ওসির বউকে ভাগিয়ে বিয়ে করে ঘর সংসার করছে জহির। শুধু ওসির বউ না, পুলিশের নারী কনস্টেবল, এসআইয়ের বউ, এলাকার রাজনৈতিক নেত্রী,কেউ ছাড় পায় না। মাগুরায় শ্রীপুরের এক এসআইয়ের বউয়ের দিকে নজর পড়ে তার। ওই এসআই রাজী না হয়,তাকে সাসপেন্ড করে জহিরুল ইসলাম।
জহিরুলের বিরুদ্ধে অন্তত: ৯ জন নারী পুলিশ সদরদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে। ০৫ আগষ্ট ভাটারা থানার ছাত্র আন্দোলনে গুলির আসামী জহিরুল ইসলাম পরবর্তীতে পুলিশের বড় কর্তাদেরকে ম্যানেজ করেছে। গ্রেফতারতো হয়নি। বরং তার বিরুদ্ধে একাধিক নারীর অভিযোগে যে তদন্ত চলছে,সেই তদন্তও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন জহির।
কেন তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে না?
বাংলাদেশ পুলশ এমনিতেই ভাবমূর্তি সংকটে রয়েছে। বর্তমান সরকার আমলে সেটি ধিরে ধিরে ইমপ্রুভ হচ্ছে। দুর্নীতিবাজ,দলবাজ ও নৈতিক চরিত্রহীন পুলিশ কর্তা ও সদস্যদের বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠিয়ে পুলিশ বাহিনীকে একটি ক্লিন ইমেজে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। অথচ: অতিরিক্ত ডিআইজি মো: জহিরুল ইসলামের মত একটা ঘুসখোর,নারীখাদক, নারী নির্যাতক, নৈতিক চরিত্রহীন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামীকে কেন বাধ্যতামুলক অবসরে না পাঠিয়ে এক বছর দরে তার বিভাগীয় মামলাগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সেটাই কারো বোধগম্য নয়। জনতার প্রশ্ন এভাবে কি পুলিশ বাহিনীর সংস্কার করা যাবে?
ভুক্তভোগিরা এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট মন্ত্রী ও আইজিপির দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















